অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৩ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই জমাদিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

দেশে নদী দখলদারের সংখ্যা ৬৩ হাজার

Print

স্টাফ রিপোর্টার : সারা দেশে নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চললেও দেশের নদী দখলদারের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২০ সালে দেশে নদী দখলদারদের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬৩ হাজার ২৪৯ জন, যা আগে ছিল ৫৭ হাজার ৩৯০ জন। মঙ্গলবার এক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।

 

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়,

প্রতিটি বিভাগেই পেশি শক্তি ও প্রভাব বিস্তার করে নদীর মধ্যে বা ফোরশোরে বড় বড় কিছু অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বারবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও ওইসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা যায়নি। এমনকি সরকারি স্থাপনাও সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। করোনাভাইরাস সংক্রমণ এবং লজিস্টিক ও অর্থ সংকটের কারণে নদী দখলদারদের উচ্ছেদ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়।

 

রাজধানীর পল্টন এলাকায় অবস্থিত জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের অস্থায়ী কার্যালয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সরাসরি ও জুম দুইভাবে বক্তারা এ অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

 

অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেছেন নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। সভা চলাকালে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক সচিব এএসএম আলী কবীরকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। তবে সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করার জন্য ড. মুজিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।

 

সভায় তিনি বলেন, আমরা ২০১৯ সালের নদী দখলদার ও উচ্ছেদের প্রতিবেদন প্রকাশ করছি। ওই বছর নদীর দখলদার ৫৭ হাজার ৩৯০ জন। এরমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৫৭৯ জনকে। যা নদী দখলকারীর ৩২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ২০২০ সালের তথ্য এখনো পুরোপুরি সংগ্রহ করা হয়নি। এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে যে তথ্য পেয়েছি তাতে সারা দেশের নদী দখলদারের সংখ্যা ৬৩ হাজার ২৪৯ জন। তিনি বলেন, নদী দখলদার চিহ্নিত করার কাজ অব্যাহত থাকবে।

 

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলেও তাদেরকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিষয়ে যে প্রস্তাব এসেছে তা নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নদী উদ্ধারের পক্ষে রয়েছেন।

 

প্রতিবেদনটিতে আরো উল্লেখ করা হয়, পুরো দেশের মধ্যে শুধুমাত্র ঢাকা বিভাগেই নদীর অবৈধ দখলদারের সংখ্যা ৮ হাজার ৮৯০ জন। এর মধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে মাত্র ১৪৫২ জনকে। চট্টগ্রামে দখলদারের সংখ্যা ৪ হাজার ৭০৪ জন। এরমধ্যে উচ্ছেদ করা হয়েছে ২৩০ জনকে। খুলনায় নদী দখলদার রয়েছেন মোট ১১ হাজার ২৪৫ জন। এদের মধ্যে উচ্ছেদের আওতায় এসেছেন মাত্র ৭৯৩ জন। সিলেটে ২ হাজার ৪৪ জন দখলদারের বিপরীতে উচ্ছেদ করা হয়েছে ৫৭৬ জন। ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোতে চার হাজার ৮৪৮ জন নদী দখলদারের মধ্যে এক হাজার ৭০৭ জনকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের নদীগুলোতে দুই হাজার ৭৬০ জন দখলদার রয়েছে। এর মধ্যে ৮১৩ জনকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের দুই হাজার ৬৯৩ জন দখলদারের উচ্ছেদ করা হয়েছে ৪১ জনকে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: