অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৭ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী

নতুন অস্ত্র নিয়ে আসছেন রুবেল

Print

স্পোর্টস রিপোর্টার: অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে তাসকিন আহমেদ নিষিদ্ধ। ইংল্যান্ড সিরিজে খেলতে হলে তাকে আইসিসির কাছে পরীক্ষা দিয়ে ছাড়পত্র নিতে হবে। ক্রিকেট বিশ্বের নয়া পেস সেনসেশন মোস্তাফিজকে যেতে হচ্ছে ছুরির নিচে। দলের অধিনায়ক ও পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজার ইনজুরি বলে কয়ে আসে না। এমন অবস্থায় দলের পেস আক্রমণে ভরসা হতে পারেন তরুণ আল আমিন হোসেনের সঙ্গে অভিজ্ঞ রুবেল হোসেন। কারাভোগ করেও ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে হয়েছেন জয়ের নায়ক। এরপর বেশ কিছুদিন ইনজুরিতে পড়ে খেলা হয়নি জাতীয় দলে। আর ফিটনেস ট্রেনিং ও রিহ্যাবে গাফলতি করার অভিযোগে বিসিবির শাস্তিও পেতে হয়েছে। কিন্তু রুবেল এই চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে বারবারই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এবারও সুযোগের অপেক্ষাতে তিনি। তাই প্রথম নজর দিয়েছেন ফিটনেসের উন্নতিতে। গতকাল সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি অনেকদিন ইনজুরিতে ছিলাম। ক্যাম্পের মাধ্যমে চেষ্টা করছি ফিটনেসটা আরো বাড়িয়ে নিতে। নির্বাচকরা পছন্দ করলে হয়তো সামনের টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাবো। সেখানে সুযোগ পেলে আমি আমার সেরা খেলাটা খেলার চেষ্টা করবো।’
রুবেল হোসেন জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন গত বছরের জুনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এরপর ভারতে ‘এ’ দলের হয়ে সফরে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েন তিনি। ওই ইনজুরি কাটিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বিপিএল খেলতে মাঠে নামেন তিনি। সেখানে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় আবারও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ফিরতে হয় রুবেল হোসেনকে। পুরোপুরি ফিট হয়ে সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে মাঠে নামেন। শুরুতে তেমন সফলতা না পেলেও সবমিলিয়ে ঢাকা লীগে ১৫ ম্যাচে ১৯ উইকেট নেন। ইঙ্গিত দেন ফের মাঠ কাঁপানোর। সেই সুবাদে ইংল্যান্ড সিরিজকে সামনে রেখে বিসিবি ঘোষিত ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দলে ডাক পান তিনি। নিজের বোলিংয়ের উন্নতি নিয়ে রুবেল বলেন, ‘আমার মূল শক্তি জোরে বোলিং করা। ইয়র্কার আমার মূল শক্তির জায়গা। মূলত আমি আমার বোলিংয়ে পেস বাড়ানোর জন্য অনেক হার্ডওয়ার্ক করছি। আমার কাছে মনে হয়নি গতি খুব একটা কমেছে। সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে আমার কাছে মনে হয়েছে আমি আমার স্বাভাবিক গতিতে বোলিং করেছি।’
শুধু নিজের গতি নয়, ধার বাড়াতে সুইং নিয়ে কাজ করছেন। সুইং নিয়ে পরামর্শ নিতে তিনি দ্বারস্থ হবেন আকিব জাভেদের। বর্তমানে পাকিস্তানের সাবেক এই বোলার বাংলাদেশে রয়েছেন। সাতদিনের জন্য এসেছেন হাইপারফরম্যান্স ইউনিটের তরুণদের পেস বোলিং পরামর্শক হিসেবে। তবে নিজের সংক্ষিপ্ত সফরের শেষ দুই দিন কাজ করবেন জাতীয় দল নিয়েও। সেখানে মাশরাফি, রুবেল, তাসকিনসহ সাতজন পেসার সুযোগ পাবেন। রুবেল বলেন, ‘পাকিস্তানি বোলাররা ¯øগ ওভারে দারুণ বল করে থাকে। ওই সময় তারা প্রচুর রিভার্স সুইং দিতে পারে। বোলিংয়ে অনেক বৈচিত্র্য থাকে। আমি আকিবের কাছে এই জিনিসটা একটু শেয়ার করবো। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার থাকবে। এটা আমার জন্য হয়তো ভালো কোনো টিপস হতে পারে।’
নিজের ভিন্ন মাত্রার বোলিং অস্ত্র ‘বাটারফ্লাই’ নামক ডেলিভারি দেয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। দুই আঙুলের মাঝখানে বল রেখে ডেলিভারি দেয়ার সময় বলটি একটু ¯েøা হয়ে ব্যাটসম্যানদের দিকে যাবে। মূলত এটাকেই ‘বাটারফ্লাই’ বলে। নিজের এই নতুন অস্ত্র নিয়ে বলেন, ‘এটা আমি অনেকদিন ধরেই চেষ্টা করছি। আমি সাইড আর্ম অ্যাকশনের বোলার, এজন্য একটু সমস্যা হচ্ছে। চেষ্টা করছি নতুন কিছু আনার জন্য। আমার মূল শক্তি জোরের ওপর ইয়র্কার। আমি চাচ্ছি, বোলিংয়ে আরো অতিরিক্ত কিছু যোগ করতে।’ তবে এই সবের জন্য প্রয়োজন একজন নিয়মিত বোলিং কোচ। কিন্তু হিথ স্ট্রিক চলে যাওয়ার পর যদিও এখনও সেই জায়গাতে কেউ আসেনি। তাই বোলিং কোচের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বলেন, ‘আমাদের জন্য বোলিং কোচ খুবই প্রয়োজন। কারণ তার সঙ্গে থাকলে নতুন নতুন অনেক কিছু শেখার থাকে।’




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: