অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

‘ডেড ফিনিশে’ নতুন ইতিহাস

Print

স্পোর্টস ডেস্ক: পুরস্কার মঞ্চে সোনার মেডেল গলায় ঝুলিয়ে দুজন দাঁড়িয়ে। দুজনই সোনার মেডেলে চুমু খেলেন। আবেগ আপ্লুত দুজনই। তাহলে কি কর্তৃপক্ষের ভুল হলো? আসলে তা নয়, রিও-অলিম্পিকে একটি ইভেন্টে দুজনই জিতেছেন সোনা। মেয়েদের সাঁতারে ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে কানাডার পেনি ওলেকসিয়াক ও যুক্তরাষ্ট্রের সিমোনে ম্যানুয়েল- দুজনই জিতলেন সোনা। তারা দুজনই এদিন সময় নেন ৫২.৭০ সেকেন্ড। সাঁতারের পরিভাষায় যেটাকে বলা হয় ‘ডেড ফিনিশ’। এক্ষেত্রে কিছুই করার থাকে না কর্তৃপক্ষের। দুজনকেই দিতে হয় সোনা। অবশ্য এই ইভেন্টে কাউকে রুপা দেয়া হয়নি। ব্রোঞ্জ জিতেছেন সুইডেনের সারা সরস্টম। এখানে ব্রোঞ্জ জিতলেও তিনি ১০০ মিটার বাটারফ্লাইয়ে জিতেছেন সোনা। এই সোনা জয়ের মাধ্যমে কানাডার পেনি ও যুক্তরাষ্ট্রের সিমোনে আলাদা আলাদা রেকর্ড গড়েছেন। ২০ বছর বয়সী সিমোনে একজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণী। অলিম্পিকের ইতিহাসে এই প্রথম সাঁতারে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ নারী সোনা জিতলেন। এছাড়া আফ্রিকান বংশোদ্ভূত কোনো আমেরিকান নারীর অলিম্পিক সাঁতারে প্রথম সোনা জেতার ঘটনা এটি। আফ্রিকান-আমিরেকান হয়ে প্রথম সোনা জয়ের পর আবেগে কেঁদে ফেলেন সিমোনে। কণ্ঠে ঝরে ক্ষোভও। কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের গুলিতে আফ্রিকান-আমেরিকান নিহত হন। তার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে কৃষ্ণাঙ্গ মানুষেরা আন্দোলন করেন। তাদের সে আন্দোলনেও পুলিশ গুলি ছোড়ে। বিষয়গুলো সামনে এনে সিমোনে বলেন, ‘এই সোনা শুধু আমার নয়। আফ্রিকার-আমেরিকান মানুষের মধ্যে যারা আমাকে প্রেরণা দিয়েছেন তাদের সবার জন্য এই সোনা। আশা করছি, আমি অন্যদের উদ্বুদ্ধ করতে পারবো। এটা আমার জন্য অনেক বড় পুরস্কার। বিশেষ করে বিশ্বে বর্তমানে যা চলছে তাতে আমি বড় একটি বার্তা দিতে পারবো। কিছু বিষয়ে পুলিশ আমাদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করছে। আশা করছি, আমার এই জয় তাদের মানসিকতার পরিবর্তনে সাহায্য করবে।’ অন্যদিকে চলতি আসরে কানাডাকে সাঁতারে প্রথম সোনা এনে দিলেন ১৬ বছর বয়সী ওলেকসিয়া।
সাঁতারে এমন ডেড ফিনিশের ঘটনা প্রথম নয়। ২০০০-সিডনি অলিম্পিকেও এমন ঘটনা ঘটেছিল। সেবার যুক্তরাষ্ট্রের গ্যারি হল জুনিয়র ও অ্যান্থনি আরভিন- দুজনই একই সময়ে সাঁতার শেষ করে জেতেন সোনা। তবে এবার ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে পেনি ও সিমোনের সোনা জেতা একটু বিস্ময়ের। এই ইভেন্টে এবার তাদের দুজনের কেউই ফেভারিট ছিলেন না। অস্ট্রেলিয়ার কেট ক্যাম্পবেল এ ইভেন্টে দুমাস আগে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন। এবার তারই সোনা জয়ের সম্ভাবনা ছিল প্রবল। কিন্তু মূল প্রতিযোগিতায় তিনি ষষ্ঠ হন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: