অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জিলহজ্জ, ১৪৪০ হিজরী

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কায় চোখ মাশরাফির

Print

স্পোর্টস রিপোর্টার : মাঠে তখনও দর্শক ঢুকছিলেন। কেউ কেউ বসার স্থান ঠিক করছিলেন। এরই মধ্যে খেলা শুরু। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরুটা করেন সাকিব আল হাসান। আর শেষটা করেন মুশফিকুর রহিম। দারুণ এক জয় পেয়েছে টিম বাংলাদেশ। ২০১৮ সালের শুরুটা দারুণভাবেই করলো বাংলাদেশ। ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটে জিতেছে মাশরাফি বাহিনী। ১২৯ বল হাতে রেখেই মধুর এক জয়। পাত্তাই পেল না জিম্বাবুয়ে। প্রায় দেড় বছর পর দেশের মাটিতে ওয়ানডে খেলতে নেমে বাংলাদেশ পেল দাপুটে জয়। জিম্বাবুয়ের ১৭০ তাড়া করতে নেমে ২৮.৩ বলেই ম্যাচ শেষ করেন তামিম-মুশফিকরা।
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের সামনে জিম্বাবুয়ে দাঁড়াতেই পারল না। ১৭১ লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ উইকেটের একপেশে জয়ে নতুন বছরের প্রথম ওয়ানডেতে শুভ সূচনা বাংলাদেশের। দেড় বছর আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সর্বশেষ ওয়ানডে জিতেছিল বাংলাদেশ।
নতুন বছরের প্রথম ওয়ানডেতে ওপেনিং জুটিতে দীর্ঘদিন পর এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন তামিম। প্রায় ৩৪ মাস পর বাংলাদেশের ওয়ানডে জার্সিতে ফিরে হতাশ করেছেন এনামুল। বরাবরের মতো ভালো শুরু করেও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। ১৪ বলে ১৯ রান করে ফেরেন তিনি। কিন্তু তামিম খেলেছেন আস্থার প্রতীক হয়ে। ৯৩ বলে ৮৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে মাঠ ছেড়েছেন জয় নিয়ে।
ওপেনিং জুটিতে ৩০ রান আসার পর দ্বিতীয় উইকেটে সাকিবের সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি গড়েন তামিম। কিন্তু সিকান্দার রাজার নিরীহ স্পিনে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে এলবিডবøু হন সাকিব। এরপর তৃতীয় উইকেটে মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে তামিম শুধু জয়ের আনুষ্ঠানিকতাটুকু সেরেছেন।
তিন বছর আগে এই শেরেবাংলা স্টেডিয়ামেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে ৭৩ রান করেছিলেন তামিম। সে ম্যাচে সেঞ্চুরির সুযোগ থাকলেও পারেননি। কিন্তু এ ম্যাচে জিম্বাবুয়ের স্বল্প সংগ্রহ তামিমকে সেঞ্চুরি বঞ্চিত করেছে। ৮ চার এবং ১ ছক্কায় অপরাজিত ইনিংসটি সাজালেও সেঞ্চুরি না পাওয়ার আক্ষেপটা থেকেই যাবে। তামিম কিন্তু সে জন্য দুষতে পারেন সতীর্থদের ক্ষুরধার বোলিংকে!
জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্যাটে-বলে লড়াই করেছেন সিকান্দার রাজা। পাশে পাননি খুব বেশি সতীর্থকে। ম্যাচও তাই হয়েছে একতরফা।
টসের সময়ও কুয়াশা কাটেনি পুরোপুরি। টস জিতে অনুমিতভাবেই মাশরাফি বিন মুর্তজা বেছে নেন বোলিং। কন্ডিশন তখন পেস সহায়ক। তবে মাশরাফি শুরু করলেন স্পিন দিয়ে। তাতে চমকে গেল হয়তো জিম্বাবুয়েও। সাকিবের করা ম্যাচের প্রথম বলটিই ঠিকমত খেলতে পারেননি হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। রান মেলে তবু একটি। পরের বলেই উইকেট। ওয়াইড বলে স্টাম্পড বিপজ্জনক সলোমন মিরে। লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে দারুণ ক্ষিপ্রতায় কাজ সেরেছেন কিপার মুশফিকুর রহিম।
এই উইকেটের হাত ধরে এক বল পরই আরও বড় উইকেট। স্পিনে এই দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান বলেই শুধু নয়, বাংলাদেশের দুই বাঁহাতি স্পিনারকে সামলাতেও বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ক্রেইগ আরভিনের উইকেটে থাকা ছিল জরুরি। কিন্তু ম্যাচের তৃতীয় বলেই আরভিনকে ফেরান সাকিব।
জিম্বাবুয়ে তাকিয়ে ছিল সবচেয়ে বড় ভরসা মাসাকাদজা ও আবার জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটে ফেরা ব্রেন্ডন টেইলরের দিকে। কিছুটা আশা জাগিয়েও ছিলেন দুজন। কিন্তু দুজনই ফিরেছেন বাজে শটে। মাসাকাদজার শট ছিল বেশি দৃষ্টিকটু। মাশরাফির অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে আরও বেরিয়ে যাওয়া বলে জায়গায় দাঁড়িয়ে কট বিহাইন্ড।
টেইলরকে ফিরিয়েছেন মুস্তাফিজ। বাঁহাতি পেসার যদিও বেশি ভুগিয়েছেন সিকান্দার রাজাকে। তাকে খেলতেই পারছিলেন না রাজা, আউট হতে হতে বেঁচেছেন বারবার। কিন্তু রাজা টিকে গেলেন, উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলেন তুলনামূলক ভালো খেলতে থাকা টেইলর (২৪)।
দুইবার জীবন পাওয়া ম্যালকম ওয়ালারকে ফিরিয়েছেন সানজামুল ইসলাম। এরপর রাজার লড়াই। সঙ্গী পেয়েছিলেন পিটার মুরকে। ইনিংসের একমাত্র অর্ধশত রানের জুটি গড়েছেন এই দুজনই।

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কায় চোখ মাশরাফির : জিম্বাবুয়ে বধের পর এবার টুর্নামেন্টের আরেক দল শ্রীলঙ্কার দিকে চোখ দিচ্ছেন তিনি। মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দাপুটে জয়ই পেয়েছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালের নৈপুন্যে ১২৯ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতেছে টাইগাররা।
ম্যাচশেষে পুরস্কার বিতরনী মঞ্চে এসে এ জয়ে স্বস্তির কথাই জানালেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। দক্ষিণ আফ্রিকায় দুঃসহ সফর থেকে ফিরে জয়ে ফেরার পর এখন আরেক প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কার দিকে চোখ তার, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা সফর কঠিন ছিল। তাই ঘরে ফিরে জয় পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার। আমাদের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ভালো খেলতে হবে।’
দলের জয়ে অবদান রাখা সবাইকেই একসঙ্গে প্রশংসায় ভাসালেন মাশরাফি। তিনি বলেন, ‘বোলাররা ভালো করেছে। আমরা জানতাম, গত কয়েকদিনে সূর্য না উঠায় উইকেট একটা ভূমিকা রাখবে। সাকিব অসাধারণ। ১৭১ তাড়া করতে নেমে আমাদের একটি বা দুটি জুটি দরকার ছিল। আমরা সেটা পেয়েছি। তামিম দারুণ করেছে, এনামুলও। তিন নাম্বারে নেমে সাকিব ভালো ব্যাটিং করেছে। প্রথম জয় পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি আমরা এ ধারা অব্যহত রাখতে পারব।’




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.