Thursday ২১ March ২০১৯
  • :
  • :
অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৭ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ১৩ই রজব, ১৪৪০ হিজরী

ঢাকায় সবধরণের জমায়েত, মিছিল, সমাবেশ নিষিদ্ধ

Print

বিশেষ প্রতিবেদক : ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি দলীয়ভাবে সহিংসতার কোনো প্রস্তুতি নেই। সিলেটে এমনই বার্তা দিয়েছেন খালেদা জিয়া। তবুও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আর সরকারের সহিংসতা ঠেকাতে আয়োজনের কমতি নেই। এরই মধ্যে ডিএমপি ঢাকায় মিছিল-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। মঙ্গলবার থেকেই মহাসড়কে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে। আবাসিক হোটেলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। এদিন যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে জানা গেছে। আর সরকার দলীয়রা মাঠ নিজেদের দখলে রাখতে সব ধরণের আয়োজন নিয়ে রেখেছেন। তবে সহিংস কর্মসূচিতে না যেতে সিলেটের শীর্ষ নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন।
৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিন ঢাকার রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা বসে কোনো ধরনের মিছিল-সমাবেশ বা জমায়েত করা যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। একই সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সব ধরনের ছড়ি বা লাঠি, ছুরি, চাকু বা ধারালো অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা বসে কোনো ধরনের মিছিল করা যাবে না মর্মে ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায় ঘিরে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ পুলিশের পাশে থাকবে। দেশের জনগণের জানমাল নিরাপত্তার স্বার্থে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করবেন। তিনি বলেন, গায়ে পড়ে কেন দেশে অশান্তি ডেকে আনব? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য রয়েছে- দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালাতে পারে।
তবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি রাস্তায় কোনো ধরনের নৈরাজ্য বা বিশৃঙ্খলা করলে তা ঠেকাতে আওয়ামী লীগ নয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নামবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানমাল রক্ষায় যা যা প্রয়োজন তা তা-ই করবে। আমার বিশ্বাস বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আগামীতে কোনো ধরনের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার কাজে যুক্ত হবে না।
ডিএমপি কমিশনারের দেওয়া ঘোষণায় বলা হয়, বিচারাধীন একটি মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগরীতে কোনো কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অরাজকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা বিঘেœর অপপ্রয়াস চালাতে পারে মর্মে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য, ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্রে জানা যায়।
তবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশকে এখন একটি আদর্শ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করতে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী সক্ষম হয়েছে।
আছাদুজ্জামান মিয়া তার ঘোষণায় জানান, যেহেতু ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন, সেহেতু আমি মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম-বার পিপিএম, পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং- ওওও/৭৬) এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে আগামী ৮ ফেব্রæয়ারি ২০১৮ (বৃহস্পতিবার) সকাল চারটা (ভোর রাত) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সব ধরনের ছড়ি বা লাঠি, ছুরি, চাকু বা ধারালো অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য ও দাহ্য পদার্থ বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করছি।
এদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারা যদি উস্কানি দেয়, হাইকোর্টের সামনে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালানোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের সহযোগিতা করবে। মঙ্গলবার থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সতর্ক আছে বলেও তিনি জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বেগম জিয়া আমাদের শত্রæ নয়। বিএনপিও আমাদের শত্রæ নয়। কিন্তু বিএনপি আমাদের শত্রæ ভাবে। তা না হলে ১৫ আগস্ট খুনিদের মদদ দিত না। ২১ আগস্ট এই ধরনের হামলা করত না। বার বার আমাদের সাথে শত্রæতা করেছে। বিএনপি শত্রæতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি করে। তবে ক্ষমতায় থাকলে কিছু না কিছু ভুল হবেই তা স্বীকার করে তিনি বলেন, তারা ধোয়া তুলসী পাতা- এ দাবিও তারা করেন না।
ক্ষমতাসীন আয়োমী লীগের সাথে তাল মিলিয়ে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর যে কোনো নাশকতা ঠেকাতে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা ও ঢাকার বাইরের বাসস্ট্যান্ডে অন্তত ১৫ হাজার মালিক-শ্রমিক অবস্থান নেবেন।
সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ জানিয়েছেন, গতবারের নাশকতায় পরিবহন মালিকদের অনেক সম্পদ ধ্বংস হয়েছে। এবারও তেমন অপচেষ্টা থাকলে তা প্রতিহত করতে তারা অবস্থান নেবেন। ফুলবাড়িয়া, মহাখালী, সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন টার্মিনালে থাকবেন ১০ থেকে ১৫ হাজার মালিক শ্রমিক। সেখানে বিএনপি-জামায়াত কোনো নাশকতা করে গাড়িতে হাত দিলে তা প্রতিহত করা হবে। ঢাকার বাইরের বাসস্ট্যান্ডগুলোতেও এ ধরনের প্রস্তুতি রাখা হবে।
খন্দকার এনায়েতুল্লাহ আরও বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা অতীতেও আমাদের অনেক গাড়ি জ্বালিয়েছে, পুড়িয়েছে। চোরাগুপ্তা হামলা করেছে। গতবার ১০ হাজারের মতো পরিবহন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। তারা আন্দোলন-সংগ্রাম করবে ভালো কথা, কিন্তু জ্বালাও-পোড়াও করে মালিকদের সম্পদ কেন ধ্বংস করবে।
এরই মধ্যে পুলিশ মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীর প্রায় সবকটি প্রবেশ মুখে তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে। বিভিন্ন গণপরিবহন থামিয়ে যাত্রী সাধারণকে তল্লাশি শুরু করেছে। এসময় যাত্রীদের কাছে তাদের গন্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে যাত্রীদের পরিচয়ও। পাশাপাশি সন্দেহভাজন যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে। এছাড়া মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনও তল্লাশি করা হচ্ছে। চেকপোস্টের কারণে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়েন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা লোকজন।
মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বেগম জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই আয়োজন। রাজধানীর ১৩টি প্রবেশ মুখে একই রকম নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। তারা বলেন, ‘ঢাকার বাইরের কেউ এসে নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে তা হতে দেওয়া হবে না।
ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে এমন যেকোন কর্মকাÐের বিরুদ্ধে তারা শক্তভাবে অবস্থান নেবেন। তার অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, জনগণ আর ২০১৪ সালের মতো আগুন ও পেট্রোল বোমা সন্ত্রাস দেখতে চায় না। এগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্যে যা আইন ও পদ্ধতি রয়েছে তা তারা অনুসরণ করবো।
সাম্প্রতিক গ্রেফতারের বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ প্রধান আবারো বলেন, শুধু বিভিন্ন মামলার আসামিদেরই আইনের আওতায় আনছেন তারা।
গত সোমবার সিলেট সফরে গিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সহিংস কর্মসূচিতে না যেতে শীর্ষ নেতাদের পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ করারও দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.