অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

জেএমবি’র ৪ নারী সদস্য গ্রেপ্তার

Print

স্টাফ রিপোর্টার: নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবি’র নতুন ধারার নারী দলের ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাদের একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিৎসক এবং বাকি তিনজন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী। ইন্টার্নি চিকিৎসক ঐশীর বাবা-মাও চিকিৎসক। মানারাতের তিন শিক্ষার্থী আকলিমা রহমান ওরফে মনি, মৌ ও মেঘনা ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। র‌্যাব সূত্র জানায়, গত রোববার
রাত দু’টায় গাজীপুর সাইনবোর্ড এলাকার বাসা থেকে আকলিমাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী গত সোমবার সকালে রাজধানীর মগবাজারের বাসা থেকে ঐশীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার রাতে মিরপুর-১ এর জনতা হাউজিংয়ের বাসা থেকে অপর নারী সদস্য মৌ এবং ওই বাসার সামনের একটি সাবলেট বাসা থেকে মেঘনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে জিহাদী বই-পুস্তক, মোবাইল ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে আকলিয়া রহমান ওরফে মনি এই দলের নেত্রী বলে জানা গেছে। ঐশী ও আকলিমা জিহাদী কর্মকাÐের অর্থ সংগ্রহ এবং সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৪ এর কর্মকর্তারা।
এর আগে র‌্যাব জেএমবি’র দক্ষিণাঞ্চলের আমির মো. মাহমুদুল হাসানকে (২৭) গাজীপুরের টঙ্গী থেকে গ্রেপ্তার করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদে সেই জেএমবি’র নতুন ধারার নারীদলের তথ্য র‌্যাবকে দেয়। নারীদলটি অর্থ সংগ্রহ, দাওয়াত দেয়া, প্রচার-প্রচারণাসহ নানা জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত রয়েছে বলে জানায় র‌্যাবকে। এই দলের নেত্রী আকলিমা রহমান তাকে গত রমজানে ১২ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেয়। এসব তথ্য পাওয়ার পর থেকে র‌্যাব আকলিমা রহমানকে গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখে। এরপর গত সোমবার রাত ২টায় গাজীপুরের সাইনবোর্ড এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে জঙ্গিবাদ ও জিহাদ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। আকলিমা দেড় বছর ধরে দলটির সঙ্গে জড়িত বলে র‌্যাবকে জানায়। সে অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি পরিচালনা করতো দাওয়াতি কাজ। মাহমুদুল হাসানের হাত ধরে নিজে বাইয়াত গ্রহণের পর তার সংশ্লিষ্টতা আরও বেড়ে যায়। ইসলামী খেলাফত কায়েম করার উদ্দেশে দলকে বড় করে ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য টাকা সংগ্রহ করে মাহমুদুল হাসানের কাছে পৌঁছে দিতো। আকলিমা বিশ^বিদ্যালয়ে অনার্স চতুর্র্থ বর্ষে পড়ছেন। বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তিনি ২০১৩ সালে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। মানারাত ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনার পাশাপাশি আরবি শিখতে বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতেন ও সেখানে দাওয়াতের কাজ পরিচালনা করতেন।
র‌্যাব জানায়, রেনেসা প্রি-ক্যাডেট হাইস্কুলে ১৯৯৮ থেকে ২০০২ সালে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন তিনি। পরে ২০০৩ সালে তারা স্বপরিবারে সাইনবোর্ড এলাকায় চলে যান। স্থানীয় হাজী আহাম্মদ আলী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন। ২০০৪ সালে পঞ্চম শ্রেণি পাস করেন। ২০০৫ সালে উত্তরা হাইস্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন ও ২০১০ সালে জিপিএ ৪.১৯ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে হলি সাইন্ড কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হন। ২০১২ সালে জিপিএ ৪.৭০ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। এরপর বিভিন্ন পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেন। সেখানে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে ২০১৩ সালে মানারাতে ভর্তি হন।
এদিকে ঐশীও জিহাদী কাজের জন্য অর্থ প্রদান ও সংগ্রহ করে আসছিলেন। মাহমুদুল হাসানকে আকলিমার দেয়া ১২০০০ টাকার মধ্যে ৮০০০ টাকা দিয়েছিলেন ঐশী। তিনি ৩ বছর ধরে জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত। এ দু’জনের কাছ থেকেই আসে নারীদলটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। তা জানার পর র‌্যাব ঐশীকে গ্রেপ্তার করে। জব্দ করা হয় তার লুকিয়ে রাখা ল্যাপটপ। এছাড়া তার কাছে বিপুল পরিমাণ জিহাদী ফাইল, ম্যাগাজিন, লেকচার ভিডিও’র সফট কপি পাওয়া গেছে। ঐশী ১৯৯৮ সালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন। ২০১০ সালে এইচএসসি পাস করে। পরবর্তীতে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির পর এ বছরের জানুয়ারিতে এমবিবিএস শেষ করেন। গত জুন থেকে ঢামেক হাসপাতালে ইন্টার্নি চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত। গত ৭ মাস ধরে এই দলের সঙ্গে যুক্ত মৌ-ও ২০১৩ সালে মানারাত ইউনিভার্সিটির ফার্মেসি বিষয়ে ভর্তি হন। এখন তিনি অনার্স শেষ বর্ষের ৭ম সেমিস্টারে অধ্যয়নরত। মিরপুর-২ এর ইসলামিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১০ সালে জিপিএ-৫ নিয়ে পাস করে। ২০১২ সালে মিরপুর চিড়িয়াখানা রোডের বিসিআইসি কলেজ থেকে জিপিএ ৪.৬০ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। মেডিকেল ও বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং করে এবং ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে কোন সুযোগ না পাওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানারাতে ভর্তি হন।
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগে অধ্যয়নরত মেঘনাও ভাল ছাত্রী। তিনি সুরিহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০০৪ সালে প্রাইমারি শিক্ষা শেষ ও ২০১১ সালে আহম্মদ নগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৪.৬৩ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। ঢাকা ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে ২০১৩ সালে জিপিএ ৪.৭০ পেয়ে এইচএসসি পাস করে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: