অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১০ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

দেশব্যাপী বেড়েছে সর্দি-কাশির রোগীর সংখ্যা

Print

স্টাফ রিপোর্টার : নভেম্বরের শুরু থেকেই বাড়ছে জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশির রোগী। ঘরে ঘরে কেউ না কেউ যেন সর্দি কাশিতে আক্রান্ত হয়ে আছেন। আবার করোনা উপসর্গ নেই, তবুও অনেকেই আসছেন সর্দি কাশির চিকিৎসা নিতে। জ্বর সর্দি নিয়ে ভীতি আছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে করোনা পরীক্ষা করানোর কোনো আগ্রহ নেই বলে লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি গলা ব্যথা, শ্বাসনালির সংক্রমণ, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়েও রোগীরা চিকিৎসকদের কাছে যাচ্ছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, সামাজিক বিড়ম্বনা এবং করোনা শনাক্তের পরীক্ষায় জটিলতা এবং অনেক সময়ই ভুল রিপোর্ট প্রদানের কারণেই মূলত কোভিড-১৯ পরীক্ষাতে অনীহা দেখাচ্ছেন রোগীরা।

ঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ বলেছেন, নভেম্বর থেকেই তাদের হাসপাতালে এবং ব্যক্তিগত চেম্বারে করোনার উপসর্গ, সর্দি-কাশির রোগী সংখ্যা বেড়েছে। করোনার পরীক্ষা কম করাচ্ছেন রোগীরা। অর্থনৈতিক কারণে এবং সামাজিক বিড়ম্বনাসহ নমুনা পরীক্ষায় জটিলতা ও আস্থাহীনতার কারণে জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত তেমন কেউ করোনা পরীক্ষায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে তারা ভাইরাসটি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং রোগ ছড়াচ্ছেন। তিনি বলেন, একজন রিকশাওয়ালা চিন্তা করেন পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়লে তার সংসার চলবে কীভাবে। মাস্ক কেনার টাকা কোথায় পাবো? এই ভয়ে অনেকেই উপসর্গ নিয়ে ঘোরাফেরা করেন। তারা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে থাকেন। অনেকে সামাজিক দূরত্ব মানেন না।

এদিকে, ফার্মেসিগুলোতেও উল্লেখজনক হারে বেড়েছে সর্দি কাশি ও জ্বরের ওষুধ বিক্রি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেশিরভাগ রোগী ফার্মেসিগুলো থেকে জ্বর ঠান্ডা এ ধরণের উপসর্গ বলে ওষুধ কিনে সেবন করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ হয়ে যান। ফার্মেসির মালিকরা জানিয়েছেন, সর্দি-কাশি-জ্বরের ওষুধ বিক্রি কয়েকগুণ বড়ে গেছে। যা অবস্থা, তাতে মনে হয় এখন ঘরে ঘরে জ্বর।

ওদিকে, অনেক রোগীই ফার্মেসি থেকে জ্বরের ওষুধ নিয়ে সেবন করার পর জ্বর থেকে সুস্থ হয়ে গেলেও শরীর একেবারে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই দুর্বল শরীর নিয়েই অনেকে বিভিন্ন জায়গায় হাট বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বিষয়টিকে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকেরা। বেশ কয়েকদিন ধরে রাতে ঠাণ্ডা পড়ছে। তাপমাত্রার এ তারতম্যের কারণেই সর্দি-জ্বর বেড়ে গেছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তবে করোনা মহামারির এই সময়ে যে কারণেই সর্দি-কাশি-জ্বর দেখা দিক না কেন, অবহেলা না করে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: