অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

কেরানীগঞ্জে নতুন ঠিকানায় কেন্দ্রীয় কারাগার

Print

দৈনিক চিত্র রিপোর্ট: নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর হলো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার। নাজিম উদ্দিন রোডের কারাগার থেকে ৬৪০০ বন্দিকে কেরানীগঞ্জে নবনির্মিত কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখন পুরনো কারাগারটি পার্ক আর জাদুঘরে রূপান্তরের অপেক্ষায়। নতুন কারাগারে বন্দি স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে দেশের কারা ইতিহাসে যুক্ত হলো নতুন এক অধ্যায়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এ কারাগার বন্দিদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভোরেই পুরনো কারাগারকে বিদায় জানিয়ে প্রিজন ভ্যানে চড়ে নতুন ঠিকানায় যাওয়া শুরু করেন বন্দিরা। দুদিনে সরানোর কথা থাকলেও প্রথমদিন সন্ধ্যার মধ্যে সব বন্দি স্থানান্তর সম্ভব হয়েছে। কেরানীগঞ্জে নতুন কারাগারে পৌঁছার পর ফুলের শুভেচ্ছায় নতুন ঠিকানায় বরণ করা হয় হাজতি ও কয়েদিদের। গত ১০ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার, কেরানীগঞ্জ’ উদ্বোধনের ৩ মাস ১৯ দিন পর গতকাল বন্দিদের সরিয়ে নেয়া হলো। এর মধ্য দিয়ে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার পতনের পর বৃটিশ আমলে ১৭৮৮ সালে ১৭ একর জায়গার ওপর স্থাপিত কারাগারটি ১৯৪ একরের বৃহৎ পরিসরে স্থানান্তর হলো।
গত বৃহস্পতিবার শেষরাত থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ঘিরে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্য ও টহল গাড়ি অবস্থান নেয়। বন্ধ করে দেয়া হয় নাজিম উদ্দিন রোডের সকল সংযোগ সড়ক। সড়কগুলোর সংযোগস্থলে বসে ব্যারিকেড। অবস্থান নেয় পুলিশ। কারাফটক থেকে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের প্রবেশ পথসহ পুরো এলাকায় তৈরি করা হয় পুলিশ বেষ্টনী। এর মাঝখান দিয়ে কারাবন্দিদের বহনকরা প্রিজনভ্যান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ির কনভয় যাচ্ছিল। সকাল পৌনে ৯টায় কারাফটকে দেখা যায় কারাগারের ভেতর থেকে বন্দি বহনকারী ৯টি প্রিজন ভ্যান একে একে কারাগারের ভেতর থেকে বের হয়। এ সময় প্রিজনভ্যানে ওপরের অংশ দিয়ে বাইরে তাকানো বন্দিরা জোর গলায় বলছিলেন, ‘হ্যালো’। ‘বিদায়’। ‘দেখা হবে নতুন কারাগারে’। হাত-নেড়েও বিদায় জানাচ্ছিলেন কেউ কেউ। হাসি ও নানা অঙ্গভঙ্গিতে আনন্দ প্রকাশ করছিলেন বন্দিদের অনেকে। এরপর কারাগারের বাইরে প্রিজনভ্যানের সঙ্গে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্সের সমন্বয়ে সাজানো হয় দ্বিতীয় কনভয়। অন্তত পনের মিনিট এই প্রস্তুতির পর সকাল ৯টার পর একজন ডেপুটি জেলারের নেতৃত্বে গাড়িবহরটি কেরানীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। এর আগে ভোর ৬টায় রওয়ানা দিয়েছিল প্রথম গাড়িবহর।
প্রস্তাবিত দুটি পুরুষ কারাগার ও একটি নারী কারাগারের মধ্যে প্রথমে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়া পুরুষ কারাগার-১ প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বন্দিকে সরিয়ে নেয়া হলো। ২০১১ সালের ৯ই আগস্ট ৪০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কারাগারটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। এই পুরুষ কারাগার-১ এর পেরিমিটার দেয়ালের ভেতরে ৩ হাজার বিচারাধীন বন্দি, ১ হাজার সাজাপ্রাপ্ত বন্দি, চারশ’ বিপজ্জনক বন্দির সেল, একশ’ কিশোর বন্দি, ৩০ জন মানসিক ভারসাম্যহীন বন্দি, ৬০ জন শ্রেণিপ্রাপ্ত বন্দি, ২০ জনের এমআই ইউনিট, একই সঙ্গে দুই ফাঁসি কার্যকরে সক্ষম একটি ফাঁসির মঞ্চ, একটি কারা স্কুল ও লাইব্রেরি, ৮টি রান্নাঘরসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এছাড়া পেরিমিটার দেয়ালের বাইরে প্রশাসনিক ভবন, সাক্ষাৎকার ভবন, আবাসিক কোয়ার্টার, কারারক্ষীদের ব্যারাক, ৪টি অবজারভেশন টাওয়ার, মসজিদ ইত্যাদি রয়েছে। এছাড়া ২৭০ জন বন্দির ধারণক্ষমতার নারী কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণের কাজ চলছে। পুরুষ কারাগার-১ এর প্রায় সমপরিমাণ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন পুরুষ কারাগার-২ এবং ২০০ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণ কাজ এখনও শেষ হয়নি। জাতিসংঘের কারামান অনুযায়ী প্রতি বন্দির জন্য বরাদ্দ জায়গার পরিসর ৩৫ বর্গফুট। নতুন কারাগারে বন্দিদের আবাসিক এলাকা, করিডোর, সিঁডি, বারান্দা ইত্যাদির পরিসরের বন্দিপ্রতি গড়ে এর চেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: