অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১০ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৩ই জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

নিউ ইয়র্কে আলাউদ্দিনের জানাজায় হাজারো মানুষ

Print

অনলাইন ডেস্ক: নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি ইমাম আলাউদ্দিন আখুঞ্জি ও তার সহযোগী তারা উদ্দিনকে হত্যায় পুলিশ অস্কার মোরেল (৩৫) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে। ওই হত্যায় তার বিরুদ্ধে ‘সেকেন্ড-ডিগ্রি’ হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ওদিকে নিউ ইয়র্কের কুইন্সে বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়, বিশেষ করে মুসলিমদের মধ্যে বিরাজ করছে শোক। প্রিয়জন হারানোর বেদনায় মুষড়ে পড়েছেন তারা। নিহত ইমাম আলাউদ্দিনের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটে তারা উদ্দিনের বাড়ি সিলেটে। তাদের মৃত্যুতে সিলেট বিভাগেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সোমবার নিউ ইয়র্কের ব্রæকলিনে নিহতদের জানাজা হয়েছে। তাতে যোগ দেন শোকার্ত কয়েক শ’ মানুষ। অভিযুক্ত অস্কার মোরেলকে পুলিশ আটক করেছে ব্রæকলিন থেকে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। আরো জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে এখনও হত্যার মোটিভ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত করে কিছু বলে নি। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, মোরেলকে শনিবার হত্যার পর পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আটক করে। এ নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, কুইন্স এলাকায় আল ফুরকান জামে মসজিদের ইমাম আলাউদ্দিন ও তার সহযোগী শনিবার জোহরের নামাজ আদায় করে ওজোন পার্কে পায়চারি করছিলেন। এ সময় পেছন থেকে আততায়ী এসে খুব কাছ থেকে তাদের মাথায় গুলি করে। তাদেরকে দ্রæত হাসপাতালে নেয়া হলে তারা মারা যান। এ ঘটনায় শোকে ভেঙে পড়েন স্থানীয় বাংলাদেশি অভিবাসীরা। তারা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন। সংবাদ সম্মেলন হয় আল ফুরকান জামে মসজিদে। তাতে যোগ দেন স্থানীয় বেশকিছু রাজনীতিক। এ হত্যাকে ঠাÐা মাথায় খুন বলে আখ্যায়িত করেন সিটি কম্পট্রোলার স্কট স্ট্রিঙ্গার। নিন্দা জানান বিভিন্ন রাজনীতিক। নিহতের ছেলেসহ সবাই এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। ওদিকে নিহত আলাউদ্দিনের লাশ হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিবার। তারা উদ্দিনের লাশ যুক্তরাষ্ট্রেই দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার ভাই মাশুক উদ্দিন। রয়টার্স লিখেছে, অস্কার মোরেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের কথা ঘোষণার আগে পুলিশ বলেছে, তারা ব্রæকলিনের একজন হিস্প্যানিক যুবককে সন্দেহজনকভাবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। তখন পুলিশ বলেছিল, ওই জিজ্ঞাসাবাদ ও হত্যার সঙ্গে তখনও কোনো যোগসূত্র তারা পায় নি। ওদিকে নিহত দু’বাংলাদেশির জানাজায় উপস্থিত জনতার ভেতর থেকে এ হত্যাকে ‘হেট ক্রাইম’ বা ঘৃণা-বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে তা তদন্তের জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহŸান জানানো হয়। একের পর এক বক্তা এ নিয়ে তাদের ক্ষোভ ঝাড়েন। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান মসজিদগুলোকে রক্ষার জন্য। ওজোন পার্কে যেখানে মুসলিমরা বসবাস করেন সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহŸান জানানো হয়। আল ফুরকান মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা বদরুল খান শোকার্ত কণ্ঠে সমবেত জনতার মাঝে চিৎকার করে বলেন, আমরা এ হত্যার সুবিচার চাই। সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত সবাই ‘আমরা সুবিচার চাই’ সেøাগান তোলেন। মেয়র বিল দে বøাসিও এতে বক্তব্য রাখেন। তিনি প্রতিশ্রæতি দেন, ওই এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হবে, যদিও এ হত্যার মোটিভ স্পষ্ট নয়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: