অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ১৯শে রমযান, ১৪৪০ হিজরী

দ্বিতীয় টেস্টে জয়ের প্রত্যয়ে মাঠে নামবে টাইগাররা

Print

স্পোর্টস রিপোর্টঅর : ঘরের মাঠে টাইগারদের সঙ্গে লড়াইয়ে লঙ্কান সিংহরা। উপমহাদেশের দুই দেশের ক্রিকেট পরাশক্তি সিরিজ জয়ের মিশনে মাঠে নামবে আজ। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দলগুলো যখন উপমহাদেশে, বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কায় খেলতে আসে, তখন তাদের প্রধান দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় এখানকার স্পিনাররা। ঢাকার মাঠেই ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া হেরেছে মূলতঃ স্পিনারদের সামনে কাবু হয়েই। ভারতে গিয়ে তো অন্যরা স্পিনারদের সামনে দাঁড়াতেই পারে না। শ্রীলঙ্কায়ও প্রায় একই অবস্থা। বছর দেড়েক আগে শ্রীলঙ্কায় ৩-০ ব্যবধানে হেরেছে অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেট পরাশক্তি।
কিন্তু লড়াইটা যদি উপমহাদেশের দুই দেশের মধ্যে হয়- তাহলে তো কথাই নেই। নিশ্চিত স্পিনারদের স্বর্গভূমিতে পরিণত হয় উইকেট। দুই দলেই স্পিনের আধিক্য। টক্কর লাগে মূলত স্পিনারদের মধ্যেই। শেষ পর্যন্ত সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতে পারে যে দল, তাদের গলাতেই ওঠে জয়ের মালা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের হোম সিরিজেও প্রায় একই অবস্থা। দুই দলেই স্পিনারদের আধিক্য। যদিও চট্টগ্রাম টেস্টের উইকেট ছিল পুরোপুরি ব্যাটিং বান্ধব। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৫১৩ রান করার পর শ্রীলঙ্কা করলো ৭১৩ রান। স্পিনাররা খুব বেশি কিছু করার সুযোগ পাননি। দ্বিতীয় ইনিংসেও লঙ্কান স্পিনাররা ব্যর্থ হয়েছে মুমিনুল হক এবং লিটন দাসের সামনে। জুটি ভাঙতে পারেননি। ফলে টেস্ট হয়েছে ড্র।
ঢাকায়ও সেøা এবং লো ট্র্যাক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যে উইকেটে খেলা হবে, সে উইকেট দেখে বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা দুই দেশের অধিনায়কই জানিয়েছেন, এটা হবে স্পিন সহায়ক উইকেট। এখানে স্পিনাররাই বেশি সহায়তা পাবে এবং দু’জনই একই সঙ্গে জানিয়েছেন, এই টেস্টে রেজাল্ট হবেই।
চট্টগ্রাম টেস্টে ‘স্পিন-স্পিন’ আওয়াজ উঠলেও শেষ পর্যন্ত দেখতে হয়েছে ব্যাটিং-স্বর্গ, যেখানে শুধুই ব্যাটসম্যানদের খবরদারি! মিরপুরেও তেমনটা হবে না তো? ২০১৬ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ড ও গত আগস্টে অস্ট্রেলিয়া-সিরিজে ব্যাটসম্যানদের জন্য যে ‘মাইনফিল্ড’ তৈরি করা হয়েছিল, এবারও নাকি তেমনটিই হওয়ার সম্ভাবনা!
বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহর মতে, উইকেট হবে ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন। ‘পিচ শুষ্ক মনে হলো। সাধারণত আমরা ঢাকায় যে ধরনের উইকেট দেখতে পাই, সেটাই। ত্রিদেশীয় সিরিজেও দেখবেন বোলারদের জন্য বেশ সহায়ক ছিল। ঢাকার উইকেটে কিছু না কিছু সহায়তা থাকে বোলারদের। ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।’
শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক দিনেশ চান্ডিমালের পর্যবেক্ষণও অনেকটা এক। মিরপুরের উইকেট স্পিনারদের দিকেই হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অপেক্ষায়, ‘যদি উইকেটের দিকে তাকান নিশ্চিত এ টেস্টে ফল আসবে। স্পিনাররা অবশ্যই দাপট দেখাবে। দুই দলের জন্যই এটা চ্যালেঞ্জিং। চট্টগ্রামের মতো এটা হবে না।’
সেটিই যদি হয় চান্ডিমালের ‘রঙ্গনা আইয়া’র চোখজোড়া নিশ্চয়ই চকচকিয়ে উঠছে! শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক সংবাদ সম্মেলনে আসার পথে বোঝাচ্ছিলেন সিংহলা ভাষায় আইয়া মানে বড় ভাই। ‘মালি’ মানে ছোট ভাই। মালি (চান্ডিমাল) হিসেবে তাঁর আইয়ার (হেরাথ) কাছে নিশ্চয়ই দাবি থাকবে, সে যেন ঘূর্ণিতে ধসিয়ে দেয় বাংলাদেশের ব্যাটিং!
কিন্তু চাইলেই তো আর ধসিয়ে দেওয়া যায় না। বধ্যভূমিতে কীভাবে ব্যাটিং করতে হয় সেটি ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দেখিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার তুলনায় উপমহাদেশে শ্রীলঙ্কার স্পিন আক্রমণ নিশ্চয়ই ঢের এগিয়ে। হেরাথের মতো অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনারকে সঙ্গ দেবেন দিলরুয়ান পেরেরা ও ‘চায়নাম্যান’ ল²ণ সান্দাকান।
বাংলাদেশ কি পারবে শ্রীলঙ্কার এই ঘূর্ণিত্রয়ীকে সামলাতে? মাহমুদউল্লাহ প্রতিপক্ষকে সম্মান করছেন, একই সঙ্গে সতীর্থ ব্যাটসম্যানদেরও এগিয়ে রাখছেন, ‘তাদের প্রতি সম্মান রাখতে হবে। হেরাথ খুব অভিজ্ঞ, দিলরুয়ান খুব ভালো মানের স্পিনার। তাদের সে রকম কোয়ালিটি আছে বলেও ব্যাটসম্যানদের তারা ব্যাটিং পিচেও ভোগাতে পারে। একই সঙ্গে আমাদের ব্যাটসম্যানরাও যথেষ্ট স্কিলফুল। দিনে দিনে আমাদের ব্যাটিং বিভাগ আরও ভালো হচ্ছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে মাঠে কীভাবে পরিকল্পনাগুলো প্রয়োগ করতে পারি।’
শ্রীলঙ্কার স্পিনাররা বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের যতটা পরীক্ষা নেবে, সাকিববিহীন বাংলাদেশ স্পিন বিভাগ কতটা কী করতে পারবে-এ নিয়ে ভাবনা আছে। বাংলাদেশ দলের এক স্পিনার অনুশীলন শেষে আশার কথাই শুনিয়ে গেলেন। সাত ব্যাটসম্যান, তিন বিশেষজ্ঞ স্পিনারের সঙ্গে এক পেসার-চট্টগ্রামের মতো মিরপুরেও একই সমন্বয়ে নামার সম্ভাবনাই বেশি বাংলাদেশ দলের। পরিবর্তন হতে পারে শুধু এক-দুটি নাম। সাকিব আল হাসান না থাকায় অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের স্পিন বিভাগ শ্রীলঙ্কার চেয়ে একটু পিছিয়ে থাকলেও ঝুঁকিটা তারা নিচ্ছে। নিচ্ছে সাহস থেকে। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মতো এবারও বাংলাদেশ ফল চায়। ফল মানে নিশ্চয়ই হার নয়!
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, এখানে নিষ্ফলা টেস্টের সংখ্যা খুবই কম। ‘হোম অব ক্রিকেটে’ এ পর্যন্ত ১৬টি টেস্টের ১৩টিই নিষ্পত্তি হয়েছে, ড্র মাত্র তিনটি। বাংলাদেশও তিনটি টেস্ট জিতেছে মিরপুরে। শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সর্বশেষ দুই টেস্টে ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয় পেয়েছিল টাইগাররা। মিরপুরে ‘রেজাল্ট’ আসার সম্ভাবনাকে স্বাগতই জানাচ্ছেন সাকিবের অনুপস্থিতিতে টাইগারদের নেতৃত্ব দেওয়া মাহমুদউল্লাহ, ‘ঢাকায় বেশিরভাগ সময় টেস্টে রেজাল্ট আসে। এটা একটা ভালো দিক। আপনি চ্যালেঞ্জ নিতে পারলে, স্কিল কাজে লাগাতে পারলে রেজাল্ট আপনার পক্ষে যাবে, আর ভুল করলে প্রতিপক্ষ এগিয়ে যাবে।’
তবে মিরপুরের একটা ‘সমস্যা’ দুই দলকে সমস্যায় ফেলতে পারে। শেরে বাংলার উইকেট যেন ব্যাটসম্যানদের জন্য বধ্যভূমি! শেষ দুই টেস্টের কথাই ধরা যাক। ২০১৬ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচে চার ইনিংস মিলে রান হয়েছিল ৯২৪। তিন দিনেই শেষ হওয়া ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতেছিল ১০৮ রানে। আর গত আগস্টে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া লড়াইয়ে উঠেছিল ৯৪২ রান। চতুর্থ দিন লাঞ্চের ঠিক পরেই শেষ হওয়া শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে স্বাগতিকরা পেয়েছিল ২০ রানের জয়। ‘এবারও কি লো স্কোরিং উইকেট হবে?’ প্রশ্নে মাহমুদউল্লাহ বলেন, ‘উইকেট দেখে শুষ্ক মনে হচ্ছে। মিরপুরের উইকেট সাধারণত এমনই হয়। বোলাররা সাহায্য পেলেও এখানকার উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। তবে ব্যাটিং অ্যাপ্লিকেশনের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমে এখানে বড় স্কোর গড়া সম্ভব।’




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.