অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪২ হিজরী

নিজের তৈরি প্লেন উড়ালো মাগুরার কিশোর হিরণ

Print

অনলাইন ডেস্ক : নিজের তৈরি প্লেন ওড়াল মাগুরার কিশোর হিরণ

কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রযুক্তিজ্ঞান ছাড়াই উদ্বাবনী শক্তি দিয়ে নিজের তৈরি খেলনা প্লেন শূন্যে উড়িয়ে অবাক করে দিয়েছে মাগুরার প্রত্যন্ত গ্রামের কিশোর মোহাম্মদ হিরণ। শুধু প্লেন নয়, হিরণ দ্রুতগতির স্পিডবোট তৈরি করে পানিতে চালাতে সক্ষম হয়েছে।

১৮ বছর বয়সী হিরণ বর্তমানে স্থানীয় বিনোদপুর বাজারে ‘এনামুল মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার’-এর একজন বেতনভুক্ত কর্মচারী। তার মাসিক বেতন ৪ হাজার টাকা। তবে কাজের ফাঁকে মোবাইল ও ইউটিউবে বিভিন্ন দেশের বিমান তৈরির ডকুমেন্টারি দেখে মনে স্বপ্ন বুনতে থাকে নিজে একটি প্লেন তৈরি করার। সেই থেকেই দুই বছর চেষ্টা চালিয়ে সম্প্রতি হিরণ তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে। সে তৈরি করেছে ৪২ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য ও ২৯ ইঞ্চি প্রস্থের দুটো প্লেন। খেলনা প্লেন হলেও এগুলো আকাশে উড়তে সক্ষম। দ্রুতগতিসম্পন্ন প্লেন দুটো ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে এক কিলোমিটার প্রদক্ষিণ করতে পারে। এ ছাড়া সে দুটো স্পিড বোট তৈরি করেছে, যা পানিতে দ্রুতগতিতে চলতে পারে। এসব সে নিয়ন্ত্রণ করে রিমোট দিয়ে। পারিবারিকভাবে জানা গেছে, মেধাবী হিরণ মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুরের মোল্লাপাড়া এলাকার অসহায় দরিদ্র পরিবারের সন্তান। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াকালে ২০১৩ সালে দিনমজুর বাবা আবুল খায়ের মারা যান। মা তাসলিমা বেগম ও দুই ভাইয়ের অভাবী সংসারের হাল ধরতে আর লেখাপড়া করতে পারেনি হিরণ। দুই ভাইয়ের মধ্যে হিরণ ছোট। সংসারের চাহিদা মেটাতে অল্প বয়সেই কাজে যোগ দিতে হয়েছে তাকে। পরিবারের খাবার জোগাতে ভ্যান চালানোসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয়েছে। তার বড় ভাই রনি মোল্লা এসএসসি পাস করে ঢাকায় একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে কাজ করছেন। উদ্ভাবক হিরণ জানান, ছোটবেলা থেকেই তার প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ ছিল। বিভিন্ন সময় টিভি ও ইউটিউবে প্লেন তৈরির ডকুমেন্টারি দেখে তার এর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। মোবাইলের দোকানে কাজ করার ফাঁকে টাকা জমিয়ে পার্টস ক্রয় করে বাড়িতে বসে কাজ শুরু করে সে। অভাবী সংসারের কারণে পরিবারের সদস্যরা তাকে নিরুৎসাহিত করেন। কিন্তু অদম্য প্রত্যয়ী হিরণের কাজ থেমে থাকেনি। প্রথম পর্যায়ে নিজের তৈরি দুটো প্লেনই ওড়াতে গিয়ে ব্যর্থ হয় সে। পরে দুই বছরের চেষ্টায় সম্প্রতি সে তার প্লেন আকাশে ওড়াতে সক্ষম হয়েছে। সার্কিট, ব্যাটারি ও রিমোট কন্ট্রোল রিসিভার এবং ককশিট ব্যবহার করেছে হিরণ। খেলনা হিসেবে তৈরি প্লেনকে সে জেট ফাইটার বিমান আখ্যা দিয়েছে। রিমোট কন্ট্রোলার দিয়ে সে প্লেনের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। একটানা ২০ মিনিট আকাশে উড়তে পারে তার বিমান। ব্যাটারির চার্জ কমে গেলে ২ মিনিট আগে থেকে সংকেত দেয়। ফলে প্লেনকে হিরণ নামিয়ে আনতে পারে। হিরণ জানায়, খেলনা হিসেবে এলাকায় বিক্রির জন্য তৈরি করলেও ব্যয়ভার বেশি হওয়ায় এটা সে বিক্রি করতে পারেনি। একটি প্লেন তৈরি করতে আট থেকে ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়, যা হিরণের পক্ষে খরচ করা সম্ভব নয়। তাই যদি ভালো কোনো পৃষ্ঠপোষকতা পায়, তাহলে হিরণ এটাকে বাণিজ্যিভাবে বাজারজাত করতে পারবে বলে ধারণা সচেতন মহলের। হিরণের বন্ধু মোস্তাইম জানায়, হিরণ খুব মেধাবী ছেলে। স্কুলে পড়ালেখায় সে খুব ভালো ছিল। সে যদি সরকারি বা বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সহায়তা পায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও অনেক কিছু তৈরি করতে পারবে। স্থানীয় বিনোদপুর বাজারে এনামুল মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারের মালিক এনামুল হোসেন জানান, হিরণ অত্যন্ত মনোযোগী ও সৎ ছেলে। তার মধ্যে উদ্ভাবনীশক্তি রয়েছে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে আরও অনেক দূর যেতে পারবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: