অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

আল-আনসারের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

Print

স্টাফ রিপোর্টার: ‘আল আনসার’ নামে নতুন একটি জঙ্গি সংগঠনের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে র‌্যাব। ঢাকার হাজারীবাগ এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো রাশিদুল আলম ওরফে বাবু (২৫), মো. আবু বক্কর মনির (২৩), মো. আবদুল্লাহ আল মামুন মিয়া (২৬), রাইসুল ইসলাম রাসেল (২৫) ও মো. আবদুল মালেক (৩৫)। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই, ল্যাপটপ ও ইলেকট্রিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। গতকাল বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের র‌্যাব-২ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, বিকাল ৩টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগের রায়েরবাজারের শিকদার মেডিকেলের পিছনে আল জামিয়াতুল মদিনাতুল উলুম মাদরাসা ও এতিমখানার দক্ষিণ পাশের জসিম উদ্দিনের বাড়ি থেকে ওই পাঁচ জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন জেহাদি বই এবং কম্পিউটার ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়। র‌্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানের কারণে হরকাতুল জিহাদ আল বাংলাদেশ (হুজিবি) সংগঠনটি বর্তমানে নিষ্ক্রিয় আছে। ওই সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যর্থ হয়ে আবার সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছিল। তিনি আরো জানান, ২ বছর আগে তারা আল আনসার নামে নতুন জঙ্গি সংগঠন করেছিল। তারা নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো বলে জানতে পারে র‌্যাবের সদস্যরা। পরে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। নতুন সংগঠনটির সমন্বয়কারী ছিল রাশিদুল আলম ওরফে বাবু। আল-আনসারের সমন্বয়কারী হাফেজ মাওলানা মো. রাশেদুল আলমের প্রায় ২ বছর পূর্বে ফরিদাবাদ মাদরাসায় পড়ার সময় ওয়ালিদ হামজা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয়। ওয়ালিদ হামজা ৭-৮ মাস আগে হোসনাইন নামের আরেকজন সদস্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। হোসনাইন ২০১৬ সালের প্রথমদিকে নিজের নামে হাজারীবাগে বাসাটি ভাড়া নেয়।
তিনি আরো জানান, পরবর্তীতে হোসনাইন চলে যাওয়ার পরে রাশিদুল আলমকে ওই বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে রেখে যায়। এর কিছুদিন পর আবদুল্লাহ আল মামুন বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে হাজির হয়। হোসাইন নিজেকে তাদের কাছে প্রকাশক হিসেবে পরিচয় দেয় এবং জঙ্গিবাদে উস্কানিমূলক বেশ কিছু আরবি বই ও ভিডিও লেকচার তাদের দিয়ে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বঙ্গানুবাদ করার জন্য দেয়। মূলত সংগঠনটি হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ (হুজিবি)-এর থেকে বের হয়ে আসা কিছু সদস্য কর্তৃক গঠিত নতুন একটি সংগঠন। তারা কেউ কেউ ছদ্মবেশে রিকশা ও প্রাইভেটকার চালায়, কেউ জিহাদের উদ্দেশ্যে দাওয়াতি কাজ করে, কেউ জিহাদি বই অনুবাদ করে, কেউবা কম্পিউটারে টাইপিংয়ের কাজ করে থাকতো। হুজির আগের নেতাদের সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিদের কোনো যোগাযোগ আছে কিনা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-২ কমান্ডেন্ট অফিসার লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: