অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

চ্যাম্পিয়ন বধে শুভ সূচনা বাংলাদেশের

Print

দৈনিক চিত্র রিপোর্ট: যুব বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৪৩ রানে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টসে জিতে আগে ব্যাট করে ২৪০ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ দাঁড় করে মিরাজ বাহিনী। জবাবে মিরাজ-সাইফের ঘূর্ণি বলে মাত্র ১৯৭ রানেই গুটিয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
২৪১ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। তৃতীয় ওভারেই মেহেদী হাসানের বলে বিদায় নেন ওপেনার ভেরেইন। এরপর দলীয় ২৭ রানে মুল্ডারকে সরাসরি বোল্ড করেন সাইফ উদ্দীন।
এরপর ১৪ তম ওভারে আবারও আঘাত হানেন সাইফ। জর্জিকেও বোল্ড করেন এই ডানহাতি পেসার। দলীয় ৬০ রানে মুনস্যামিকেও এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সাঈদ সরকার। প্রাথমিক এই বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেন এক প্রান্ত আগলে রাখা ওপেনার স্মিথ। তাকে সঙ্গ দেন গালিম। কিন্তু ৩৪ তম ওভারে তাকেও ফিরিয়ে দেন সাঈদ।
শেষ ৬০ বলে চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল পাঁচ উইকেটে ৯৭ রান। কিন্তু ৪২ তম ওভারে আক্রমণে আসেন অধিনায়ক মিরাজ। ফিরিয়ে দেন গালিমকে। গালিম ফিরে গেলেও এক প্রান্ত ধরে খেলতে থাকেন স্মিথ। তুলে নেন সেঞ্চুরি।
কিন্তু সেঞ্চুরি করার পর পরই তাকে ফিরিয়ে দেন সালেহ আহমেদ শাওন। আউট হওয়ার আগে ১৪৬ বলে ১০০ রান করেন তিনি। স্মিথ আউট হওয়ার এক বল পরেই আবার আঘাত হানেন শাওন। উইলিয়াম লুডিককে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি। দলীয় সংগ্রহে আর ২০ রান যোগ করতেই শেষ হয়ে যায় দক্ষিন আফ্রিকার ইনিংস।
৪৮.৪ ওভারে ১৯৭ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ। বাংলাদেশের পক্ষে মিরাজ ও সাইফুদ্দিন নেন তিনটি করে উইকেট। এছাড়া সাঈদ এবং শাওন নেন দু’টি করে উইকেট।
এর আগে, বাংলাদেশ টসে জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও রানের খাতা খুলতে সময় লেগেছে চতুর্থ ওভার পর্যন্ত। শুরু থেকেই ধীর গতির ব্যাটিং হয়তো সমর্থকদেরকেও ভাবিয়ে তুলেছিলো। কিন্তু দলীয় ৩০ রানে ওপেনার সাইফ হাসান আউট হলে জয়রাজ শেখকে নিয়ে এগোতে থাকেন পিনাক ঘোষ।
শুরু থেকেই দারুণ বোঝাপাড়ার মধ্যে দিয়ে এগোচ্ছিলো তাদের ব্যাটিং। তাদের উপরে ভর করেই গতি পেতে থাকে রানের চাকা। মাঝখানে একবার সহজ রানআউটের ফাঁদে পড়তে গিয়েছিলেন পিনাক। কিন্তু প্রতিপক্ষ দলের ছুঁড়ে দেওয়া বল সরাসরি স্ট্যাম্পে লাগাতে না পারায় বেঁচে যান সে যাত্রায়।
তখন ৪০ রানে ছিলেন পিনাক। ভাগ্য খারাপ, তিন রান যোগ করতে সেই রানআউটের ফাঁদেই পড়তে হলো তাকে! ৫১ বলে ৪৩ রান করে ফিরতে হয় তাকে। এই জুটি থেকে আসে মোট ৪৪ রান।
অন্যদিকে, জয়রাজ তখন উইকেটে রয়েছেন ২৪ রানে। নাজমুল হাসান শান্তকে নিয়ে তিনিও বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছিলেন। সফল হতে পারেননি। পিনাকের মতো ৪০ পার করতেই (৪৬ রান ৫০ বলে) আউট হয়েছেন।
সুবিধা করতে পারেননি অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজও। তবে মিডল অর্ডারে তার করা ২৩ রানের গুরুত্ব অনেক বেশি। একপ্রান্ত তখনও সমানে প্রতিরোধ গড়ে চলেছেন শান্ত। অন্যপ্রান্তে ততক্ষণে সাজঘরের পথ ধরে ফেলেছেন জাকির হোসেন(১৯) ও সাইদ সরকার (৪)।
পরবর্তীতে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনকে নিয়ে এগোতে থাকলেও শান্ত নিজেই আউট হন। তার ব্যাট থেকে আসে ইনিংস সেরা ৭৫ রান। শেষপর্যন্ত রঞ্জিত সাহা (১) ও সাইফুদ্দিন (১২) অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: