অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরী

তবুও সু চি’র সঙ্গে কথা বলতে চান তিন নোবেলজয়ী

Print

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করে অবিলম্বে মিয়ানমারের নোবেল বিজয়ী অং সান সুচিকে নীরবতা ভেঙে এ বিষয়ে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেল জয়ী তিন নারী ইরানের শিরিন এবাদি, ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান ও যুক্তরাজ্যের ম্যারেইড ম্যাকগুয়ার।
বুধবার হোটেল সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ কথা জানান। গত ২৫ থেকে ২৭ ফেব্রæয়ারি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলো পরিদর্শন করে সেখানকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তারা রোহিঙ্গা গণহত্যা, এ বিষয়ে সুচির নীরবতা, সুচিসহ মিয়ানমারের অন্য সামরিক কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ইত্যাদি বিষয়ে কথা বলেন। এই তিন নারী নোবেল বিজয়ী রাখাইন সফরের আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, আমরা এ বিষয়ে সরাসরি সুচির সঙ্গে কথা বলতে চাই। গণহত্যার বিষয়ে তায়াক্কেল কারমান তার সূচনা বক্তব্যের প্রথমেই বলেন, আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমি গত কয়েকদিন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে যা জেনেছি তাতে পরিষ্কার যে সেখানে গণহত্যা চলছে। শিশু হত্যাসহ নারী ধর্ষণও সেখানে হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন করেন, ‘অং সান সুচি-আমার নোবেল জয়ী বোন এখনও চুপ কেন?’
ম্যারেইড ম্যাকগুয়ার বলেন, আমরা সবাই মানব পরিবারের সদস্য। অং সান সুচি যখন গৃহবন্দি ছিলেন তখন তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী কার্যক্রমের জন্য আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। তার এখন মনে রাখা উচিত, রোহিঙ্গাদেরও মানবিক অধিকার আছে। আন্তর্জাতিক আদালতে এই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার প্রসঙ্গে আইন বিশেষজ্ঞ শিরিন এবাদি বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতে এই বিচার কাজের জন্য দুটি উপায় রয়েছে। একটি হচ্ছে সেই দেশটি যদি আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য হয়ে থাকে তাহলে তাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া যায়, দ্বিতীয়টি হচ্ছে তারা যদি এই সংস্থার সদস্য না হয় তাহলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশক্রমে আন্তর্জাতিক আদালতে এদের বিচার সম্ভব। সুদানের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তারা আন্তর্জাতিক আদালতের সদস্য ছিল না কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপের কারণে সুদানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়ার মিয়ানমারের পক্ষাবলম্বনের বিষয়ে ম্যাকগুয়ার বলেন, তারা অর্থনৈতিক সুবিধার কারণে এর বিরোধিতা করছে। সুচিকে এই তিন নোবেল জয়ী নারী কোনও চিঠি লিখেছেন কিনা বা রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনও আবেদন করেছেন কিনা জানতে চাইলে ম্যাকগুয়ার বলেন, ‘আমরা মিনি স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম, তবে আমরা এখন এখান থেকে ফিরে গিয়ে আরও বিস্তারিত বলবো।’ মিয়ানমার সফর সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই মিয়ানমার সফর করতে চাই এবং রাখাইন যেতে চাই। শিরিন এবাদি বলেন, মিয়ানমার সফরের জন্য আমরা ভিসার অ্যাপ্লাই করবো। তারা যদি আমাদের ভিসা না দেয় তাহলে সেটি মিয়ানমারের জন্য ভুল হবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: