অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ

Print

স্পোর্টস ডেস্ক: দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। আধুনিক বিশ্বে এমন মর্যাদাটা অলিম্পিক গেমসের। বিশ্ব ক্রীড়ার এ মহাযজ্ঞ প্রথমবার মঞ্চস্থ হয় ১৮৯৬ সালে। তবে এর একেবারে প্রথম মঞ্চায়নটা তারও অনেক আগে। প্রাচীন গ্রিসে অলিম্পিক গেমস আয়োজন হচ্ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৮০০ সাল থেকে ৪০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। আদতে যুদ্ধপরায়ন গ্রিকদের ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে আবির্ভাব ঘটে প্রাচীন অলিম্পিক গেমসের। আধুনিক অলিম্পিকের ভাবনা মাথায় খেলে ফরাসি ক্রীড়া সংগঠক ব্যারন পিয়ের দা কুবার্তিনের। ১৮৯৪ সালে প্রতিষ্ঠা পায় আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি। আর আধুনিক অলিম্পিক গেমস প্রথমবার আলো দেখে ১৮৯৬ সালে। গ্রিসের প্যানাথিনাইক স্টেডিয়ামে এ আসর মঞ্চস্থ হয় ১৪টি দেশের অংশগ্রহণে। ৪৩টি ইভেন্টে এতে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেন বিশ্বের ২৪১ জন ক্রীড়াবিদ। তবে কালক্রমে তা রূপ নিয়েছে মহাযজ্ঞে। ব্রাজিলের রিওডি জেনিরোতে কাল ভোরে পর্দা উঠছে ৩১তম অলিম্পিক গেমসের। ২০১৬ অলিম্পিক গেমসে অংশ নিচ্ছে রেকর্ডসংখ্যক ২০৬টি দেশ। প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে অংশ নিচ্ছে কসোভো ও দক্ষিণ সুদান। ৪২ ডিসিপ্লিনের ৩০৬ ইভেন্টে এবার প্রতিদ্ব›িদ্বতা করবেন রেকর্ড ১১২৩৯ জন অ্যাথলেট। খেলা হবে রিওডি জেনিরোর পৃথক ৩৭টি ভেন্যুতে।
শুরুর দিকে অলিম্পিকে সুযোগ পাচ্ছিলেন কেবল অপেশাদার ক্রীড়াবিদরা। তবে বিশ্বজুড়ে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও প্রযুক্তির বিবর্তনের সঙ্গে কালক্রমে বদলেছে অলিম্পিক গেমসের চেহারা। ক্রীড়া বাণিজ্যের যুগে এখনকার অলিম্পিক গেমসের প্রধান আকর্ষণ পেশাদার খেলোয়াড়রাই। আর যুগে যুগে অলিম্পিক গেমসে রচিত হয়েছে নতুন ইতিহাসও।
প্যারিস ১৯০০: প্রথমবার নারী অ্যাথলেট
অলিম্পিকে প্রথমবার নারী অ্যাথলেটদের খেলতে দেখা যায় ১৯০০ সালে প্যারিসে। কেবল লন টেনিস ও গলফ খেলার সুযোগ পায় নারীরা। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে রচিত হয় ইতিহাস। প্রথমবারের মতো নারী খেলোয়াড়দের সুযোগ দেয়া হয় অলিম্পিকের বক্সিংয়ে। অলিম্পিক ইতিহাসে প্রথবারের মতো অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশের স্কোয়াডে দেখা যায় নারী অ্যাথলেটদের অন্তর্ভুক্তি।
বার্লিন ১৯৩৬: রেকর্ড ভাঙলেন ওয়েন্স
জার্মান শাসক হিটলারের ‘আর্য’ মতবাদের উদাহরণ ছিল এ আসর। কিন্তু বিশ্বকে চমকে দিলেন কৃষ্ণকায় অ্যাথলেট জেসে ওয়েন্স। বিশ্ব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে আফ্রো-আমেরিকান এ অ্যাথলেট কুড়ালেন একাধিক শিরোপা। আর শেষে বার্তা দেন পরাক্রমশালী হিটলারের নাৎসি ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে। জার্মান লং জাম্পার লুজ লংয়ের হাতে হাত রেখে স্টেডিয়ামের ল্যাপ অব অনারে অংশ নেন জেসে ওয়েন্স।
লন্ডন ১৯৪৮: হুইল চেয়ার অ্যাথলেট
ইংলিশ ডাক্তার লুডউইগ গাটম্যান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আহত সেনাদের নিয়ে প্রথমবার আয়োজন করেন হুইলচেয়ার গেমস। ক্রীড়া থেরাপির মাধ্যমে তিনি প্রস্তুত করতেন এমন খেলোয়াড়দের। কালক্রমে এ আসর রূপ নিয়েছে অধুনা প্যারালিম্পিক গেমসে।
রোম ১৯৬০: টেলিভিশন ও স্ক্যান্ডাল
বিশ্বজুড়ে দর্শকরা প্রথমবার টেলিভিশনে উপভোগ করেন অলিম্পিক গেমস। বাণিজ্যিক স্পর্শে বদলে যায় অলিম্পিক গেমসের চেহারা। অ্যাথলেটদের স্পন্সর প্রথার শুরু রোম অলিম্পিক থেকেই। এ আসরেই প্রথমবার উন্মোচিত হয় অ্যাথলেটদের ডোপ পাপের ঘটনা।
মেক্সিকো সিটি ১৯৬৮: সামাজিক আন্দোলন
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবল সামাজিক আন্দোলনের মুখে কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের অলিম্পিক গেমস বর্জনের জন্য চাপ দেয়া হচ্ছিল। তবে খেলোয়াড়রা প্রতিবাদী ঘটনা দেখান ভিন্ন ভঙ্গিতে। পদক বিতরণী পোডিয়ামে জাতীয় সঙ্গীত বাজার সময় শূন্যে প্রতীকী ঘুষি ছুড়ে দেন মার্কিন আফ্রো-আমেরিকান স্প্রিন্টার জন কার্লোস ও টমি স্মিথ। এতে তাদেরকে গেমসের ভিলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
মিউনিখ ১৯৭২: রক্তে রঞ্জিত অলিম্পিক
নিরাপত্তা ইস্যুতে নতুন মোড় নেয় অলিম্পিক গেমস। মুক্তিকামী ফিলিস্তিনিরা আসর থেকে অপহরণ করে ইসরাইলের ১১ জন অ্যাথলেটকে। পরে হামলাকারীদের আঘাতে প্রাণ হারান খেলোয়াড়রা।
মন্ট্রিল ১৯৭৬: আফ্রিকান নেশনসের বয়কট
রাজনীতির ধাক্কা খায় অলিম্পিক গেমস। বর্ণবৈষম্যের কারণে বিশ্ব ক্রীড়ায় নিষেধাজ্ঞা পোহাচ্ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু এমন অবস্থা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যায় নিউজিল্যান্ড রাগবি ফুটবল দল। এতে অলিম্পিক গেমসে নিউজিল্যান্ডের নিষেধাজ্ঞা দেখতে চাইছিল আফ্রিকার দেশগুলো। কিন্তু গেমসের আয়োজকরা তেমন পদক্ষেপ না নেয়ায় মন্ট্রিল অলিম্পিক গেমস বর্জন করে আফ্রিকার ২২টি দেশ। রাজনৈতিক কারণে অলিম্পিক গেমস বর্জনের এটিই প্রথম ঘটনা।
মস্কো ১৯৮০: মার্কিন বয়কট ও বিকল্প আসর
যুক্তরাষ্ট্র-সোভিয়েত ইউনিয়নের শীতল যুদ্ধের কবলে অলিম্পিক গেমস। আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের প্রতিবাদে মস্কো অলিম্পিক বর্জন করে যুক্তরাষ্ট্র। অলিম্পিক গেমস চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার স্বদেশি ক্রীড়াবিদদের জন্য ফিলাডেলফিয়ায় আয়োজন করেন ‘লিবার্টি বেল ক্ল্যাসিক’ নামে বিশেষ আসর।
বার্সেলোনা ১৯৯২: পেশাদার ‘এনবিএ’
১৯৯২ অলিম্পিক গেমসে যুক্তরাষ্ট্র বাস্কেটবল দল পাচ্ছিল ‘ড্রিম টিম’-এর মর্যাদা। প্রথমবারের মতো পেশাদার বাস্কেটবল তারকাদের খেলতে দেখা যায় অলিম্পিকে। মাইকেল জর্ডান, চার্লস বার্কলিদের যুক্তরাষ্ট্র আসরে টানা ৮ জয় নিয়ে কুড়ায় শিরোপার গৌরব।
আটলান্টা ১৯৯৬: আলীর ছোঁয়ায় শতবর্ষপূর্তি
পারকিনসন রোগে আক্রান্ত চ্যাম্পিয়ন বক্সার মোহাম্মদ আলীই পেলেন অলিম্পিক চুল্লি প্রজ্বলনের সম্মান। এটা ছিল অলিম্পিক গেমসের ১০০ বছর পূর্তি।
সিডনি ২০০০: কোরিয়ার উত্তর-দক্ষিণ মেলবন্ধন
তাদের এমন মেলবন্ধন দেখা গিয়েছে কমই। সিডনি অলিম্পিক গেমসের মার্চপাস্টে একত্রে অংশ নেন উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যাথলেটরা। মার্চ পাস্টে দু’দেশের আলাদা পতাকার বদলে বহন করা হয় কোরিয়ার ম্যাপ আঁকা একটি বিশেষ পতাকা।
অ্যাথেন্স ২০০৪: মেডেলের নকশা বদল
ইতালিয়ান ভাস্কর জিউসেপ্পে কাসিওলির নকশাকৃত মেডেল অলিম্পিকে চলছিল যুগযুগ ধরে। কিন্তু ওই মেডেলের নকশায় ত্রæটি দেখতে পান গ্রিকরা। মেডেলে গ্রিক ভেন্যুর বদলে ভুলক্রমে রোমান কোলোশিয়ামের ছবি আঁকা হয়েছিল। ২০০৪ অলিম্পিকের মেডেলের নতুন নকশায় আঁকা হয় অ্যাথেন্সের প্যানাথিনাইকো স্টেডিয়ামের ছবি। যা ছিল প্রথম অলিম্পিক গেমসের ভেন্যু।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: