অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

ঢাবিতে ছাত্রী নিপীড়ন উপাচার্য অবরুদ্ধ: তদন্তে গতি নেই

Print

ঢাবি সংবাদদাতা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনার এক মাস হতে চললেও প্রতিবেদন দেয়নি তদন্ত কমিটি। এছাড়াও ওই ঘটনার দিন প্রক্টরের কার্যালয় ভাঙচুর ও উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও জমা পড়েনি। কবে নাগাদ এসব তদন্ত শেষ হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে বলছেন না কেউই। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, তদন্ত কমিটিকে সময় বেঁধে না দেয়ায় কালক্ষেপণ হচ্ছে। এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, তদন্ত কমিটিকে দলমত নির্বিশেষে পক্ষপাতহীন প্রতিবেদন দিতে হবে। কমিটিকে তদন্তের সময়সীমা সুনির্দিষ্ট করে দেয়া দরকার। বিলম্বিত বিচারে অনেক সময় ন্যায়বিচার হয় না বলে দাবি করেন তিনি।
গত ১৫ জানুয়ারি উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ঘিরে অশোভন আচরণ করে ছাত্রলীগের কিছু নেতা-কর্মী। ১৮ জানুয়ারি অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার আগের দিন নিপীড়নের বিচার চাইতে গিয়ে প্রক্টরের কার্যালয়ের কলাপসিবল গেট ভেঙ্গেছিলেন আন্দোলনকারীরা। ফটক ভাঙার ঘটনা খতিয়ে দেখতেও আরেকটি কমিটি করা হয়। এরপর গত ২৩ জানুয়ারি ফটকের তালা ভেঙে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন আন্দোলনকারীরা। পরে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে নেতা-কর্মীরা উপাচার্যকে মুক্ত করেন। এ ঘটনায় রাতেই আরেকটি তদন্ত কমিটি করা হয়। ওই কমিটি গঠনেরও তিন সপ্তাহ কেটে গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, নিপীড়নের অভিযোগ জানতে তদন্ত কমিটি উন্মোক্ত বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছু অভিযোগ এসেছে। কমিটি সেগুলো খতিয়ে দেখছে।
নিপীড়নের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জিনাত হুদাকে আহŸায়ক করে তদন্ত কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ। জিনাত হুদা বলেন, যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন দেয়া হবে। এর বাইরে আমার আর কিছু বলার নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি সরকারি কলেজের অধিভুক্তি প্রসঙ্গে ঘটনার সূত্রপাত। ১১ জানুয়ারি থেকে কলেজগুলোর অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামে একদল শিক্ষার্থী। ১৫ জানুয়ারি তারা ক্লাস বর্জন করে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। এ নিয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটে। আন্দোলন দমনে ছাত্রলীগ যুক্ত হওয়ায় অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরতদের সঙ্গে যোগ দেন বামপন্থি কয়েকটি ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী ও ডাকসুর দাবিতে আন্দোলনকারীরা। ১৭ জানুয়ারি তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে অবরুদ্ধ করেন। একই দিন প্রক্টর কার্যালয়ের ফটক ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক একটি তদন্ত কমিটি করা হয়।
কমিটির আহŸায়ক ও সহকারী প্রক্টর মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, ২১ ফেব্রæয়ারির আয়োজন উপলক্ষে প্রক্টরিয়াল দলের সবাই ব্যস্ত। তাই চলতি মাসে তদন্ত শেষ করা সম্ভব নয়। উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় গঠিত কমিটির আহŸায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন, তথ্য-উপাত্ত তো সহজলভ্য নয়। সেগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাচাই-বাছাই করার পর তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে। তবে কবে তদন্ত শেষ হবে, সেটি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি তিনি। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি এএসএম মাকসুদ কামাল, সাবেক প্রক্টর এম আমজাদ আলী, সিন্ডিকেট সদস্য নীলিমা আকতার ও সিনেট সদস্য বাহালুল মজনুনও রয়েছেন। কমিটির একাধিক সদস্য বলেন, শিগগিরই কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত না নেয়ার পক্ষে তারা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: