অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

গুলশানের বাড়ি ছাড়তে হচ্ছে মওদুদকে

Print

অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গুলশান-২ এ যে বাড়িতে বসবাস করছেন সেই বাড়িটি তারই ভাই মনজুর আহমদের নামে নামজারি (মিউটিশন) ও ডিক্রি জারি করতে হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে মওদুদ ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা সরকারি বাড়ি আত্মসাতের মামলাও বাতিল করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ। এ সংক্রান্ত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) করা আপিল আবেদন গ্রহণ করে গতকাল এ রায় দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। আপিল বিভাগের এ রায়ের ফলে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গুলশান-২ নম্বর সেকশনের ১৫৯ নম্বর প্লটের ওই বাড়িতে ‘অবৈধ দখলদার’ হিসেবে বাস করছেন বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তাকে উচ্ছেদে সরকার ও রাজউক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে, মওদুদ আহমদ জানিয়েছেন তিনি এ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করবেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, গুলশান-২ এ এক বিঘা ১৩ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ওই বাড়ি অবৈধভাবে দখল ও আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৩ সালের ১৭ই ডিসেম্বর গুলশান থানায় মওদুদ আহমদ ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের উপ-পরিচালক হারুনুর রশীদ। পরে ২০১৪ সালের ২৬শে মে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। মওদুদ আহমদ দুদকের ওই অভিযোগ আমলে নেয়ার আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করেন। শুনানি শেষে গতবছর ২৩শে জুন হাইকোর্ট তা খারিজ করে দেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিলের আবেদন করেন মওদুদ আহমদ। আপিল বিভাগ তা মঞ্জুর করে গতকাল এক রায়ে এর নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন। ফলে মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন মওদুদ ও তার ভাই। এর আগে ওই সম্পত্তি মওদুদের ভাই মনজুর আহমদের নামে মিউটেশন (নামজারি) করার নির্দেশনা চেয়ে ২০১০ সালে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। একই বছরের ৮ই ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ মওদুদ আহমদের ভাইয়ের নামে ওই সম্পত্তি নামজারির নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে রাজউক ও সরকারপক্ষ আলাদাভাবে লিভ টু আপিল করে। এ মামলায় আপিল বিভাগে রাজউক ও রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একরামুল হক টুটুল। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। অন্যদিকে মওদুদ নিজেসহ তার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ও মাহবুব উদ্দিন খোকন। গতকাল রায়ের প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, মওদুদ আহমদকে মূলত বাড়িটি দেখাশুনার জন্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তার ভাইয়ের নামে ডিক্রি ও নামজারির আদেশ নিয়ে নিয়েছেন। এই দুটি বিষয় আপিল বিভাগ বাতিল করেছেন। মাহবুবে আলম বলেন, এই রায়ের ফলে মওদুদের ভাইয়ের এই সম্পত্তির দাবি অগ্রাহ্য। তারা যে ওই বাড়িতে বসবাস করছেন, তা অবৈধ দখলদার বলে গণ্য হবে। গুলশানের বাড়ি থেকে মওদুদ আহমদ ও তার ভাইয়ের উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সরকার ও রাজউক আইন অনুসারে পদক্ষেপ নেবে। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ১৯৮১ সাল থেকে আমরা এই বাড়িটিতে বসবাস করছি। এটি ক্রয় করা বাড়ি, সরকারের বাড়ি নয়। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার এমন উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় দেখে সিদ্ধান্ত নেব। তবে, অবশ্যই রিভিউ করবো।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: