অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

দেশ ও মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী

Print

দৈনিক চিত্র রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছি। আমরা দেশকে স্বাধীনতা দিয়েছি। গণতন্ত্র দিয়েছি। জাতীয় সরকার গঠন করে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি। ভাষণে দেশের উন্নয়নে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বর্তমান সরকারের ক্ষমতাগ্রহণের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আশাবাদী মানুষের দেশ। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করবো। আমরা আপনাদের (দেশবাসী) সর্বাত্মক সহযোগীতা চাই। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নে ঐতিহাসিক দিন সন্ধিক্ষণের ধারে। আসুন দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে উন্নয়ন অব্যাহত রাখি। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করি। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের জাতি আমরা, কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবে না। আমরা বিশ্ব সভার মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবই। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়বোই ইনশাআল্লাহ্।

তিনি বলেন, দেশ যখন নানা সম্মানে ভূষিত হচ্ছে তখন বিএনপি-জামায়াত গণতন্ত্র রক্ষার নামে দেশ জুড়ে একাত্তরের মতো বর্বর হামলা চালিয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের গণতন্ত্র ও উন্নয়ন সহ্য হয় না। সরকার ও জনগণের প্রতিরোধের ফলে ৯২ দিন পর বিএনপি নেত্রী নাকে খত দিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, ২০১৮ সালের মধ্যে এই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে।

তিনি বলেন, যোগাযোগ খাতে আমরা ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। ঢাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ চলছে। প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নিজস্ব অর্থায়নে দেশের ইতিহাসের বৃহত্তম নির্মাণ প্রকল্প পদ্মাসেতুর কাজ চলছে। ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মাসেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে।

ঢাকায় হাতিরঝিল প্রকল্প, কুড়িল-বিশ্বরোডে উড়াল সেতু, বনানী ওভারপাস, মেয়র হানিফ উড়াল সেতু, টঙ্গীতে, চট্টগ্রামে উড়াল সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসেতুর নির্মাণ কাজ অচিরেই শেষ হবে। এছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের কাজ দ্রুতই উদ্বোধন করা হবে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর লক্ষ্যে দেশে ১০০ বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করতে পেরেছি। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৪ হাজার ৭৭ মেগাওয়াট। ১২ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে। ২০১৫ সালে গ্যাস উৎপাদন গড়ে দৈনিক ২ হাজার ৭২৮ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে।

মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে কোনো কটাক্ষ সহ্য করা হবে না। যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে তাদের ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি দল ও তার নেত্রী মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। এ ধরনের মন্তব্য করে তিনি ৩০ লক্ষ শহীদদের অপমান করেছেন। আমি এ ধরনের ঘৃণ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। যারা ইতিহাস বিকৃত করে তাদের ইসিহাসের আস্তকুড়ে নিক্ষেপ করা হবে।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচন অতীতের যেকোনো নির্বাচন থেকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। জনগণকে ধন্যবাদ জঙ্গি ও বোমাবাজদের ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ঝুঁকি ভাতা দেয়া হচ্ছে। বিএনপি জোট সরকার তাদের আমলে ২৭টি পাটকল বন্ধ করেছিল। আমরা সব চালু করেছি। আমরা মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকে ভাতা প্রদান করছি। এতে করে প্রতি মাসে ২১০ কোটি টাকার ভাতা প্রদান করছে এ সরকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের সরকার হিজড়া সম্প্রদায়কে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। অনগ্রসর জনগণকে আর্থ উন্নয়নের সঙ্গে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছে। সাংবাদিক কল্যাণে এ পর্যন্ত ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক খাতে অভুতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শেষ পর্যায়ে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পানা হাতে নিয়েছি। অচিরেই ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবো। শিশু মৃত্যুর হার কমে গেছে। নারী ক্ষময়তানে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হয়েছে।’




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: