অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরে হতাশা বাড়ছে

Print

অনলাইন ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগী ও তার সমর্থকদের মধ্যে ক্রমশ হতাশা বাড়ছে। বিভিন্ন দিক থেকে তিনি বিতর্ক সৃষ্টি করায় তাদের এমন অবস্থা হয়েছে। অনলাইন সিএনএনে এসব কথা লিখেছেন সাংবাদিক ডানা ব্যাশ, জিম অ্যাকস্টা ও থিওডোর শ্লিফার। এতে তারা লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার প্রচারণা ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলেছেন, তিনি ধারাবাহিকভাবে বেশ কিছু ভুল পদক্ষেপ নিয়েছেন। তা তার পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে ইরাক যুুদ্ধে নিহত মার্কিন মুসলিম সেনা ক্যাপ্টেন হুমায়ুন খানের পিতা-মাতাকে নিয়ে তিনি যেসব মন্তব্য করেছেন তা নিয়েই গত বেশ কয়েকদিন আলোচনা চলছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হচ্ছে রিপাবলিকান প্রচার শিবির ও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। ডেমোক্রেট দলের জাতীয় সম্মেলনে ক্যাপ্টেন হুমায়ুন খানের পিতা খিজর খান বক্তব্য রাখার পর থেকে একটি বিষয়েই পরবর্তী দিনগুলো খরচ করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিহত সেনা হুমায়ুন খান একজন বীর কি না সে বৈধতা নিয়ে তিনি নানা বিতর্ক করেই যাচ্ছেন। এর সঙ্গে মঙ্গলবার আরো দুইটি বিষয় যোগ হয়েছে। তা হলোÑ মার্কিন কংগ্রেসের নি¤œকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ানকে তিনি সমর্থন দিয়েছিলেন কি না এবং ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের পরাজিত প্রার্থী জন ম্যাককেইনকে প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি সমর্থন দিয়েছিলেন কি না। রিপাবলিকান দলের সূত্র সিএনএনকে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রচারণা বিষয়ক ম্যানেজার পল মানাফোর্টসহ প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই মনে করছেন যে, তারা এসব করে অযথাই সময় নষ্ট করছেন। গোপনে ট্রাম্পের প্রচারণা শিবিরের দুটি ঘনিষ্ঠ সূত্র বলেছেন, তারা আশা করেন ক্যাপ্টেন হুমায়ুন খানের ‘গোল্ড স্টার’ পরিবার নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প তার জন্য তার ক্ষমা চাওয়া উচিত, যদিও খিজর খান ডেমোক্রেটিক দলের সম্মেলনে ট্রাম্পকে আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন। এসব সূত্রের একজন ডোনাল্ড ট্রাম্পের হয়ে বলেছেন, নিহত সব সেনা সদস্যের পরিবারের কাছে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। ট্রাম্প শিবিরের ভেতরের দুজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বেশ কয়েকবার কথা বলেছেন রিপাবলিকান জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান রেইনস প্রিবাস। সেখানে প্রিবাস দলের সিনিয়র নেতা ও ডোনারদের হতাশার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন ট্রাম্পের কাছে। তাকে জানানো হয়েছে, যদি তিনি এত বিষাক্ত হয়ে ওঠেন তাহলে দলের যে সমর্থন পাচ্ছেন তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ট্রাম্পের সিনিয়র এক সহযোগী বলেছেন, ট্রাম্পকে পরিষ্কার করে একটি কথা বলেছেন মানাফোর্ট। তিনি বলে দিয়েছেন, তিনি বিজয়ী হলে কি করবেন তাতে যদি কারো আস্থা না থাকে তাহলে কেউ তাকে সাহায্য করতে পারবে না। তবে ট্রাম্পের এক মুখপাত্র জ্যাসন মিলার প্রচারণা শিবিরে কোনো রকম হতাশা বা আপত্তি থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, পল মানাফোর্টের বিষয়ে যে কথা বলা হচ্ছে তা পুরোপুরিই ভুল। আমাদের প্রচারণা দৃঢ়তার সঙ্গে চলছে। আমরা অর্থ সংগ্রহ করছি। প্রতিদিন ভিত্তিক মেধাবী ও অভিজ্ঞ স্টাফ যোগ করছি আমাদের শিবিরে। হিলারি ক্লিনটনের চেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে প্রচারণা ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র তার এ কথার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, মিলার যে বিবৃতি দিয়েছেন সে বিষয়ে বলতে হয় পর্দার আড়ালে টেনশন আছে। আরেকটি সূত্র স্পিকার পল রায়ানের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের লড়াইয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্পের উচিত এমন সব ইস্যুতে নজর দেয়া যেটা জনগণের বিষয়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: