অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১লা জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

ডা. নীহার রঞ্জন এখন বিশ্ব মিডিয়ায়

Print

অনলাইন ডেস্ক: চিকিৎসক ডা. নীহার রঞ্জন দাস এখন বিশ্ব মিডিয়ায়। গত তিন মাসের মধ্যে তৃতীয় দফা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইনডোর মেডিকেল অফিসার
(মেডিসিন) হিসেবে দায়িত্বরত এ চিকিৎসক। বর্তমানে ওই হাসপাতালেই (আইসোলেশনে) চিকিৎসাধীন নীহার রঞ্জন। একবার করোনা সংক্রমণ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফা কতোটা ঝুঁকি থাকে। কত দিন পর আবার আক্রান্ত হতে পারে। এমন অনেক গবেষণা হচ্ছে বিভিন্ন দেশে। বলা হচ্ছে, একবার আক্রান্ত হওয়ার পর যে এন্টিবডি তৈরি হয় তা সামনের কয়েক মাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারে।

তবে ডা. নীহার রঞ্জনের টানা তিন দফা সংক্রমণ নতুন এক গবেষণার বিষয়। তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। ভয়েস অফ আমেরিকা, গ্লোবাল টাইমসসহ বিশ্ব গণমাধ্যমে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।
ডা. নীহার রঞ্জন বলেন, গত ১৮ই এপ্রিল জ্বর, মৃদু লক্ষণসহ প্রথমবারের মতো করোনা পজেটিভ আসে। ১২ই মে পরীক্ষার পর নেগেটিভ ফল আসায় ১৯শে মে পুনরায় কাজে যোগদান করি। প্রথমবার আক্রান্ত হওয়ার দুই সপ্তাহ পর থেকে শারীরিক দুর্বলতা শুরু হয়। এবং শুষ্ক কাশিটা নিয়মিত ছিল। এ সময় নন-কোভিডের ডিউটি চলছিল। কাজে যোগদানের দেড় মাস পর ৩০শে জুন হঠাৎ করে প্রচণ্ড গলাব্যথা এবং ১০২ তাপমাত্রায় জ্বর আসে। ১লা জুলাই করোনার উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার পজেটিভ আসে। ১৯শে জুলাই পরীক্ষার ফলাফল আবার নেগেটিভ আসে। এর কিছুদিন পর থেকে শারীরিক দুর্বলতা আবার দেখা দেয়। এর মাঝে আমাদের পরিবারের অনেকেই অসুস্থ ছিল। আমার বাবা-মা সিরাজগঞ্জে থাকাকালীন কোভিড পজেটিভ হন। এরপর আগস্ট মাসে কাজে যোগদান করি। তখন কোভিড ডিউটি শেষে কোয়ারেন্টিন থেকে আবার নন-কোভিডে ডিউটি করি। এভাবে চলতে থাকে। এর মাঝখানের সময়টাতে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত আমার শ্বশুর, স্ত্রী (গর্ভবতী থাকাকালীন), বোন-বোনজামাইসহ পুরো পরিবার করোনা আক্রান্ত হন। এরপরে হঠাৎ করে প্রায় তিন মাসের কাছাকাছি সময়ে ১৪ই অক্টোবর আমার প্রচণ্ড মাথাব্যথা দেখা দেয়। টানা দুই দিন পরেও মাথাব্যথা কমেনি। ১৬ই অক্টোবর রাতে মাথাব্যথার সঙ্গে শরীর, মাংসপেশী, মেরুদণ্ডে ব্যথা, গলায় খুসখুসে কাশি, শরীরের তাপমাত্রা বাড়াসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। পরদিন সকালে ১৭ই অক্টোবর পুনরায় করোনা পরীক্ষা করতে দেই। রাতে রিপোর্টে তৃতীয় দফায় পজেটিভ আসে।
এই চিকিৎসক বলেন, এসময় কিছু খেতে পারতাম না। স্বাদ পেতাম না একদম মুখে। এরসঙ্গে শরীরের জয়েন্ট পেইন শুরু হলো। এসময় মোটামুটি বাসায় ছিলাম। স্যারদের তত্ত্বাবধায়নে হোম আইসোলেশনে প্রথমদিকে চিকিৎসা নিচ্ছিলাম। এ সময় ব্লাড টেস্টের রিপোর্ট ভালো আসে। এর কিছুদিন পরে বুকের সিটি স্ক্যান করালে রিপোর্টে দেখা যায় ফুসফুসের উভয় পাশে ২৪ শতাংশ জায়গা আক্রান্ত হয়ে গেছে। এসময় হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন চিকিৎসকদের পরামর্শে আবার হাসপাতালে ভর্তি হই। যেহেতু তৃতীয়বারের মতো আক্রান্ত হওয়ার কারো রিপোর্ট নেই তাই ঝুঁকি নিয়ে আর বাসায় থাকিনি। এই সময় পুনরায় ব্লাড টেস্ট করালে দেখা যায় শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে যে উপাদান এটার মাত্রা ৭.৬ হয়ে গেছে। এরপর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রক্ত তরল করার ইনজেকশনসহ অন্যান্য ওষুধ নেই। এখনো হাসপাতালে আছি।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: