অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

কেন তিন নায়িকা আড়ালে

Print

বিনোদন ডেস্ক: রোজ রাতেই তারারা ফিরে আসে আকাশে। কোনো রাতে ধরা দেয় মানুষের দৃষ্টিসীমায়। কখনও আবার অদৃশ্য থেকেই মিলিয়ে যায় ভোরের স্বচ্ছ আলোয়। তারারা বুঝি এমনই? দেখা-অদেখার রহস্যের মধ্যে থাকতেই যেন তাদের ভালোলাগা। সেটি আকাশের তারার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য তেমনই মাটির তারার ক্ষেত্রেও। যদিও মাটির সব তারাদের ক্ষেত্রেই এই সূত্র প্রযোজ্য নয়। কিছু তারকা আকাশের তারার মতোই যেন আড়ালে থেকে মিটিমিটি জ্বলতে ভালোবাসেন।

সেসব তারার অন্যতম হচ্ছেন চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি এবং ঢালিউড পাড়ার সফল নায়িকা অপু বিশ্বাস। ঢাকাই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির স্বর্ণযুগের শেষ মুহূর্তের তারকাদের মধ্যে যে ক’জন নায়িকার নাম উঠে আসে তাদের মধ্যে অন্যতম আলোচিত নায়িকা হচ্ছেন পপি।

১৯৯৭ সালে মনতাজুর রহমান আকবরের ‘কুলি’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে পা রাখেন তিনি। নিজের অভিনীত প্রথম ছবি দিয়েই বাজিমাত করেন। সাবলীল অভিনয় আর নজরকাড়া সৌন্দর্য দিয়ে দর্শকদের হৃদয় জয় করেন প্রথম থেকেই। তারকা জীবনে ঘটন-অঘটন থাকলেও, কখনও পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এ নায়িকাকে। ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক হিট ছবি উপহার দিয়েছেন ঢালিউডের এ লাভার গার্ল। এই হিট ছবির তালিকায় রয়েছে মহম্মদ হান্নানের ‘বিদ্রোহ চারিদিকে’, কমল সরকারের ‘ক্ষ্যাপা বাসু’, বাবুল রেজার ‘ওদের ধর’, কালাম কায়সারের ‘কারাগার’, মাসুদ পারভেজ রুবেলের ‘বিষাক্ত চোখ’, বাদল খন্দকারের ‘প্রেম করেছি বেশ করেছি’ ও ‘বিদ্রোহী পদ্মা’, নারগিস আক্তারের ‘মেঘের কোলে রোদ’, চন্দন চৌধুরীর ‘কি জাদু করিলা’, ওয়াহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের ‘গঙ্গাযাত্রা’, জি সরকারের ‘গার্মেন্টস কন্যা’ এবং আবদুল্লাহ আল মামুনের ‘দুই বিয়ায়ের কীর্তি’ উল্লেখযোগ্য।

ছবির সংখ্যা খুব বেশি না হলেও সেরা অভিনেত্রী হিসেবে তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি। বছর কয়েক আগেও পপি মানেই ছিল সুপারহিট-বাম্পার হিট ছবি। যা এখন কেবলই অতীত।

দর্শকদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কোনো এক অদৃশ্য কারণে ক্যারিয়ারের মাঝপথেই আড়ালে থাকছেন এ নায়িকা। কাজে তো নেই, গণমাধ্যমের সামনেও আসতে সংকোচ দেখাচ্ছেন তিনি। কিন্তু কেন? এ প্রসঙ্গে পপির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নানা কারণেই ইন্ডাস্ট্রি থেকে দূরে সরে পড়েছি। তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিতে এখন পেশাদারিত্বের বড়ই অভাব। তাই আর আগের মতো কাজ করতে উৎসাহ পাই না। সিনেমা শিল্পকে ভালোবাসি বলে এখনও কিছু কাজ করে যাচ্ছি। তবে কাজের ক্ষেত্রে এখনও মানের বিষয়ে কোনো আপস নেই আমার মধ্যে।’

নিজেকে এভাবে প্রকাশ করলেও পপিকে রহস্য মানবী হিসেবেই দেখছেন তার ভক্তরা। তবে অভিযোগ রয়েছে, নিজের স্বভাবের জন্য পপি চলচ্চিত্র থেকে ছিটকে পড়েছেন। অনেকটা আত্মকেন্দ্রিক তিনি। চলচ্চিত্রের চেয়ে নিজের স্বার্থটাকেই বড় করে দেখেন। যদিও এসব অভিযোগের কোনটাই সত্যি নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

পপির হাতে বর্তমানে ছবির ব্যস্ততা না থাকার কারণে আড়াল হওয়ার বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করা গেলেও চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের ক্ষেত্রে কথাটি একেবারেই উল্টো। আড়াল হওয়ার আগ পর্যন্ত ঢাকাই ছবির সবচেয়ে ব্যস্ত নায়িকা ছিলেন তিনি। এখনও তার চুক্তিবদ্ধ হাফডজন ছবি হাতে রয়েছে বলেও জানা গেছে। এত ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও হঠাৎ করেই উধাও হয়ে গেছেন এ নায়িকা। প্রযোজক, পরিচালক ও সাংবাদিকের কেউ তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারছেন না।

অপু বিশ্বাসের হঠাৎ এ আড়ালে হারানোর কারণ হিসেবে অনেকেই বাংলা ছবির অন্যতম শীর্ষ নায়ক শাকিব খানকে দায়ী করছেন। এ বিষয়ে ছিনেমা পাড়ায় গুঞ্জনও বইছে অনেক। কিছুদিন আগে অজ্ঞাত এক ফোন থেকেও সাংবাদিককে জানানো হয়েছে কিছু তথ্য। তাতেও অপুর আড়ালে থাকার পিছনে শাকিবের সঙ্গে সম্পর্ক থাকাকেই শিউর করা হয়েছে। এছাড়াও শাকিব-অপুর সম্পর্ক নাকি বিয়ে পর্যন্ত গড়িয়েছিল বলেও কথা উঠেছে।

তবে আড়াল হওয়ার কারণ যাই হোক অপু ভক্তরা তা কোনভাবে চাননি। অবশ্য আড়ালে হারানোর ঘটনা এ নায়িকার জন্য এবারই প্রথম নয়। এর আগেও হারিয়েছিলেন তিনি। যদিও ফিরে এসে বলেছেন, নিজেকে দর্শকের সামনে নতুন রূপে উপস্থাপন করতেই প্রস্তুতির জন্য কিছুদিন আড়ালে গিয়েছিলেন। তাই এবার ভক্তরা তাকিয়ে আছেন অপুর দিকে। এবারও হয়তো এ নায়িকা নতুন লুক কিংবা নতুন কোনো টুইস্ট নিয়ে ফিরবেন। আর যদি শাকিবের সঙ্গে মান-অভিমানের পালা চলতে থাকে তাহলে অপুকে আর না দেখার সম্ভাবনাই প্রবল। কারণ অভিমানের বরফ গলার সময় এ নায়ক অন্য কারও দখলে চলে যাবেন।

অন্যদিকে খুব অল্প সময়েই ঢাকাই ছবির নায়িকা বনে গেছেন আঁচল। রূপের আলো দিয়ে দর্শকদের কাছে পৌঁছেও গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিধিবাম! অপু বিশ্বাসের পর আঁচলও ইন্ডাস্ট্রি থেকে আড়ালে আছেন। তবে অপু বিশ্বাসের মতো একেবারে অন্তরালে যাননি তিনি। এখনও কিছুটা প্রকাশ্যে আছেন। ফোন করলে ধরছেন। কথাও বলছেন পরিচিতজনদের সঙ্গে। তবে এই সময়ে যেখানে থাকার কথা তার কোথাও নেই এ নায়িকা। না শুটিংয়ে, না নতুন ছবি চুক্তির সংবাদে বা নতুন ছবি মুক্তির মিছিলে। এমনকি আলোচনা থেকেও হারিয়ে যাচ্ছেন ক্রমেই। মূলত তার আড়াল হওয়ার গল্পটি উপরের দুই নায়িকা থেকে একটু আলাদা।

হাতে ছবি না থাকাতেই আড়ালে আছেন তিনি। বেকার হয়ে পড়ায় কয়েকমাস আগে শহর ছেড়ে গ্রামের পথ ধরেছিলেন বলেও খবর প্রকাশ হয়েছিল। তবে আঁচল নতুন কিছুর অপেক্ষায় আছেন বলেই জানালেন।

হুট করেই আড়ালে-অন্তরালের পথ ধরলেন কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, কোথায় আড়ালে গেলাম। কাজ করলে আলোচনায় থাকা যায়। হাতে এখন কাজ নেই তাই আমি আলোচনায়ও নেই। যদি নতুন কাজ শুরু করি তখন আবার আলোচনা হবে।

নিজের আড়াল হওয়ার বিষয়টা আঁচল যেভাবেই ব্যাখ্যা করুক না কেন, তিনি যে এখন অভিনয়ে নেই এটি আসল কথা। ২০১১ সালে ‘ভুল’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা হিসেবে অভিষেক হয় তার। এরপর ‘বেইলি রোড’, ভালোবাসার রংধনু, জটিল প্রেম, প্রেম প্রেম পাগলামি, কী প্রেম দেখাইলা, ফাঁদ, আজব প্রেম, স্বপ্ন যে তুই এবং কিস্তিমাতের মতো ছবিগুলোতে অভিনয় করেন তিনি।

নায়িকাদের এ আড়ালে থাকার বিষয়টি নিজেকে হত্যার সঙ্গে তুলনা করেছেন ঢাকাই ছবি শীর্ষ খলনায়ক মিশা সওদাগর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সময় সবার এক রকম যায় না। জীবনে জোয়ার ভাটা আসবেই। অভিনয় শিল্পীদের হাতে কাজ থাকবে না আবার ভরপুর কাজ থাকবে এটাই তো স্বাভাবিক। এজন্য গর্তে মুখ লুকানোর কোনো মানে হয় না। এছাড়াও ব্যক্তিগত সম্পর্ক নির্মাণে ব্যর্থ হয়ে ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতি করে আড়াল হওয়াকেও চলচ্চিত্রের সঙ্গে দুশমনি বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি। এ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অভিনয় শিল্পীদের বেরিয়ে আসারও আহ্বান করেছেন তিনি। আড়ালে থাকা নায়িকাদের প্রকাশ্যে এসে তাদের সমস্যগুলো নিয়ে আলোচনা করার পথ তৈরির কথাও জানিয়েছেন মিশা সওদাগর। আসল কথা হচ্ছে, ‘যার বেদনা সেই বুঝে’। নায়িকারা কী কারণে আড়াল হয়ে আছেন। এটা একমাত্র তারাই জানেন। হয় তো কোনদিনই তা প্রকাশ্যে আসবে না!

দৈনিকচিত্র.কম/এম




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: