অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

দেশে উপসর্গবিহীন করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে

Print

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম : দেশে উপসর্গহীন করোনা রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। এছাড়াও দেহে করোনা সংক্রমণ দূর হওয়ার পরও করোনা পরবর্তী নানা জটিলতটায় ভুগছেন আক্রান্তদের মধ্যে একটা বড় অংশ। তবে করোনা আক্রান্তদের ৯০ ভাগেরই ইতোপূর্বে সবগুলো টিকা নেয়া আছে।

 

দেশের সাত প্রতিষ্ঠানের একদল গবেষকের ‘নিউ মাইক্রোবস এন্ড নিউ ইনফেকশান’ শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে আসে। করোনার হটস্পট খ্যাত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়নগঞ্জে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে জুুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ২১ জন রোগীর উপর এ গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণা সমন্বয় করেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ডা. এইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. আদনান মান্নান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারহানা আক্তার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ড. মুশতাক ইবনে আয়ুব। তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণ করেন স্বাস্থ্য অর্থনিতিবিদ ও চবির শিক্ষক ড. নঈম উদ্দিন হাছান চৌধুরী। গবেষণা তত্বাবধায়কের দায়িত্বে ছিলেন রোগতত্ববিদ ডা. মো. ওমর কাইয়ুম, ঢাকা মহানগর হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ডা. সানজিদা হোসেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ডা. প্রসূন বিশ্বাস এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবদুর রব মাসুম। গবেষণার সামগ্রিক তত্ত¡াবধানে ছিল ডিজিজ বায়োলজি এন্ড মলিকুলার এপিডেমিওলজি রিসার্চ গ্রুপ চট্টগ্রাম।

 

গবেষণায় বলা হয়, আক্রান্তদের ৭৫ শতাংশই পুরুষ। এর মধ্যে ৩০ শতাংশের বয়স ৩০-৩৯ বছর। আক্রান্তদের মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি রোগীর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ডি ডাইমার এবং ফেরিটিন বেড়ে যায়। কভিড থেকে সুস্থ হওয়ার চার সপ্তাহ পরেও আক্রান্তদের এক চতুর্থাংশের মধ্যে ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতা, বিষণœতা ও নিরবিচ্ছিন্ন, ঘুম বাধাগ্রস্ত হতে দেখা গেছে। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রতিমাসে উপসর্গহীন রোগীর সংখ্যা প্রায় দেড়গুণ করে বেড়েছে। কভিড-১৯ আক্রান্তদের ৯০ ভাগেরই ইতোপুর্বে সবগুলো টিকা নিয়েছেন। সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হয়েছে বি পজেটিভ (৩৬ শতাংশ) এবং ও পজেটিভ (২৯ শতাংশ) বøাড গ্রæপের রোগীরা। উপসর্গযুক্ত রোগীদের মধ্যে অর্ধেকেরই ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। ৭০ ভাগ রোগীর চিকিৎসাতেই অ্যাজিথ্রোমাইসিন বা জিম্যাক্স এবং ৪৫ ভাগের ক্ষেত্রে ডক্সিসাইক্লিন ব্যবহৃত হয়েছে। কভিডের পূর্বে যারা দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ গ্রহণ করছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে কভিড পরিবর্তি জটিলতা দেখা যাচ্ছে। ১০ দশমিক ১১ শতাংশ রোগী উপসর্গবিহীন ছিল। এছাড়াও যাদের দীর্ঘমেয়াদী রোগ আছে, যেমন ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগ তাদের কভিডে আক্রান্ত হওয়ার হার এবং কভিড পরবর্তি জটিলতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেশি পাওয়া গেছে।

গবেষকদলের প্রধান ডা. হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, গবেষণায় কভিড-পরবর্তী প্রতিক্রিয়াকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। দেখা গেছে দীর্ঘমেয়াদী রোগে ভোগা মানুষরাই বেশি ঝুঁকির মুখে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পর্যবেক্ষণের সঙ্গে আমাদের এই গবেষণাফল সামঞ্জস্যপূর্ণ। এছাড়া গবেষণায় কভিডপরবর্তী জটিলতার যে চিত্র পাওয়া গেছে তা ভবিষ্যতে এ রোগ থেকে সেরে ওঠা মানুষজনের অন্যান্য রোগের ধরন অনুসরণে সহায়ক হবে।’

 

 




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: