অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ত্রাণমন্ত্রীর

Print

দৈনিক চিত্র রিপোর্ট: বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া। তিনি বলেন, এখন দেশে জাতীয় দুর্যোগ চলছে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় দল-মত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দল, বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর আহŸান জানাচ্ছি। গতকাল সকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহŸান জানান। মায়া বলেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা অন্য কাজে বেশি ব্যস্ত। বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে তো তাদের দেখতে পাচ্ছি না। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ঢাকার কিছু এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ দেয়া আছে। বাকী এলাকায় বন্যার পানি ঢুকলে মানবেতর পরিস্থিতি এড়াতে সকল স্কুল-কলেজগুলোকে আশ্রয়কেন্দ্র করা হবে। এর পাশাপাশি বহু সরকারি প্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া শুধু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ই বন্যা মোকাবিলায় কাজ করবে না। আমাদের সঙ্গে ১৮টি মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন ও ঢাকার আশপাশের এলাকার পৌরসভাগুলোও বন্যা মোকাবিলায় কাজ করবে। ইতিমধ্যে আমরা মন্ত্রণালয়গুলোকে অবহিত করেছি। প্রাথমিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ঢাকা বন্যা কবলিত হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশÑ দেশের মানুষ যেন কোনো ধরনের কষ্টে না থাকে। না খেয়ে কেউ যেন কষ্ট না পায়। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আগেই বিশেষজ্ঞরা চলতি বছর বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। এটি মোকাবিলায় আমরাও আগে থেকেই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। এখন উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণের অভাব নেই। প্রত্যেক জেলায় চাহিদার চেয়েও বেশি খাদ্য, নগদ টাকা ও ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। জেলাপর্যায় থেকে নতুন চাহিদা আসার সঙ্গে সঙ্গেই বরাদ্দ দেয়ার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরকে খাদ্য ও নগদ অর্থ দেয়া রয়েছে। এ পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে ১৩ হাজার মেট্রিক টন চাল, নগদ ৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা দেয়া হয়েছে। এর বাইরে ত্রাণ সামগ্রীর ৮ হাজার প্যাকেট ও পর্যাপ্ত পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্লাবিত জেলাসমূহে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত বন্যা প্লাবিত ১৬ জেলার ৫৯ উপজেলার ৩০৯ ইউনিয়নের ৩,৯৩,৪৯৬ টি পরিবারের ১৪,৭৫,৬১৫ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব মানুষদের আশ্রয় দেয়ার জন্য ৬৯ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এখানে ৭৩৭৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি বলেন প্রয়োজনে আরও আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে এবং বন্যার পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের সেখানে থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। বন্যা প্লাবিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ৩৬৪ টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব/অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে প্রত্যেক জেলার ত্রাণ তৎপরতা মনিটরিং করার জন্য জেলাভিত্তিক একটি করে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। এই কর্মকর্তারা প্রতিদিনের বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। ত্রাণ তৎপরতায় অংশগ্রহণ করবেন এবং প্রতিদিনের প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন। প্লাবিত এলাকার প্রত্যেকটি অভাবি মানুষকে চাহিদামতো ত্রাণ সহায়তা, নগদ অর্থ, আশ্রয় ও চিকিৎসা দিতে চাই আমরা। এসব কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পরিচালনার জন্য সরকার এ মনিটরিং টিম গঠন করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এখনই বন্যা শেষ নয়। উত্তরাঞ্চলের পানি দক্ষিণে নেমে আসার সাথে সাথে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, লক্ষীপুর ও বরিশালসহ নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে পারে। এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। ইতোমধ্যে উত্তরাঞ্চলের পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সাথে সাথে তাদের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট মেরামত ও পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। বন্যায় প্রাণহানির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত বন্যায় বিভিন্ন কারনে ১৪ জন লোক মারা গেছেন। এর মধ্যে রংপুুরে ১ জন, কুড়িগ্রামে ২ জন, গাইবান্ধায় ৪ জন এবং জামালপুরে ৭ জন। সংবাদ সম্মেলনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মো. শাহ্ কামাল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদসহ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: