অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২রা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা রমযান, ১৪৪২ হিজরী

চকবাজারে ইরফান সেলিমের ‘টর্চার সেল’

Print

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার চকবাজারের একটি ভবনের ছাদের এক কক্ষ থেকে হাতকড়া, ছোরাসহ কিছু জিনিস উদ্ধার করা হয়েছে। এই কক্ষকে ‘টর্চার সেল’ হিসেবে ব্যবহার করতেন সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম।

অভিযানের পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের মিডিয়া উইংয়ের প্রধান লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, বেলা সাড়ে ১২টায় তারা অভিযুক্তের বাসা এবং তাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

এরপর তারা সাংসদ হাজী মোহাম্মদ সেলিমের দ্বিতীয় ছেলে ইরফান মোহাম্মদ সেলিম এবং তার দেহরক্ষী জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব জানায়, ইরফানের বাসা তল্লাশি করে বেশ কিছু অবৈধ জিনিসপত্র পাওয়া গেছে। এরমধ্যে রয়েছে লাইসেন্সবিহীন বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, বিদেশি মদ এবং ৩৮ থেকে ৪০টি বিভিন্ন ধরণের ওয়াকিটকি।

র‍্যাব জানায়, সাধারণ নিরাপত্তা বাহিনী বা যেকোনো সুশৃঙ্খল বাহিনী এ ধরনের ওয়াকিটকি ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া দেহরক্ষী জাহিদুল ইসলামের কাছ থেকে চারশ পিস ইয়াবা এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

তাদের অবৈধ ওয়াকিটকি রাখা ও ব্যবহারের জন্য ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া মাদক রাখার জন্য আরো ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অর্থাৎ প্রত্যেককে এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এছাড়া ইরফান সেলিমের ভবনের পাশেই একটি টর্চার সেল পাওয়া গেছে জানিয়ে র‍্যাবের ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সেখান থেকে হ্যান্ডকাপ উদ্ধার করা হয়েছে।

ইরফান একজন জনপ্রতিনিধি। পুরান ঢাকার সোয়ারি ঘাট, মিটফোর্ড রোড ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তিনি।

আগের রাতে ধানমণ্ডিতে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে ‘মারধরের’ জেরে সোমবার দুপুরে সোয়ারি ঘাটের দেবী দাস লেনে হাজী সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালায় র‌্যাব।

রোববার রাতে ধানমণ্ডি এলাকায় হাজী সেলিমের গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে মারধর করা হয়।

এ ঘটনায় সোমবার ধানমণ্ডি থানায় দায়ের করা মামলায় ইরফান সেলিম ছাড়াও হাজী সেলিমের প্রোটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু, ইরফানের দেহরক্ষী জাহিদ ও গাড়িচালক মিজানুর রহমানের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত পরিচয় আরো তিনজনকে আসামি করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে পথরোধ করে সরকারি কর্মকর্তাকে মারধর, জখম ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ এনেছেন মামলার বাদী নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট মো. ওয়াসিফ আহমেদ খান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে কলাবাগানের দিকে যাচ্ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো একটি কালো রঙের ল্যান্ড রোভার গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৫৭৩৬) পেছন থেকে তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।

ওয়াসিফ ও তার স্ত্রী ধাক্কা সামলে মোটরসাইকেল থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে ওই গাড়ি থেকে জাহিদ, দিপু এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরো দুই-তিনজন ‘অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ’ করতে করতে নেমে আসে এবং ‘মারধর’ শুরু করে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: