অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১১ই সফর, ১৪৪৩ হিজরী

কূটনীতিক বহিষ্কার: সংকটে রাশিয়া-পশ্চিমা বিশ্ব সম্পর্ক

Print

বিশেষ প্রতিনিধি : গত সপ্তাহেই ফোনালাপ হয়েছিল ট্রাম্প-পুতিনের। রুশ গুপ্তচর হত্যা চেষ্টা নিয়ে তখন তোলপাড় চললেও পুতিনকে ফোন করে এ নিয়ে একটি কথাও বলেননি ট্রাম্প। অথচ উপদেষ্টাদের নিষেধ না শুনে ঠিকই পুতিনকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুননির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। অথচ যুক্তরাজ্যের ঘটনার জন্য যুক্তরাজ্যে যেখানে ২৩ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করল, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র করল ৬০ জনকে। এর জবাবে রাশিয়া ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনায় ২৩ ব্রিটিশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। আর গত সোমবারের ঘোষণাকে ‘উস্কানিমূলক আচরণ’ উল্লেখ করে এর জবাব দেয়ার অঙ্গীকারও করেছে দেশটি। এতে রাশিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক বড় সংকটে পড়ল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এগিয়ে নিয়ে যান প্রধানত কূটনীতিকরা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো চলছিল। কিন্তু যুক্তরাজ্যে রুশ সাবেক গুপ্তচর ও তার মেয়েকে বিষাক্ত গ্যাস প্রয়োগে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে সেই সম্পর্ক। এই ঘটনায় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একতা প্রকাশ করে এবার একে একে ২০টিরও বেশি দেশ থেকে শতাধিক রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে। তাদের একটাই কথা আরেক দেশের মধ্যে ঢুকে এ ধরনের কাজ করা মারাত্মক আন্তর্জাতিক অপরাধ। এর সাজা রাশিয়াকে পেতেই হবে। কর্নেল সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে বিষাক্ত নার্ভ এজেন্ট দিয়ে হত্যা চেষ্টা যে রাশিয়ার কাজ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি, ব্রিটেনের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো এটা স্পষ্টভাবেই বিশ্বাস করে নিয়েছে। তাই রাশিয়া যা-ই বলুক, যতই অস্বীকার আর প্রতিবাদ করুক, সেটা মানতে রাজি না তারা।
ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেন, স্যালিসবারি বিষপ্রয়োগ ইস্যুতে গত সপ্তাহে আয়োজিত এক বৈঠকেই বিভিন্ন দেশে এক সঙ্গে রুশ কূটনীতিকদের বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-ভুক্ত দেশগুলো। ইইউ বর্তমান মতৈক্যের অধীনে ভবিষ্যতে আরও বেশকিছু বহিষ্কারের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও জানান টাস্ক। বলেন, আরও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে এ ব্যাপারে, যা পরে বাস্তবায়িত হতে পারে। এদিকে ট্রাম্প-পুতিনের উষ্ণ সম্পর্ক সবরাই জানা। ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বানানোর পেছনে রাশিয়ার ভূমিকা ছিল এমন অভিযোগ থেকে তদন্তও চলছে।
অথচ যুক্তরাজ্যে ঘটা ঘটনার জন্য যুক্তরাজ্য যেখানে ২৩ জন রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করল, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র করল ৬০ জনকে। ৬০ কূটনীতিককে বহিষ্কারের সময় মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র যুক্তরাজ্যের ওপর এই হামলা অসংখ্য নির্দোষ মানুষের জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছিল। একে আন্তর্জাতিক আইনের ভয়াবহ লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। কাজেই যুক্তরাষ্ট্রের কোমল সুর এক সপ্তাহের মাথায় হঠাৎ বজ্রকঠিন হয়ে যাওয়াই প্রমাণ করে, রাশিয়ার কর্মকাÐ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায়ই পড়ে গেছে দেশটি। আর সিয়াটলে রুশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেয়া নির্দেশ করে গুপ্তচরবৃত্তি আর সাইবার-হামলার মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে আমেরিকার আশঙ্কার বিষয়টি। কারণ এই শহরের খুব কাছেই মার্কিন সাবমেরিন ঘাঁটি আর আর এরোস্পেস ফার্ম বোয়িং-এর কার্যালয়। কূটনীতিকদের বহিস্কারের বিষয়টি সহজভাবে নেয়নি রাশিয়া। তবে ভবিষ্যতে আরও কঠোর বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে কথাটি বলে পুতিনকে স্পষ্টভাবে সাবধানই করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যেন রাশিয়া তার জবাব ঠিক করার আগে পরিণতি হিসেবে ভালোভাবে ভেবে নেয়।
প্রসঙ্গত, রাশিয়ান গুপ্তচর ও তার মেয়েকে যুক্তরাজ্যের স্যালিসবেরিতে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে ৬০ রাশিয়া কূটনীতিককে বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই ঘটনার জের ধরে জার্মানি ও ফ্রান্স তাদের দেশ থেকে চারজন করে কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। এছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোও একই পথ অনুসরণ করছে। বহিষ্কার হওয়া ৬০ কূটনীতিকের মধ্যে ওয়াশিংটনের রাশিয়ান দূতাবাস থেকে ৪৮ জন ও বাকিদের নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ কার্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। এদিকে গত বছরে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালে রাশিয়ায় মার্কিন দূতাবাসে ১ হাজার ২৭৯ জন কাজ করতেন। তাঁদের মধ্যে ৯৩৪ জন স্থানীয়ভাবে নিয়োগ পান। কিন্তু রাশিয়ায় এত মার্কিন কূটনীতিক কেন? সংখ্যাটা চোখে লাগার মতো। ৭৫৫ জন মার্কিন কূটনীতিককে দেশ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় রাশিয়া। এই সংখ্যা বাদ দিলে আরও মার্কিন কূটনীতিক রাশিয়ায় থাকছেন। এখন প্রশ্ন হলো, রাশিয়ায় এত মার্কিন কূটনীতিক কেন, আর তাঁরা সেখানে করেন-ই বা কী? ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে রাশিয়ার মস্কোসহ দেশটির অন্যান্য শহরে কয়েক শ ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় তাঁর দেশ থেকে মার্কিন কূটনীতিকের সংখ্যা আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৭৫৫ জন কমাতে হবে। রাশিয়ায় মার্কিন কূটনীতিকদের সংখ্যাটা দেখে প্রথমে যে কারও তাজ্জব লাগতে পারে। মনে হতে পারে, সংখ্যাটা অনেক বেশি। কিন্তু যেসব কর্মকর্তা হোয়াইট হাউসে আছেন, আর রাশিয়ার সঙ্গে চ্যালেঞ্জিং সম্পর্ক নিয়ে কাজ করছেন, তাঁরা হয়তো বিষয়টি সহজভাবে নেবেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: