অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী

চলতি সপ্তাহে যাদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়েছেন ট্রাম্প

Print

অনলাইন ডেস্ক: বিতর্ক থেকে যেন দূরে থাকতে পারেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসন্ন মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর জন্য এ সপ্তাহও ব্যতিক্রম ছিল না। তবে এ সপ্তাহে যেন একটু বেশিই মাত্রা ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। বিবিসি’র নিউজ বিট রিপোর্টার ক্যাথরিন বার্নস এক রিপোর্টে এমনটাই লিখেছেন। তিনি আরো লিখেছেন আমেরিকার জন্য যুদ্ধ করে নিহত হওয়া মার্কিন মুসলিম সেনার পরিবারকে সমালোচনা করাটা ছিল নিঃসন্দেহে সব থেকে উল্লেখযোগ্য। খিজর খানের ছেলে ইরাকে ২০০৪ সালে নিহত হন। তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীর সমালোচনা করে বলেছিলেন, ট্রাম্প দেশের জন্য কোনো আত্মত্যাগ করেন নি। স্বভাবসুলভ ট্রাম্প খিজর খান ও তার পরিবারকে পাল্টা সমালোচনা করেন। এতে উল্টো বিপাকে পড়েন তিনি। সেখান থেকে বাকযুদ্ধে জড়ান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে। প্রেসিডেন্ট ওবামা ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য যোগ্য নন ট্রাম্প। আর তিনি নিজেই এটা বার বার প্রমাণ করছেন।’ পাল্টা জবাব দিতে মোটেই দেরি করেন নি ট্রাম্প। বলেছেন, ‘ওবামা বাজে একজন প্রেসিডেন্ট। ইতিহাস তাকে মনে রাখবে আমাদের দেশের সব থেকে বাজে প্রেসিডেন্ট হিসেবে।’ ওদিকে, ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতাদের বিরাগভাজন হয়ে চলেছেন ট্রাম্প। তাদের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক অবশ্য মধুর কখনই ছিল না। তা ক্রমেই বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। কংগ্রেসম্যান রিচার্ড হ্যানা তো প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তিনি ভোট দিচ্ছেন হিলারিকে। রিপাবলিকান লেখক জন হার্পার বলেছেন তিনি ট্রাম্পের একজন বড় সমর্থক ছিলেন। তবে এখন তিনি ট্রাম্পকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে আখ্যা দিয়েছেন। এছাড়া, রিপাবলিকান দলের দাতা ও তহবিল সংগ্রাহক মেগ হুইটম্যানের সরে যাওয়া খবরের শিরোনাম হয়েছে। হুইটম্যান হিলারির প্রচারণায় উল্লেখযোগ্য অনুদানের কথাও জানিয়েছেন। ওদিকে, বিশ্ব নেতাদের মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ এ সপ্তাহে ট্রাম্পকে নিয়ে তার অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মার্কিনিরা যদি ট্রাম্পকে বেছে নেন, তাহলে এর পরিণতি হবে নেতিবাচক। কেননা, মার্কিন নির্বাচন হলো বিশ্ব নির্বাচন।’
ক্যাথরিন বার্নস তার রিপোর্টে ট্রাম্পের বিবাদে জড়ানোর তালিকায় একটি শিশুর কথাও উল্লেখ করেছেন। নর্দার্ন ভার্জিনিয়ার একটি সমাবেশ চলছিল। সমাবেশে একটি শিশু অনেক কাঁদছিল। প্রথমে ট্রাম্প ওই শিশুর মাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বাচ্চাকে নিয়ে ভাববেন না, আমি বাচ্চাদের ভালোবাসি। আমি শুনতে পাচ্ছি শিশুটি কাঁদছে। আমার ভালো লাগছে। কি সুন্দর একটি শিশু।’ কিন্তু শিশুটির যখন কান্না থামছিল না তখনই মত পাল্টে ফেলেন ট্রাম্প। বলেন, ‘আসলে, আমি মজা করছিলাম। আপনি বাচ্চাটাকে নিয়ে এখান থেকে যেতে পারেন!।’
এখানেই শেষ নয়, গণতন্ত্রকেও এক হাত নিয়েছেন ট্রাম্প। বলেছেন, নভেম্বরের নির্বাচনে কারচুপি হবে। কাজেই তিনি তাতে জিতলে দোষটা তার না।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: