অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৩শে রবিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী

জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধ অবমাননার শাস্তি ১৪ বছর কারাদণ্ড

Print

অনলাইন ডেস্ক : সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনীর খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। আজ সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন। সংশোধনীর খসড়ায় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে এখন ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন রাখার বিধান রয়েছে এবং আগামী বছর জানুয়ারিতে এ বিধানের মেয়াদ শেষ হবে। তবে তার আগেই সরকার সংরক্ষিত নারী আসনের মেয়াদ বাড়াতে সংবিধানে নতুন সংশোধনীর উদ্যোগ নিয়েছে। সপ্তদশ সংশোধনী এনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনের বিধি আরও ২৫ বছর বহাল রাখার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন, ২০১৮’ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের বিধির মেয়াদ শেষ হয়ে আসায় এই সংশোধনী আনতে হচ্ছে। এর ফলে একাদশ সংসদের প্রথম বৈঠক থেকে শুরু করে পরবর্তী ২৫ বছর পর্যন্ত সংরক্ষিত আসনের বিধি কার্যকর থাকবে।
সংবিধান অনুযায়ী ৩৫০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ৩০০ এবং সংসদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে ৫০ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংবিধানের ৬৫ (৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, “সংবিধান (চতুর্দশ সংশোধন) আইন, ২০০৪ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া দশ বৎসর কাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাঙ্গিয়া না যাওয়া পর্যন্ত পঞ্চাশটি আসন কেবল মহিলা-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে…।”
২০০৪ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন করে সংরক্ষিত নারী সদস্যের ৪৫টি আসন সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টনের ব্যবস্থা করা হয়। তখন এর মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয় পরবর্তী সংসদের অর্থাৎ, নবম সংসদের প্রথম বৈঠক থেকে দশ বছর। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়। সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি। সেই হিসেবে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের মেয়াদ আছে ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত।
২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী সদস্যদের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ এ উত্তীর্ণ করা হলেও ওই সময় আর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বছরখানেক হাতে থাকতেই আইন সংশোধনের এই উদ্যোগে নিল সরকার। এই প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ায় তা এখন বিল আকারে সংসদে পাঠানো হবে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে যাচাই-বাছাইয়ের পর তা পাস করতে হবে।
সংবিধান সংশোধন করতে হলে সংসদ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোট লাগে। সংসদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হাতে আছে ২৩২টি আসন।
আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮’-এর খসড়ার অনুমোদনও দেয়া হয়। পরে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে খসড়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি জানান, আইনটি পাস হলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি ডিজিটাল কাউন্সিল থাকবে।

জানা গেছে, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন পাস হওয়ার মধ্য দিয়ে আইসিটি আইনের বহুল আলোচিত ৫৭ ধারা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তবে এ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধগুলো নতুন আইনের কয়েকটি ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে নীতিগতভাবে অনুমোদিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়ার ধারা ১৯-এ মানহানি, মিথ্যা ও অশ্লীল, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ধারা ২০-এ শত্রুতা সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলার অবনতিসংক্রান্ত বিধান রাখা হয়েছিল।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.