অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

দেশব্যাপী উন্মুক্ত হলো রাশিয়ান ভ্যাকসিন

Print

অনলাইন ডেস্ক : রাশিয়ার তৈরি প্রথম করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন ডোজ স্পুটনিক-৫ এর প্রথম ব্যাচ দেশের সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। রাশিয়ান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আইএএনএস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্পুটনিক-৫ নামের করোনা টিকাটি কিছুদিনের মধ্যেই রাশিয়ার আঞ্চলিক পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে।

রাশিয়ান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মিখাইল মুরাস্কো আগেই বলেছিলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভ্যাকসিন দেশের মানুষদের উপর প্রয়োগ করা শুরু হবে। তবে যাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি, তাদেরকে টার্গেট করে করোনা টিকা প্রয়োগ করা হবে।

ওদিকে, রাশিয়ান ভ্যাকসিন নিয়ে সমালোচনার অন্ত নেই। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে রাশিয়ার ভ্যাকসিন অনুমোদনের ব্যাপারটি পশ্চিমা বিশ্ব একেবারেই ভালো চোখে দেখে নাই। কারণ হিসেবে তারা রাশিয়ান ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করা করার ব্যাপারটি উল্লেখ করেছে। পশ্চিমা বিভিন্ন মিডিয়ায়ও এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতার ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু গত সপ্তাহে রাশিয়ান বিজ্ঞানীরা তাদের করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন সংক্রান্ত প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় আমাদের টিকা করোনা প্রতিরোধী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাডিমির পুতিন বলেন, আমাদের টিকা প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গেছে। আমার মেয়েও এই টিকা নিয়েছে, তার শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে দেখা গেছে।

রাশিয়ান গবেষকদের বক্তব্য ‘দ্য ল্যানসেট’ এ প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তারা দাবি করেছেন, তাদের দেশের বিজ্ঞানীদের তৈরি করা করোনা টিকা দেহে করোনাভাইরাস বিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম, এবং এই টিকার বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও নেই।

উল্লেখ্য, রাশিয়ান টিকা স্পুটনিক-৫ এর গত জুন ও জুলাই মাসে প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চালানো হয়। কিন্তু তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালানো হয়নি। প্রথম দুইটি পরীক্ষায় ৩৮ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে দুই ডোজ করে টিকা ও বুস্টার দেওয়া হয়। প্রথমবার টিকা দেওয়ার তিন সপ্তাহ পর টিকার কার্যক্ষমতা বাড়ানোর বুস্টার প্রয়োগ করা হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকদের বয়স ছিল ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। তাঁদের ৪২ দিন পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। তিন সপ্তাহের মধ্যে সবার শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে দেখা যায়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: