অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৪শে জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী

ওপেনিংয়েই থিতু হতে চান সৌম্য

Print

স্পোর্টস রিপোর্টার: বাংলাদেশের তরুণ ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকারের অপার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। এই তরুণ ওয়ানডেতে নিজের সম্ভাবনার কথা প্রমাণও করেছেন। কিন্তু ১৯ টি-টোয়েন্টি ও ৩ টেস্টে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। ২০১৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডেতে ৮৮* ও ৯০ রানের ইনিংসের পর তার ওয়ানডে খেলা হয়নি। তবে টানা খেলেছেন অনেক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। কিন্তু সেখানেও দেখা গেছে আত্মবিশ্বাস হারানো ব্যাটিং। অনেক ম্যাচেই দারুণ শুরুর পর হারিয়েছেন ছন্দ। ইনিংস বড় করার পথে আউট হয়েছেন অহেতুক। ব্যর্থতার কারণে পরিবর্তন হয়েছে ব্যাটিং পজিশনেও। ঘরোয়া ক্রিকেটেও সেই আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার হয়নি। কী কারণে তিনি হারাচ্ছেন আত্মবিশ্বাস? নিজেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন। কাজ করছেন দুর্বলতাগুলো নিয়েও। ইংল্যান্ড সিরিজ সামনে রেখে চলা কন্ডিশনিং ক্যাম্পের ফাঁকে তিনি বলেন, ‘এটি সত্যি যে আমি ভালো শুরুর পরও ইনিংস বড় করতে পারছি না। প্রত্যেক ক্রিকেটারই চায় তার ইনিংসটি যেন বড় হয়, দলের জন্য ভূমিকা রাখে। এ জন্য আমার ব্যাটিং পজিশনও পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু আমি চাই একই পজিশনে খেলে নিজের আত্মবিশ্বাসটাও যেন ফিরে আসে। বারবার ব্যাটিং পজিশনে পরিবর্তন হলে মানসিকতারও পরিবর্তন করতে হয়। তবে এটি সত্যি যে দলের প্রয়োজনে আমি সব জায়গাতেই খেলতে প্রস্তুত। তবে নিজেকে ওপেনিংয়ে প্রমাণ করতে চাই।’
দেশের সেরা ওপেনার তামিম ইকবালও নিজের পার্টনার হিসেবে তরুণ ওপেনারদের সুযোগ দেয়ায় বিশ্বাস করেন। তামিম ইকবালের মন্তব্য নিয়ে সৌম্য বলেন, ‘তামিম ভাই ঠিকই বলেছেন। তিনি দশ বছর ধরে দলে খেলছেন। অনেক সুযোগ পেয়েছেন নিজেকে পরিপক্ব করার। আমাদের খারাপ সময় যাবে। তবে সুযোগ দিলে অবশ্যই খারাপ সময় থেকে বের হতে পারবো।’ সৌম্য সরকার ১৬ ওয়ানডেতে হাঁকিয়েছেন ৪ ফিফটি, একটি সেঞ্চুরি। এর মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ১২৭ ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অপরাজিত ৮৮ ও ৯০ রানের ইনিংস খেলেন ওপেন করতে নেমে। ছয় বার ৩ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে একবার ফিফটি হাঁকান। এ ছাড়া তিন টেস্টে চার ইনিংসে ব্যাট করেছেন ৭ নম্বর পজিশনে। শুধু একটিতে করেন ছয়। সেখানেও তার পাঁচ ইনিংসে ১০৭ রান। মূলত টেস্টে নতুন এই পজিশনে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার সুযোগই হয়নি তার। তবে ১৯ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মধ্যে ১৭ বারই তিনি ওপেন করতে নেমেছেন। কিন্তু একবারও ফিফটির মুখ দেখেননি। এই বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যর্থ সৌম্যকে ৭ ও ৫ নম্বরে নামিয়েও কোনো ফল পায়নি দল। তবে ওপেন করতে নেমে সর্বোচ্চ ৪৮, ৪৩ ও ৩৭ রানের তিনটি ইনিংস আছে উল্লেখ করার মতো।
অন্যদিকে অধিক টি-টোয়েন্টি খেলাতেই নিজের ছন্দ হারিয়েছে বলে মনে করেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ এটা অবশ্যই। টি-টোয়েন্টি অনেক দিন খেলেছি। চেষ্টা করছি এই ম্যাচটা নিজের মধ্যে নিতে। কিন্তু আমি নিতে পারেনি। ভুলের সংখ্যাটা বেশি ছিল। এরপর আবার প্রিমিয়ার লীগ শুরু হলো। এটা নতুন ফরম্যাট। যদিও ওয়ানডে আমার প্রিয় ফরম্যাট। তার পরও টি-টোয়েন্টির কারণে আমার ছন্দটা হারিয়ে ফেলেছিলাম।’ তবে ছন্দ ফিরে পেতে ঢাকা লীগে ধীরগতিতে ব্যাটিং করেছেন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান। সেটাও কাজে আসেনি। তাই ফিরে গেছেন আগের চেনা চেহারায়। এ নিয়ে বলছেন, ‘ছন্দটা ফেরানোর জন্য প্রিমিয়ার লীগে সেøা খেলেছি। পরে আমি চিন্তা করে দেখেছি আমার নিজের যেটা ছিল সেটাই সেরা। পরে সেখানে ফেরার চেষ্টা করেছি। লীগের শেষ দিকে ভালো খেলেছি।’
এছাড়াও দেশের মাটিতে আসন্ন ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য নিজে প্রস্তুত করছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বাইরে খেলতে গেলে পরিবেশ নিয়েই ভাবলে চলবে না। আমরা যেমন দেশে খেলি সেভাবেই খেলতে হবে। আমাদের চিন্তা করতে হবে যেন দেশেই খেলছি। আগামী বছর ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলা রয়েছে বাংলাদেশের। পেস সহায়ক উইকেটে খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন সৌম্য। তিনি বলেন, ‘বোলাররা তো অবশ্যই সুযোগ নেবেন। ব্যাটসম্যানদেরও সুইং দেখে, বুঝে-শুনে খেলতে হবে। বোলিং মেশিনে সুইং বাড়িয়ে নিয়ে খেলার সুযোগ রয়েছে আমাদের। তবে আমার মনে হয়, সুইং বোলিং খেলতে মানসিক প্রস্তুতিটা বেশি জরুরি।’ সৌম্য বলেন, ‘ওখানে তো সব বাউন্সি উইকেট পাবো। ওদের ওখানে সুইং অনেক বেশি হবে। সেভাবে চিন্তা করেই প্রস্তুত হতে হবে। আমার মনে হয়, সুইং বল নিয়ে অনুশীলন করে গেলে আমরা ভালো করতে পারবো।’




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: