অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

‘কারো মুখাপেক্ষি হয়ে থাকবে না বাংলাদেশ’

Print

অনলাইন ডেস্ক: ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসসহ দেশের ৯টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভবনগুলোর উদ্বোধন করার পর বক্তব্য রাখেন তিনি। এ সময় দ্রুততার সঙ্গে এক কোটি ৪০ লাখ মেশিন রিড্যাবল পাসপোর্ট তৈরি করতে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন সে জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশের উন্নয়নের খবর সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার ও প্রকাশ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমগুলো হতাশাই বেশি প্রকাশ করে। কিন্তু যখন হতাশা কাটিয়ে উঠে, সরকার উন্নয়ন নিশ্চিত করে, দেশ এগিয়ে যায়- তখন সে খবরের গুরুত্ব কম থাকে। এমনটা হতে পারে না।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরে রোববার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে দেওয়া বক্তৃতায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের এই অর্জন নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে খবর তেমন দেখছি না। তবে যখন আন্তর্জাতিকভাবে মেশিন রিড্যাবল পাসপোর্ট (এমআরপি) বাধ্যতামূলক করা হলো তখন সংবাদমাধ্যমগুলো কেবলই হতাশার খবর দিয়েছে, বলেছে এই সময়ের মধ্যে তা সম্ভব হবে না। কিন্তু যখন করে দেখানো হলো, তখন আর সংবাদমাধ্যমগুলো তা নিয়ে কথা বলছে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামান্য খুঁত দেখলেই তা বড় করে প্রকাশ ও প্রচার করা হয়, কিন্তু ভালো কিছু হলে তা ভুলে যায় সংবাদমাধ্যমগুলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে সংবাদমাধ্যমের বিকাশের জন্য টেলিভিশন রেডিওর লাইসেন্স তার সরকার দিয়েছে, কিন্তু সেগুলোতে টক শো করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এসব টক শোতে সরকারের সমালোচনাই বেশি হয়। সরকার ভালো কাজ করলে তারা দেখতে পায় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৬৯ সালে যখন আমি দেশের বাইরে যাই, করাচি থেকে পাসপোর্ট এবং ভিসা করতে হত। আমরা তখন কতটা অবহেলিত ছিলাম এ যুগের কেউ তা কল্পনাও করতে পারবে না। পরবর্তীতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়। তিনি স্বাধীনতা না এনে দিলে হয়তো নিজের দেশের পাসপোর্টের স্বপ্ন পূরণ হত না। জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সেই পাসপোর্ট সেবাকে আজ আরো বাড়ানো হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, অতি অল্প সময়ে ১ কোটি ৪০ লাখ মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ও ৩ লাখ মেশিন রিডেবল ভিসা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর একটি নজির স্থাপন করেছে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রবাসী শ্রমিকদের পাসপোর্ট ব্যর্থ হবে বলে পত্র-পত্রিকায় অনেক হতাশাজনক সংবাদ ছাপানো প্রচার হয়েছিল। এখন আমরা সফল হয়েছি। কোন মিডিয়া এই সফলতা তুলে ধরেনি।
তিনি বলেন, কারো মুখাপেক্ষি হয়ে বাংলাদেশ থাকবে না। নিজেরাই নিজেদের উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।

কেন পারবো না? সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা জাতি, আমরা পারবো। আর জাতির পিতা আমাদের শিখিয়ে গেছেন, আমরা কারো কাছে মাথানত করে থাকবো না।

পাসপোর্ট তৈরি কাজে দুর্নীতি যাতে স্থান না পায় সে আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: