অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

কদর বাড়ছে সন্ত্রাসীদের: একটি অস্ত্র ভাড়া নিলে দুটি গুলি ফ্রি

Print

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় নির্বাচনের প্রায় ১০ মাস বাকি। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল চাইবে মাঠ গরম রাখতে। ইতোমধ্যেই নির্বাচনমুখী দলগুলো সরকারকে ব্যস্ত রাখা ও দল চাঙা রাখতে আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে। সেকারণে শক্তি প্রদর্শনে দরকার সন্ত্রাসীদের। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে ইতোমধ্যেই ভয়ঙ্করসব সন্ত্রাসীরা কে কোথায় আছে খোঁজ নেয়া শুরু হয়েছে। অনেকে জেলে থাকা সন্ত্রাসীদেরও পাশে থাকার প্রতিশ্রæতি দিয়েছেন। খোঁজখবর নিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পর্কেও। প্রতিশ্রæতি দিচ্ছেন নির্বাচনের আগেই জামিনের ব্যবস্থা করার। জামিনের নিশ্চয়তা পেয়ে কোনো কোনো সন্ত্রাসী পছন্দের সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে অনুসারীদের নির্দেশ দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজনৈতিক শেল্টার আর শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আশীর্বাদে পাড়া-মহল্লায় গড়ে উঠেছে অনেক উঠতি সন্ত্রাসী গ্রুপ। এসব নতুন সন্ত্রাসীর অধিকাংশই নাম না জানা মাস্তান। এরাই নিয়ন্ত্রণ করছে বিভিন্ন এলাকা।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র মতে, গত জানুয়ারি মাসে সারাদেশে ২৯১টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ঢাকাতেই খুন হয়েছেন ১৩ জন। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসীর বেশিরভাগই কারাগারে। যারা জামিনে রয়েছে তারা নিস্ক্রিয়। কেউ কেউ দেশের বাইরে। কেউ বা ভিন্ন এলাকায় গিয়ে বসবাস করছে। তবে এলাকায় এখন যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে তারা অনেকটাই নতুন মুখ।
এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা, টেন্ডার ও চাঁদাবাজি করাই এদের কাজ। এদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষজন। যে গ্রুপ যতো ভয়ঙ্কর সেই গ্রিপেই রয়েছে অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। ছিনতাই থেকে শুরু করে কিলিং মিশনেও অংশ নেয় এরা। উঠতি সন্ত্রাসীরা ব্যবহার হচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের হাতিয়ার কিংবা ক্যারিয়ার হিসেবে।
বিশেষজ্ঞমহল বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সন্ত্রাসীরা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় অবস্থান নিচ্ছে।
নির্বাচনকে ঘিরে আগ্নেয়াস্ত্রও কেনাবেচা শুরু করেছে সন্ত্রাসীরা। শুধু তা-ই নয়, অপরাধ সংঘটনের জন্য অস্ত্র ভাড়া দেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি গ্রেপ্তারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রেতা র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছে। তিনি জানান, একটি অস্ত্র ভাড়া নিলে দুটি গুলি ফ্রি।
গত রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ১১ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এদের মধ্যে তিনজন অস্ত্র ব্যবসায়ী। এরা হলোÑ রুবেল হোসেন, সোহাগ আলী ও মো. সোহাগ। তাদের কাছ থেকে ৭.৬৫ বোরের একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ১৮৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা বয়সে সকলেই তরুণ।
র‌্যাব ২-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ফিরোজ কাওছার বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার পাশাপাশি ডাকাতি ও চাঁদাবাজি করে আসছিল। তারা সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের সক্রিয় সদস্য। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অস্ত্র ও গোলাবারুদের ব্যবসা করতো। এরা দেশ ও দেশের বাইরের উৎস থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করে। একই দিনে মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের ৮ সদস্যকেও গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। এর আগে গত মাসে নোয়াখালীর মাইজদীতে কাটা রাইফেল ও একটি পিস্তল, ৫টি চাইনিজ কুড়ালসহ সাত যুবককে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
সূত্র মতে, দেশের বাইরে ও কারাগারে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা উঠতি বয়সি অপরাধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে। আর এরা এসব অস্ত্র পেয়ে নিরাপদে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ছিনতাইয়ের শিকার একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, যারা তাদের টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নিয়েছে তাদের বেশিরভাগই তরুণ।
এলাকাসূত্রে জানা যায়, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নামে গ্রæপভিত্তিক অপরাধ করছে সন্ত্রাসীরা। গেন্ডারিয়া ও কদমতলী এলাকায় বিতর্কিত ব্যক্তি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নাম ব্যবহার করে পোস্টারে ছেয়ে ফেলেছে পুরো এলাকা।
কদমতলী থানার শনিরআখড়া, কমিশনার রোড, কালামিয়া সরদার রোড, ইটালী মার্কেট, মোহাম্মদবাগ, ওয়াসা পুকুর এলাকার মানুষ বিল্লাল ডাকাত বাহিনীর কাছে জিম্মি। মহাখালী, দক্ষিণপাড়া, সাততলা বস্তি, কড়াইল বস্তি ও আশপাশ এলাকায় শতাধিক কিশোর অপরাধীর দৌরাত্ম্যে বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। শাহজাহানপুর রেলগেট এলাকায় রয়েছে অর্ধ শতাধিক কিশোর অপরাধীর দৌরাত্ম্য। মোহাম্মদপুরের শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী কারাগারে থাকলেও তাদের বাহিনীর সদস্যরা মোহাম্মদপুর, আদাবর ও ধানমন্ডি এলাকার সন্ত্রাসী কর্মকণ্ডি নিয়ন্ত্রণ করছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেলের ডিসি মাসুদুর রহমান বলেছেন, যারা অপরাধের সাথে জড়িত তারা সবাই নজরদারির মধ্যে আছে। এদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়েছে বলে তিনি জানান।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: