অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২৭শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা রাজপথে

Print

অনলাইন ডেস্ক: সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে হাতে হাত রেখে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছেন ৫০ লাখ শিক্ষার্থী। শুধুমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত কর্মসূচির দিনে দেশের প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ সেøাগানে রাস্তায় নেমে আসেন। উচ্চারিত হয় জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রত্যয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ডাকে গতকাল সারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। এতে স্কুল, কলেজ এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। ইউজিসির চেয়ারম্যান আশা করেছিলেন, সারা দেশে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ শিক্ষার্থী এ মানববন্ধনে অংশ নেবে। কিন্তু গতকালের স্বতঃস্ফ‚র্ত এ মানববন্ধন তার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যায়। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস ও পার্শ্ববর্তী সড়কে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় কর্মজীবী মানুষ, সামাজিক-সাংস্কৃতি সংগঠনকে এতে অংশ নিতে দেখা যায়। মানববন্ধন শেষে, র‌্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী সারা দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। রাজধানীতে এ মানববন্ধন হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস (ইউল্যাব), ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ইডেন মহিলা কলেজ, বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজসহ অন্য স্কুল-কলেজ-মাদরাসাগুলোতে। এ ছাড়াও কল্যাণপুর, মিরপুর, উত্তরা, বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো জঙ্গিবিরোধী এ মানববন্ধনে অংশ নিতে দেখা যায়।
শহীদ মিনারের মানববন্ধনে অংশ নেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর হারুন-অর-রশিদ প্রমুখ। এ সময় কয়েক হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনতাও উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জঙ্গি তৎপরতা পেলেই আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাবো। আইন না মানলে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেবো।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানী রাসেল স্কোয়ারে মানববন্ধন করেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা। মানববন্ধনে ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, ইসলাম কখনও আত্মহত্যা বা নিরীহ মানুষ হত্যার সমর্থন করে না। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে জঙ্গি তৎপরতা প্রতিহত করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন সন্তানদের প্রতি পরিবারের সঠিক পরিচর্যা। মানববন্ধনে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), মাদরাসা পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত), পরিকল্পনা উন্নয়ন অফিস প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
বনানীর প্রধান সড়কে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। অতীশ দীপঙ্করের ভিসি প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করতে আজকে আমাদের এই মানববন্ধন। এ ছাড়া কুচক্রিদের দেখানো পথ থেকে আমাদের যুব সমাজকে রক্ষা করতে হবে। শিক্ষার্থীরা মাত্র কয়েকঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে, আর বাকিটা সময় তারা বাসা-বাড়িতেই থাকে। তাই শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সজাগ হওয়ার আহŸান জানান তিনি। জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন সড়কের সম্মুখ থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত পুরো সড়কের দু’পাশ ধরে মানববন্ধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। কল্যাণপুরে মানববন্ধনে অংশ নেয় আশা ইউনিভার্সিটি ও ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষক-শিক্ষার্থী। এতেও অংশ নেন বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ। উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকার প্রধান সড়কে কর্মসূচি পালন করেন উত্তরা ইউনিভার্সিটি ও বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এশিয়ান ইউনিভার্সিটির বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী মূল রাস্তায় নেমে মানববন্ধনে অংশ নেয়। সেখানে সর্বস্তরের জনতাকে দেখা যায়।
উত্তরা মডেল টাউনের মাইলস্টোন কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনের রাস্তায় ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে দীর্ঘ মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. সহিদুল ইসলাম। অধ্যক্ষ বলেন, আমরা শান্তি ও সুখময় বাংলাদেশের প্রত্যাশা করি। আজকের এই মানববন্ধনের মাধ্যমে আমরা শপথ করবো জঙ্গিবাদমুক্ত এক সুন্দর সুখময় বাংলাদেশের। মিরপুর ১ নম্বরের সামনের সড়কে কর্মসূচিতে অংশ নেন গ্রিন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এতে আরও অংশ নেন শেরেবাংলা সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া, আগারগাঁও-তালতলা, মিরপুর ২ ও ১০ নম্বর এলাকায় রাস্তার দু’পাশ ধরেও মানববন্ধন করেন তৎসংলগ্ন এলাকার বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনতা। ধানমন্ডিতে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, স্টামফোর্ড, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মানববন্ধনে নেতৃত্বে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা।
গুলশানে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, রামপুরায় ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, সায়েদাবাদ সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ ইসলামি ইউনিভার্সিটির কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মানববন্ধনে অংশ নেন। মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি এবং দ্যা পিপলস ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী অংশ নেন। পাশে সেন্ট জোসেফসহ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষার্থীরা ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে অংশ নেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: