অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৫ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

জয়ে বছর শুরু হলো মাশরাফিদের

Print

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট, খুলনা থেকে: জয় দিয়ে বছর শুরু হলো মাশরাফিদের। ওয়ানডে ক্রিকেটে গত বছরটা দুর্দান্ত কেটেছে বাংলাদেশের। যেখানে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠাসহ ঘরের মাটিতে তিন ক্রিকেট পরাশক্তিকে নাস্তানাবুদ করেছিল টাইগাররা। এবার নতুন বছরের শুরুটাও হলো ভালোই। শুক্রবার খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে চার ম্যাচের টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৪ উইকেটে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ।

টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সাত উইকেটে ১৬৩ রান করেছিল জিম্বাবুয়ে। জবাবে ৮ বল হাতে রেখে ছয় উইকেটে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিক বাংলাদেশ। টাইগাররা পায় ৪ উইকেটের জয়। এই জয়ে চার ম্যাচ টি২০ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সাকিব-তামিমরা।

বাংলাদেশের হয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ব্যাট করতে নামেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। তামিম স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে আগাতে থাকলেও পারেননি সৌম্য সরকার। পাঁচ বলে মাত্র সাত রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। দলীয় ৩১ রানের মাথায় রান আউটের শিকার সৌম্য। এরপর তামিমের সঙ্গী হন সাব্বির রহমান।

তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী আগাতে পারেননি তামিম। ২৪ বলে মাত্র ২৯ রান করে বিদায় নেন তিনি লং অফে ক্রেমারের বলে সিবান্দার হাতে ক্যাচ দিয়ে। দলীয় রান তখন ৫৮। এরপর বেশীক্ষণ টিকতে পারেননি অভিষেক ম্যাচে মাঠে নামা শুভাগত হোম। সাত বলে মাত্র ছয় রান করে তিনি উইলিয়ামসের বলে বোল্ড হন।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে আশা জাগায় সাব্বির ও মুশফিক। এই ‍জুটিতে আসে ৪৪ রান। একটি বাজে শট খেলে বিদায় নেন সাব্বির ও মুশফিক। দলীয় ১১৮ রানের মাথায় ক্রেমারকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ওয়ালারের হাতে তালুবন্দী হন সাব্বির। সাজঘরে ফেরার আগে করে যান ৩৬ বলে ৪৬ রানের দারুণ এক ইনিংস। যেখানে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কার মার।

এরপরই বিদায় নেন মুশফিকও। মাসাকাদজার বল গ্যালারী ছাড়া করতে গিয়ে তালুবন্দী হন সিকান্দার রাজার হাতে। মুশফিক করেন ১৯ বলে তিন চারে ২৬ রান।

শেষের দিকে চাপা উত্তেজনা ছিল। জয় পাবে কি বাংলাদেশ। মুশফিকের বিদায়ের পর ক্রিজে টিকতে পারেননি মাহমুদুল্লাহও। তিন বলে মাত্র সাত রান করে জংউইয়ের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। তবে জয়ের জন্য বাকি কাজটুকু করেছেন সাকিব আল হাসান ও অভিষেক ম্যাচে নামা নুরুল হাসান সোহান। সাকিব ১৩ বলে ২০ ও সোহান ৫ বলে সাত রানে অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতেই বড় ইনিংসের ভিত্তি স্থাপন করে জিম্বাবুয়ের সিবান্দা ও মাসাকাদজা। এই জুটিতে আসে গুরুত্বপূর্ণ ১০১ রান। এরপর আর বড় জুটি গড়তে পারেনি সফরকারী শিবির। হয়েছে ২৬, ২৩ ও ১০ রানের জুটি।

৫৩ বলে দলীয় সর্বোচ্চ ৭৯ রানের ইনিংস খেলেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। এর মধ্যে হাঁকান নয়টি চার ও দুটি ছক্কা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬ রান আসে আরেক ওপেনার ভুসি সিবান্দার ব্যাট থেকে। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছক্কার মার। ওয়ালার ১৪ রান করে রান আউট। বাকিদের মধ্যে কেউই দুই অংকের রান স্পর্শ করতে পারেননি।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সেরা বোলিং ফিগার মুস্তাফিজুরেরই। চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে পেয়েছেন দুটি উইকেট। চার ওভারে ২৪ রান দেয় আল আমিনও শিকার করেছেন দুটি উইকেট। সর্বোচ্চ ৪৫ রান দিয়ে সাকিব আল হাসান নেন একটি উইকেট। অন্যদিকে চার ওভারে ৩৭ রান দিয়েও উইকেটের দেখা পাননি অধিনায়ক মাশরাফি।

আগামী ১৭ জানুয়ারী খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: