অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৬ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

ইতালিতে ভূমিকম্পে নিহত ১৫৯

Print

অনলাইন ডেস্ক: শক্তিশালী ভূমিকম্পে ইতালিতে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ১৫৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন কয়েকশ’ মানুষ। ধসে পড়েছে অনেক ভবন। এর নিচে এখনও আটকা পড়ে আছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। স্থানীয় সময় রাত ৩টা ৩৬ মিনিটে ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে ইতালির রাজধানী রোমের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পেরুজিয়া শহরের কাছাকাছি অবস্থানে। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের নিকটবর্তী অ্যাকুমোলি এলাকায় প্রচুর হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। শহরটির রাস্তায় রাস্তায় ধ্বংসাবশেষ। কাছাকাছি অ্যামাট্রিস শহরের তিন-চতুর্থাংশ ঘরবাড়িই ধ্বংস হয়ে গেছে। কয়েকদিন, এমন কি কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত আফটারশক অনুভূত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি ভূমিকম্পে শোক জানিয়েছেন। একইসঙ্গে গভীর রাতেও উদ্ধার তৎপরতায় যেসব বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবী ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনগুলোর নিচে আটকে রয়েছেন অনেক মানুষ। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অনলাইন বিবিসি ও সিএনএন। খবরে বলা হয়, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। ফলে রিখটার স্কেলে এর মাত্র ৬.২ হলেও এর তীব্রতা প্রচÐভাবে অনুভূত হয়। এই ভূমিকম্পকে তুলনা করা হচ্ছে ২০০৯ সালের অ্যাকুইলা ভূমিকম্পের সঙ্গে। ৬.৩ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে তিন শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়। এবারের ভূমিকম্প স্থায়ী হয় প্রায় ২০ সেকেন্ড। সীমান্তবর্তী আমব্রিয়া, লাজিও ও লে মারচে অঞ্চলে তীব্রভাবে অনুভূত হয় ভূকম্পন। ইতালির উত্তরের শহর বোলোগনা থেকে শুরু করে দক্ষিণের নেপলস পর্যন্ত ভূমিকম্প টের পাওয়া যায়। মধ্যরাতের ভূমিকম্পের পর প্রায় ৮০টি আফটারশক আঘাত হানে ইতালিতে। তাতে একের পর এক ভবন ধসে পড়তে থাকে। ইতালির সিভিল প্রটেকশন এজেন্সি এ ভূমিকম্পকে ভয়াবহ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। প্রথমে বলা হয়েছিল এ ভূমিকম্পের মাত্রা ৬.৪। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অ্যান্দ্রিয়া টেরটুলিয়ানি বলেন, ভূমিকম্পের পরে বেশকিছু আফটারশক আঘাত করে, যা মূল কম্পনের তীব্রতাকে প্রশমিত করেছে। তবে মূল ভূমিকম্পের সমান মাত্রার আরো কম্পনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেননি তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে ভূমিকম্প পূর্বাভাষ বিষয়ক সংস্থা ইউএসজিএস-ও বলেছে, তাদের ধারণা এ ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হবে।
এখনও ধসে যাওয়া ভবনের নিচে প্রচুর মানুষ আটকা পড়ে রয়েছেন। উদ্ধার তৎপরতা চালু থাকলেও উদ্ধারকাজ শেষ হতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। তারা আশঙ্কা করছেন, নিহতের সংখ্যা আরো অনেক বাড়তে পারে। অ্যামাট্রিস শহরে ৩৫ জন, অ্যাকুমোলি শহরে ১১ জন এবং আরকুয়াটা ডেল ট্রোনটো ও পেসকারা ডেল ট্রোনটো শহরে আরো ১৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরকুয়াটা ডেল ট্রোনটো শহরের মেয়র আলিয়ান্দ্রো পেট্রুসি এই ভূমিকম্পকে বিপর্যয় অভিহিত করে বলেন, ‘এই গ্রামের আর কোনো অস্তিত্ব নেই। গ্রামের প্রায় সব বাড়ি ধসে পড়েছে।’ অ্যামিট্রিস শহরেরও একই অবস্থা। শহরের মেয়র সার্জিও পিরোজ্জি বলেন, ‘শহরে আসা-যাওয়ার সব রাস্তা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শহরের অর্ধেকই ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্ত‚পের নিচে আটকা পড়ে রয়েছেন প্রচুর মানুষ। ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে এবং শহরের একটি সেতু ধসে পড়তে পারে।’ এমনকি আহতদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় শহরের হাসপাতালে মানুষের ঠাঁই হচ্ছে না। তাদের নিতে হচ্ছে আশেপাশের শহরগুলোর হাসপাতালে। আকুমোলির মেয়র স্টেফানো পেট্রুসি ভূমিকম্পপরবর্তী পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, রাতে ভূমিকম্প হয়েছে। দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে সব পরিষ্কার হয়ে গেছে। চারদিকে শুধু ধ্বংসাবশেষ। আমরা যেমনটা আশঙ্কা করেছিলাম তার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি। এখানে ওখানে ধসে পড়ে আছে ভবন। ধ্বংসস্ত‚পের নিচে আটকরা পড়ে আছে মানুষ। কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব নেই। যা কিছু ভবন দাঁড়িয়ে আছে তাতে বিশাল বড় ফাটল। এর মাঝেই বারবার উচ্চ মাত্রায় কম্পন অনুভূত হচ্ছে। আমব্রিয়ার সিসিলির অধিবাসী লিনা মারকানটিনি বলেছেন, এ ভূমিকম্প ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। আমি তখন বিছানায় ঘুমে। অকস্মাৎ মনে হলো আমার বিছানা ঘরজুড়ে নড়াচড়া করছে। সঙ্গে সঙ্গে রাতের অন্ধকারে মানুষজন বেরিয়ে আসে রাস্তায়।
প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও রেনজি বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে উদ্ধারকাজ। তিনি বলেন, ‘উদ্ধার তৎপরতা থেকে কোনো পরিবার, কোনো শহর বা কোনো গ্রাম বাদ পড়বে না।’ ইতালিতে অবস্থানরত জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদে এই ভূমিকম্পের ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন। যেকোনো ধরনের সহায়তা করতে তারা প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন। পোপ ফ্রান্সিসও এই বিপর্যয়ে শোকাহত বলে জানিয়েছেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: