অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

তারা মানুষ হত্যা করে ধর্মকে হেয় করছে: প্রধানমন্ত্রী

Print

অনলাইন ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইসলাম ধর্মকে কলুষিত করার অপচেষ্টাকারী সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদীদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এরাই শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম পালনকারীদের পৃথিবীতে বসবাস কঠিন করে দিচ্ছে। যারা বিপথে যেয়ে খুন-খারাবি করে, মানুষ হত্যা করে আমাদের পবিত্র ধর্মকে হেয়প্রতিপন্ন করছে তাদের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতিকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি বলেন, তারা মানুষ খুন করে কী অর্জন করছে জানি না। কিন্তু আমরা যারা ধর্মটাকে পালন করি তাদের জন্য এই পৃথিবীতে বসবাস করাটা কঠিন করে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল উত্তরার আশকোনা হাজী ক্যাম্পে ‘হজ কার্যক্রম-২০১৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জঙ্গিবাদ সম্পর্কে বলেন, বাবা-মা, অভিভাবক, শিক্ষক থেকে শুরু করে সকলকে যার যার কর্মস্থলে সজাগ থাকার আমি আহŸান জানাচ্ছি। যেন আর কেউ এই বিপথে যেতে না পারে। বাংলাদেশ একটা শান্তিপূর্ণ দেশ। এখানে জঙ্গি-সন্ত্রাসের কোনো ঠাঁই হবে না। আর ইসলাম ধর্মও সে অনুমতি দেয় না। ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন-বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বজলুল হক হারুন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি এডভোকেট সাহারা খাতুন এবং বাংলাদেশে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ এইচ এম আল মুতাইরি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুল জলিল অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।
এ বছর প্রায় ১,০১,৭৫৮ জন হজযাত্রী বাংলাদেশ থেকে এবারের পবিত্র হজ্জে অংশগ্রহণ করবেন। এর মধ্যে ৫২০০ জন হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৯৬,৫৫৮ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ আদায় করবেন। শেখ হাসিনা বলেন, একটি কথা আমি এখানে বিশেষভাবে বলবো- ইসলাম শান্তির ধর্ম। এখানে সন্ত্রাসের কোনো স্থান নেই। আল্লাহর বাণী, আমাদের নবী করিম (সা.)-এর বাণী- সবখানেই এই কথা স্পষ্ট বলা আছে। তিনি বলেন, যখন আমি দেখি কিছু বিপথগামী ঠাণ্ডা মাথায় নিরীহ মানুষ হত্যা করছে তারা মোটেও কোনো ভালো কাজ করছে না। বরং ইসলাম ধর্মকে অন্যের কাছে হেয় করে দিচ্ছে। এ ধর্ম সম্পর্কে মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করছে, ধর্মের বদনাম করাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সব সময় এটাই চাই আমাদের শান্তির ধর্ম ইসলামের মর্যাদা যেন সবসময় সমুন্নত থাকে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম হিসেবে ইসলাম ধর্ম যেন সবসময় তার স্থান করে নিতে পারে সেটাই সবসময় আমার কামনা। তিনি বলেন, আমাদের সরকার সৌদি আরবের সঙ্গে মিলে হাজীদের সুবিধার জন্য যাতায়াতের বিমান, সেখানে বাসা-বাড়ি, ট্রান্সপোর্টসহ সব রকমের উন্নয়নের পদক্ষেপ নিয়েছে। আগে হজ অফিস শুধু জেদ্দায় ছিল সেখানে আমরা মক্কা শরীফে বাংলাদেশ মিশনের সামনেও হাজীদের সুবিধার্থে হজ অফিস নির্মাণ করে দিয়েছি। আমরা ৫ বছর মেয়াদি জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতি প্রণয়ন করে কাজ করে যাচ্ছি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী আশকোনা হাজী ক্যাম্পের উন্নয়নে এবং হাজীদেরও প্রশিক্ষণ প্রদানে তার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী সৌদি বাদশাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, যেহেতু আমাদের এখান থেকে বেশি সংখ্যক লোক হজে যেতে চান তার ব্যবস্থা সৌদি সরকার করে দিয়েছে। এজন্য তাদের কৃতজ্ঞতা জানাই, ধন্যবাদ জানাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের চাইতে হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে এবং সবসময় সব থেকে ভালো অবস্থায় রয়েছে। এজন্য সৌদি হজ মন্ত্রণালয়ও বাংলাদেশের ব্যাপক প্রসংশা করছে এবং ২০১৪ সালে শ্রেষ্ঠ হজ ব্যবস্থাপনার স্বীকৃতি দিয়েছিল।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: