অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৪ই শাওয়াল, ১৪৪০ হিজরী

কোটা আন্দোলনের নুর ভিপি, রাব্বানী জিএস; পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা, ভিসির বাসার সামনে ছাত্রলীগের অবস্থান

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) পদে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা নুরুল হক নুর ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে গোলাম রাব্বানী নির্বাচিত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি মো. আখতারুজ্জামান এই ফলাফল ঘোষণা করেন।রোকেয়া হলের প্রভোস্টকে লাঞ্ছিত ও ভাঙচুরের অভিযোগে ডাকসুর সদ্য নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন রোকেয়া হলের প্রভোস্ট জিনাত হুদা। অপরদিকে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে ভিসির বাসার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রলীগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফল অনুসারে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জয়ী হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। ডাকসুর ২৫ পদের মধ্যে ২৩টিতেই ছাত্রলীগের প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী আখতার হোসেন। ভিপি পদে বিজয়ী নুরুল হক কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে নির্বাচন করেন। অন্যদিকে জিএস পদে নির্বাচিত গোলাম রাব্বানী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক।

ঘোষিত ফলাফল অনুসারে ২৫ হাজারের কিছু বেশি ভোট প্রয়োগ হয়েছে। যা মোট ভোটারের ৫৯ শতাংশ। ভিপি পদে নুরুল হক পান ১১ হাজার ৬২ ভোট। এই নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ২৫৫ জন। এদিকে এই ফলাফল ঘোষণার পরপরই সেখানে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা ভিপি পদে জয়ী নুরুল হকের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেন। তাঁকে বহিষ্কারের দাবি তোলেন।

ভিপি হওয়ার পর যা বললেন নুরুল:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসুর সদ্য নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক। তিনি মনে করেন, এই নির্বাচন পুরো দেশবাসীকে হতাশ করেছে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ডাকসু নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হয়। এর পরপরই ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নুরুল হকের সঙ্গে কথা হয় দৈনিক চিত্রের এই প্রতিবেদকের। নুরুল হক সোমবার দুপুরে নিজ ক্যাম্পাসে ‘হামলার শিকার’ হয়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নুরুল হক তাঁর ভিপি নির্বাচিত হওয়া ও এই নির্বাচন প্রসঙ্গে বলেন, ‘এ রকম নির্বাচন আমাদের কারওরই প্রত্যাশা ছিল না। ২৮ বছর পর এই নির্বাচন হয়েছে। সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে ছিল। জাতীয় নির্বাচনের পর নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, আমরা ভেবেছিলাম সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সেখানে আশার আলোর সঞ্চার করা হবে। কিন্তু প্রশাসনের সহায়তায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন যে কারচুপি করেছে, তা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, পুরো দেশকে হতাশ করেছে। আমরা মনে করি, ১১ মার্চের নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।’

নুরুল হকের কাছে দৈনিক চিত্রের প্রশ্ন ছিল, ‘আপনি তো এখন ভিপি হিসেবে নির্বাচিত। এখন আপনাদের অবস্থান কী হবে?’ জবাবে নুরুল হকের ভাষ্য ছিল, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন বাদে বাকি সব সংগঠন এই নির্বাচন বর্জন করেছে। তাই তাদের সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নুরুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক তিনি। পটুয়াখালীতে জন্ম নেওয়া এই শিক্ষার্থী এর আগে কোটা সংস্কার আন্দোলন করতে গিয়ে হামলা, মামলা ও কারাবরণের মুখোমুখি হন।

নুরুসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা:
এদিকে রোকেয়া হলের প্রভোস্টকে লাঞ্ছিত ও ভাঙচুরের অভিযোগে ডাকসুর সদ্য নির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন রোকেয়া হলের প্রভোস্ট জিনাত হুদা। পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার আজ মঙ্গলবার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল দুপুরে অভিযোগ ওঠে, রোকেয়া হলের একটি কক্ষে সিলগালা করা তিনটি ব্যালট বাক্স গোপনভাবে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নুরুল হক নুর এবং পরিষদের কয়েকজন সদস্য হল প্রভোস্টের কাছে যান। তাঁরা ওই কক্ষের ভেতরে কী আছে, তা দেখতে চান। সেখানে থাকা পরিষদের সাহিত্য সম্পাদক প্রার্থী আকরাম হোসেন অভিযোগ করেন, হল প্রভোস্ট তাঁকে ওই কক্ষে যেতে বাধা দেন। প্রক্টর ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার না আসা পর্যন্ত তাঁকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। এর একটু পর প্রক্টর গোলাম রাব্বানী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার মফিদুর রহমান, প্রভোস্ট জিনাত হুদা, ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর তাঁদের সামনেই তাঁরা ওই ঘরে বৈঠক করেন।

ঢাবির হল সংসদে ১২টিতে ছাত্রলীগ, ৬টিতে স্বতন্ত্র:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের হল সংসদ নির্বাচনে ১২টিতে ছাত্রলীগ, ৬টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনে মোট ১৮টি হলের মধ্যে ১২টিতে ছাত্রলীগের প্রার্থীরা সহ-সভাপতি (ভিপি) ও ৬টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। একই চিত্র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদেও। ১৪টিতে ছাত্রলীগ প্রার্থীদের বিপরীতে চারটিতে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

সোমবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণের পর বিকেল থেকে শুরু হয় গণনা। একে একে আসতে থাকে হল সংসদ নির্বাচনের ফল।

সুফিয়া কামাল হল

সুফিয়া কামাল হলে ভিপি পদে তানজিলা আক্তার সোমা ও জিএস পদে মনিরা শারমিনসহ স্বতন্ত্র প্যানেলের মোট ৯ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। কমিটির বাকি চার সদস্যের মধ্যে তিন জন ছাত্রলীগের, একজন ছাত্র ইউনিয়নের।

বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল

সিলমারা ব্যালট উদ্ধারের ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের হল সংসদ নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদকসহ (জিএস) পাঁচ পদে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এই হলে ভিপি হয়েছেন সুস্মিতা কুণ্ডু, জিএস হয়েছেন সাগুপ্তা বুশরা। বাকি আট পদে জিতেছেন ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীরা। নির্বাচনে সাতটি পদে প্রার্থিতা রেখে স্বতন্ত্র প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে জয় পেয়েছেন পাঁচ জন। তারা হলেন ভিপি সুস্মিতা কুণ্ডু, জিএস সাগুপ্তা বুশরা, সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মুন্নী আক্তার, সাহিত্য সম্পাদক সাহরীন সুলতানা ইরা ও অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক জয়নব আক্তার।

জহুরুল হক হল

সার্জেন্ট জহুরুল হক হল সংসদ নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে জয় পেয়েছেন ছাত্রলীগের প্রার্থী সাইফুল্লা আব্বাছী অনন্ত। আর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী তৌফিকুল ইসলাম। হল সংসদের বাকি পদগুলোতে জয় পেয়েছেন ছাত্রলীগের প্যানেলের সদস্যরা। বিজয়ী অন্যরা হলেন— সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে সুরাপ মিয়া সোহাগ, সাহিত্য সম্পাদক পদে কামাল উদ্দিন রানা, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে শাকিল আহমেদ, পাঠকক্ষ সম্পাদক পদে মো. ফারুক উদ্দিন, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. সোহেল রহমান, বহিরাঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক পদে আনন্দ ফকির ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে ফাহাদ বিন আব্দুল হাকিম। এছাড়া নির্বাচিত চার জন সদস্য হলেন— ফাহাদ তানভীর নাঈম, বি এম জবল-ই-রহমত, মো. বজলুর রহমান ও এস এম নাফিউর রহমান।

শামসুন নাহার হল

শামসুন নাহার হলের হল সংসদ নির্বাচনে ১৩টি পদের মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদকসহ (জিএস) আটটি পদেই জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীরা। হল সংসদের বাকি পাঁচটি পদে জিতেছেন ছাত্রলীগের প্রার্থীরা। হলটির ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্যানেলের শেখ তাসনিক আফরোজ, জিএস পদে একই প্যানেলের আফসানা ছপা। স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে নির্বাচিত বাকিরা হলেন— সহ সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফাতিমা আক্তার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক সামিয়াজ জাহান, সাহিত্য সম্পাদক তাহসিন, সমাজসেবা সম্পাদক শিরিন আক্তার, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক খাদিজা বেগম ও কার্যনির্বাহী সদস্য তামান্না তাসনিম উপমা।

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল

হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের হল সংসদে পূর্ণ প্যানেলে জয় পেয়েছে ছাত্রলীগ। হলটির সহসভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগ প্যানেলের শহিদুল হক শিশির ও সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন একই প্যানেলের মেহেদী হাসান মিজান। অন্যান্য পদে জয়ীরা হলেন— সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে সাদিল আব্বাস, সাহিত্য সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে ইমরান হাসান, রিডিং রুম সম্পাদক পদে বিল্লাল হোসেন, ইনডোর ক্রীড়া সম্পাদক পদে শাহরিয়ার সনেট, আউটডো ক্রীড়া সম্পাদক পদে জাহিদুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে আবুল হোসেন এবং সদস্য পদে আব্দুর রহমান, শাহ ইবনে সোয়াদ, জাহাঙ্গীর আলম ও মুহাজিদুল ইসলাম।

বঙ্গবন্ধু হল

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল সংসদে দু’টি পদ ছাড়া বাকি সবগুলো পদে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রলীগ প্যানেলের শিক্ষার্থীরা। হলটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগ প্যানেলের আকমল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হয়েছেন একই প্যানেলের মেহেদী হাসান শান্ত।ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে বিজয়ী বাকিরা হলেন— সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে জুলফিকার হাসান, সাহিত্য সম্পাদক পদে আব্দুল কাদের, পাঠচক্র সম্পাদক পদে আজহারুল ইসলাম সুমন, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক পদে মুনতাসির মমতাজ, বহিরাঙ্গন সম্পাদক পদে মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবা সম্পাদক পদে মাহবুবুর রহমান এবং সদস্য পদে আসীর মুরাদ, ফারুক শেখ ও মনিরুজ্জামান লিয়ন। অন্য দিকে বঙ্গবন্ধু হলের হল সংসদে বিজয়ী স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী হলেন— সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ইয়াসির আরাফাত ও সদস্য আতাউল্লাহ আরমান।

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলের হল সংসদ নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে বিজয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। আর হল সংসদের সাধারণ সম্পাদকসহ (জিএস) বাকি ১০টি পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীরা। হলটির ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রিকি হায়দার আশা ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ছাত্রলীগের সারা বিনতে জামান। নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে বিজয়ী বাকি দু’জন হলেন— সাহিত্য সম্পাদক পদে খাদিজা শারমিন ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে তাসনিম হালিম মিম। বিজয়ী অন্যরা হলেন—সহ সাধারণ সম্পাদক পদে সাবরিনা স্বর্না, পাঠকক্ষ সম্পাদক পদে সানজিনা ইয়াসমিন, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক পদে রিয়া আক্তার শান্তা, বহিরঙ্গন ক্রীড়া সম্পাদক পদে পাপিয়া আক্তার, সমাজসেবা সম্পাদক পদে ইসরাত জাহান ও সদস্য পদে ইসমত আরেফিন আলো, জান্নাতুল তাজরিন, রুবাইয়া আক্তার এবং সৈয়দা মুনিয়া ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।

সুলিমুল্লাহ হল

স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের হল সংসদেও পূর্ণ প্যানেলে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই হলের সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছেন মো. মুজাহিদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হয়েছেন জুলিয়াস সিজার। বিজয়ী অন্যরা হলেন— সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে নওশের আহমেদ , সাহিত্য সম্পাদক পদে আকিব মুহাম্মদ ফুয়াদ, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে মিশাদ, পাঠকক্ষ সম্পাদক পদে সোহরাব হোসেন, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক পদে কাহহার ফাহিম, বহিঃক্রীড়া সম্পাদক পদে জাহিদ হাসান, সমাজসেবা সম্পাদক পদে মিলন খান এবং সদস্য পদে সৈকত, লিমন, রাকিব ও সেজান।

ফজলুল হক হল

ফজলুল হক মুসলিম হলের হল সংসদ নির্বাচনে সহসভাপতিসহ (ভিপি) পাঁচ পদে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। হল সংসদের বাকি আটটি পদে জয় পেয়েছেন ছাত্রলীগের প্যানেলের প্রার্থীরা। হলটির ভিপি নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্যানেলের মাহমুদুল হাসান তমাল। একই প্যানেল থেকে নির্বাচিত বাকিরা হলেন— বহিরাঙ্গন ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার বাপ্পী, পাঠকক্ষ বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাকীব এবং সদস্য শামিম ও মাহবুব। এই হলে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে জয়ীরা হলেন— সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মাহফুজুর রহমান, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে শাহিনুর, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক পদে রওনক ইসলাম, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক পদে রানা আরাফাত, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক পদে ইমরান হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক পদে আবু হাসিব এবং দুই সদস্য কাইছার ও রাফসান।

বিজয় একাত্তর হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজয় একাত্তর হল সংসদ নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) হয়েছেন ছাত্রলীগের সজীবুর রহমান সজীব। এ প্যানেলে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে আহসান নাজমুল হাসান নিশান এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হিসেবে মুহাম্মদ আবু ইউনুস নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয় একাত্তর হলের ১৩টি পদের সব কটিতেই জয়ী হয়েছে ছাত্রলীগ।

সূর্যসেন হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মাস্টারদা সূর্যসেন হলের সংসদ নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) হয়েছেন মারিয়াম জামান খান সোহান ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) হয়েছেন সিয়াম রহমান। সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ছাত্রলীগ মনোনীত প্যানেল থেকেই এম মোরশেদ সালাম জয়ী হয়েছেন।
জিয়াউর রহমান হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়াউর রহমান হলের সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে শরিফুল ইসলাম শাকিল জয় পেয়েছেন। এই প্যানেল থেকে জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছেন হাসিবুল হোসেন শান্ত।

রোকেয়া হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্যানেলেকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এই হলে সহ-সভাপতি (ভিপি) হয়েছেন ইশরাত জাহান তন্বী ও জিএস নির্বাচিত হয়েছেন সায়মা আক্তার প্রমি। আর এজিএস নির্বাচিত হয়েছেন ফাল্গুনি দাস তন্নি।

স্যার এ এফ রহমান হল

ছাত্রসংসদে ভিপি আব্দুল আলীম খান, জিএস আব্দুর রহিম সরকার, এজিএস আল আমিন। এখানেও ছাত্রলীগ পূর্ণাঙ্গ প্যানেল জয়ী।

জগন্নাথ হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের জগন্নাথ হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে উৎপল বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে কাজল দাস, এজিএস পদে অতনু বর্মন নির্বাচিত হয়েছেন। জগন্নাথ হলেও পূর্ণাঙ্গ প্যানেলে ছাত্রলীগ জয়ী হয়েছে।

কবি জসীমউদ্দীন হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসিমউদ্দীন হল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে ছাত্রলীগ প্যানেলের ফরহাদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ইমাম হাসান জয়ী হয়েছেন। এখানে সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাইফুল ইসলাম নির্বাচিত হয়েছেন।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল

ভিপি হোসাইন আহমেদ সোহান, জিএস ইরফানুল হাই সৌরভ জয় পেয়েছেন। এছাড়া এজিএস হয়েছেন সোহেল আহমদ মিলন। এই হলে সব পদে ছাত্রলীগ জয়ী।

অমর একুশে হল

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হল সংসদ নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান সুমন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ছাত্রলীগের আহসান হাবীব এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) হিসেবে আলিফ আল আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।

এর আগে, সোমবার (১১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের দু’টি হল বাদে বাকি ১৬টি হলে সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ডাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ১১টা ১০ মিনিটে। বিকেল ৫টার দিকে শেষ হয় হলটির ভোটগ্রহণ।

এদিকে, রোকেয়া হলের ভোটগ্রহণ সকাল ৮টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা শুরু হয় এক ঘণ্টা পর। আবার দুপুর ১২টার দিকে রোকেয়া হল থেকে ব্যালট ভর্তি বাক্স উদ্ধারের পর ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। বিকেল ৩টার পর রোকেয়া হলে আবার ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ওই হলের ভোটগ্রহণ সন্ধ্যা ৬টার পর শেষ হয়।

নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক আবদুল বাছির জানান, রোকেয়া হল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলের ভোট দেরিতে শুরু হওয়ায় হল দু’টোর ভোটগণনা সন্ধ্যা থেকে শুরু করা হয়েছিল।

এদিকে, ডাকসু নির্বাচনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমি শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ দিই। তারা শান্তিপূর্ণভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছে। আমি এটির ভূয়সী প্রশংসা করি।’ এ নির্বাচনের মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতেও গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি নতুন মাত্রায় এগিয়ে নেওয়ার অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

তবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ছাত্রলীগ ছাড়া ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া সবগুলো ছাত্র সংগঠনের প্যানেলই নির্বাচন বর্জন করেছে। দুপুর ১টায় মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের প্রতি ‘ঘৃণা’ জানিয়ে ডাকসু নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দেয় চার জোট। এসময় বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর দুই জোট ‘প্রগতিশীল ছাত্র জোট’ ও ‘সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য’ লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেয়। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ভিসির পদত্যাগ ও ফের ডাকসু নির্বাচন চেয়ে বিক্ষোভ করেন।

ডাকসু’র ‘কলঙ্কিত’ নির্বাচন বাতিল চায় ঢাবি সাদা দল

তবে ডাকসু নির্বাচন ঘিরে ছাত্রলীগের বিপক্ষে ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগ। বিকেলে মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্রলীগকে ঠেকাতে এবং নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করতে ছাত্র ইউনিয়নের লিটন নন্দী, কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নুর ও ছাত্রদলের অনিক একজোট হয়েছে ষড়যন্ত্র মঞ্চায়ন করেছে। বিভিন্ন জোটের পক্ষ থেকে নতুন করে ডাকসু নির্বাচনের দাবিকে হাস্যকর বলে আখ্যা দেন ছাত্রলীগ সভাপতি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.