অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরী

দুর্নীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে ১৩তম

Print

দৈনিক চিত্র প্রতিবেদক:
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। এ তথ্য জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিশ্বের শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম স্থানে। ২০১৭ সালে দুর্নীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৭ তম। ২০১৮ সালে দুর্নীতি বেশি হওয়ায় ৪ ধাপ নিচে নেমে গেছে বাংলাদেশ। দুর্নীতির ধারণা সূচকে ১০০ এর মধ্যে ৪৩ স্কোরকে গড় স্কোর হিসাবে বিবেচনা করলেও ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর ২ পয়েন্ট কমে হয়েছে মাত্র ২৬। টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই স্কোর দুর্নীতির ব্যাপকতায় উদ্বেগজনক।
আজ মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৮ প্রকাশ উপলক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ড. ইফতেখারুজ্জামান।
টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্নীতিতে দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। অবস্থানগতভাবে নিচের দিক থেকে দুই নম্বরে থাকায় তা বিব্রতকর। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন স্কোর হলো উত্তর কোরিয়ার।
অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ভুটান। সূচক অনুযায়ী যার স্কোর ৬৮ ও অবস্থান ২৫। এরপরের অবস্থানে আছে ভারত, শ্রীলংকা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, নেপাল, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান।
জার্মানির বার্লিনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল টিআই ১৮০টি দেশের ওপর এই জরিপ চালিয়েছে। জরিপে ০ থেকে ১০০ নম্বরের স্কেলে দেশগুলোকে নম্বর দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে সবচেয়ে কম ১০ স্কোর পেয়ে শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হয়েছে সোমালিয়া। ১৩ স্কোর পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সিরিয়া ও দক্ষিণ সুদান। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ১৪ স্কোর পেয়ে যথাক্রমে ইয়েমেন ও উত্তর কোরিয়া।
বিপরীতে, ৮৮ স্কোর পেয়ে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে ডেনমার্ক। ৮৭ পয়েন্ট পেয়ে তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, ৮৫ পয়েন্ট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড।
১৮০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৯ নম্বরে। এর আগে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ ছিল ১৪৩ নম্বর অবস্থানে। ২০১৮ সালে একই স্কোর পেয়ে বাংলাদেশের সাথে দুর্নীতিতে সম্মিলিতভাবে ১৩ তম স্থানে রয়েছে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ও উগান্ডা।
সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সভা সমাবেশে গিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার সরকারের জোরালো অবস্থান তুলে ধরছেন। এটা আশার কথা। তবে এ ব্যাপারে দুদককে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, দুদক যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো পদক্ষেপ না নেয় তাহলে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা সম্ভব নয়।
দুর্নীতি কমাতে হলে আর্থিক খাতের অনিয়ম কমাতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম বন্ধে সরকারকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। আমদানি পণ্যের আড়ালে বিদেশে অর্থপাচারের বিষয়ে নজরদারি বাড়াতে হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়েছে । আরেক প্রশ্নে জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, চার্জশিটের আগে সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা যাবে না। এই আইনের সংশোধন করতে হবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: