অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী

একনেকে ৭ প্রকল্প অনুমোদন

Print

দৈনিক চিত্র রিপোর্ট: মহিলা কারারক্ষীদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্পসহ ১ হাজার ৪৮৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার ৭টি প্রকল্পের চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৪৩০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। গতকাল রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সাম্প্রতিককালে কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে মহিলা ওয়ার্ডারদের আবাসন, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। এছাড়া প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কারা অধিদপ্তরের দক্ষতাও বাড়ানো দরকার। এজন্য কারারক্ষীদের আবাসন সুবিধা সৃষ্টিতে এই প্রকল্প নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় ১৪ জেলায় ১৪টি নতুন ভবন নির্মাণ ও ২৬ জেলায় বিদ্যমান আবাসিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সমপ্রসারণ করা হবে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯৩ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই, ২০১৬ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত। অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো, ৩৮৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে জামালপুর ও শেরপুর জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, ২৯৩ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকা মহানগরীতে ১১টি মাধ্যমিক এবং ৬টি মহাবিদ্যালয় (সরকারি) স্থাপন প্রকল্প, ১৫৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প, ১২০ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প, ২৪৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, চাঁদপুর, সিরাজগঞ্জ ও বাগেরহাট জেলায় ৫টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন প্রকল্প এবং ১৯১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন রাস্তা, ড্রেন নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ এবং বৃক্ষরোপণ প্রকল্প।
অর্থ ছাড় ও প্রতিশ্রæতি আদায়ে রেকর্ড: গত অর্থবছরে দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে বৈদেশিক সহায়তার ছাড় ও প্রতিশ্রæতি আদায়ে রেকর্ড হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় সাত বিলিয়ন (৬৯৯ কোটি ৭০ লাখ) ডলারের প্রতিশ্রুতি এসেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বেশি। এর আগের অর্থবছরে (২০১৪-২০১৫) ৫২৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের প্রতিশ্রæতি এসেছিল। একই অর্থবছরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) মোট ৩৪৪ কোটি ৯৯ লাখ বৈদেশিক সহায়তা ছাড় করে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৪০ কোটি ডলার বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অর্থ ছাড়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, আর এর আগের বছরে অর্থ ছাড় হয়েছিল ৩০৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ইআরডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানিয়েছেন। অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, একসঙ্গে অনেক মেগা প্রকল্প সমান্তরালভাবে বাস্তবায়নের ফলে বেশি অর্থ খরচ করছে। ফলে বৈদেশিক অর্থ ছাড়ের রেকর্ড হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে বলেও তার অভিমত।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: