অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

টিকে থাকতে প্রস্তুত হচ্ছেন আল আমিন

Print

স্পোর্টস রিপোর্টার: ২০১৩ সালে টেস্ট অভিষেক হয় আল আমিন হোসেনের। সেই বছরই ৬টি টেস্ট খেলে ফেলেন। তারপর সাদা পোশাকে আর মাঠে নামা হয়নি। একবছর পর হয় তার ওয়ানডে অভিষেক। ১৪টি ম্যাচের শেষ মাঠে নেমেছিলেন গতবছর অক্টোবরে। এরপর শুধু টি- টোয়েন্টি খেলা। তার শেষটি ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এ পর্যন্ত ২৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে তার শিকার ৩৯ উইকেট। তবে তুলনায় ওয়ানডেতে ২১ উইকেট খুব খারাপ নয়। কিন্তু টেস্টে শিকার মাত্র ৬টি উইকেট। টাইগারদের সফলতম দুই ফরমেট ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দুই আল আমিন হোসেন এখন কার্যকর বোলার। তবে এই তরুণ নিজের খেলা নিয়ে আক্ষেপে ভুগছেন। বেশি বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে না পারলে কিভাবে নিজেকে মেলে ধরা যায় কিন্তু বিধি বাম আইসিসি’র বৈষম্য নীতির সঙ্গে যোগ হয়েছে নিরাপত্তার অজুহাতে বড় দলগুলো খেলতে না আসার শঙ্কা। গতবছর কোনো ঘটনা না ঘটলেও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আসেনি অজিরা। এবার হলি আর্টিজেনে হামলার পর ইংল্যান্ড আসবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট সংশয়। এমন অবস্থায় চিন্তিত ক্রিকেটাররাও। এই বিষয়ে তরুণ পেসার আল আমিন বলেন, ‘আমাদের বড় দুঃখÑ গত বিশ্বকাপের পর আমাদের কোনো খেলা নেই। অন্য সব দল খেলছে। পেস বোলার বলেন কিংবা বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স বলেন, গত ছয়-সাত মাস ধরে খেলা না থাকায় আমি সন্দিহান আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলাম সেভাবে থাকবো কি-না।’
তবে ইংল্যান্ড যদি না আসে বাংলাদেশ যাবে নিউজিল্যান্ড সফরে। এরপর ভারতে, শ্রীলঙ্কাতে ও ইংল্যান্ডেও টাইগারদের ম্যাচ রয়েছে। এরমধ্যে অবশ্য টাইগারদের পেস আক্রমণে একটা ধাক্কা লেগেছে। গত দুইবছর এই পেসাররদের হাত ধরেই বাংলাদেশ ক্রিকেটে সাফল্য পেয়েছে। কিন্তু তাসকিনের নিষেধাজ্ঞা, মোস্তাফিজের ইনজুরিতে কিছুটা দুর্বল হয়ে থাকতে পারে পেস বিভাগ। তাসকিন ফিরলেও মোস্তাফিজকে হয়তো একটা লম্বা সময় পাবে না দল। কিন্তু এই তরুণ প্রতিভার অভাব পূরণ করতে প্রস্তুত আল আমিন। তিনি বলেন, ‘মোস্তাফিজ আমাদের জন্য অনেক বড় একটি সম্পদ। প্রতিটি দলই ওকে নিয়ে পরিকল্পনা করে কিন্তু তা আর কাজে লাগে না। তখন আমাদের কাজটা সহজ হয়ে যায়। সামনে ইংল্যান্ড আসবে। তখন মোস্তাফিজকে অনেক মিস করবো। তবে মোস্তাফিজের অভাব অনুভব করতে দেবো না। আর এটাকে ইতিবাচকভাবে নিতে হবে। এক বছর আগেও মোস্তাফিজ ছিল না। বাংলাদেশ দল ভালো খেলেছে। সামনে আমি নাও থাকতে পারি। তখন যারা থাকবে তাদের দায়িত্ব হবে বাকিদের অভাব বুঝতে না দেয়া। এখন মোস্তাফিজ নেই, ওর জায়গায় যে আসবে বা আমরা যারা আছি তারা এমনভাবে পারফর্ম করবো যেন ওর অভাবটা না বোঝা যায়।’
একটা সময় বাংলাদেশের জয়ে বড় ভূমিকা থাকতো স্পিনারদের। কিন্তু এখন সেই জায়গা অনেকটা দখল করে নিয়েছে পেস বোলাররা। পেস বিভাগে এসেছে বড় পরিবর্তনও। তাই প্রতিটি পেসারই নিজের লক্ষ্য স্থির করছেন বড় স্বপ্ন নিয়ে। নিজের লক্ষ্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আসলে নির্ভর করে দলের গেমপ্ল্যান এবং কোন পরিবেশ-পরিস্থিতিতে খেলা হচ্ছে তার ওপর। মাশরাফি ভাই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তার কাছ থেকে অনেক অনুপ্রেরণা পাচ্ছি কিভাবে আরো ভালো করা যায়।’ দিন দিন পেসারের সংখ্যা বাড়ায় দলে জায়গা পেতে প্রতিদ্ব›িদ্বতাও বাড়ছে বলে মনে করেন অনেকেই। কিন্তু সেটি মানতে নারাজ আল আমিন। তিনি বলেন, ‘আমি এটাতে প্রতিদ্ব›িদ্বতা দেখি না। কারণ এখানে যে যখন সুযোগ পাবে, তখন তার সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করবে। আমি যখন সুযোগ পাচ্ছি তখন সেরাটাই দিচ্ছি। মোস্তাফিজ, তাসকিন, রুবেল বা মাশরাফি ভাই নিজেদের সেরাটাই দিচ্ছে। সুতরাং টিকে থাকতে হলে যার যার সেরাটাই দিতে হবে। আমার কাছে মনে হয় এটা একটা ইতিবাচক চ্যালেঞ্জ।’




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: