অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রবিউস-সানি, ১৪৪২ হিজরী

‘নিরপেক্ষ থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করুন’

Print

স্টাফ রিপোর্টার : নীতিহীন সাংবাদিকতা বর্জন করে নিরপেক্ষ এবং দায়িত্বশীল থেকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষের কল্যাণে সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, মানুষকে বিভ্রান্ত করে হলুদ সাংবাদিকতা করা পরিহার করতে হবে। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির রজতজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে সাপ্তাহিক মিল্লাত এবং ইত্তেহাদ পত্রিকায় এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দৈনিক ইত্তেফাকে সাংবাদিকতা করেন এবং নতুন দিন নামে আওয়ামী লীগের জন্য নিজেও একটি পত্রিকা বের করেন। বঙ্গবন্ধু সাপ্তাহিক বাংলার বাণীও বের করেন উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, সাংবাদিকতার সঙ্গে তার (বঙ্গবন্ধু) সবসময় একটা সম্পর্ক ছিল। সেদিক থেকে আমি দাবি করতে পারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের সন্তান হিসেবে আমি নিজেও সাংবাদিক পরিবারেরই একজন সদস্য। এ সময় সাংবাদিক সমাজের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের বলবো আপনারা দায়িত্বশীলতা নিয়ে, দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে কাজ করবেন। কারণ, এই রিপোর্টগুলো অনেক সহযোগিতা করে। বিভিন্ন পত্রিকায় অনেক সময় অনেক ঘটনা আসে সেসব রিপোর্ট পড়ে সঙ্গে সঙ্গে আমরা অনেক অসহায় মানুষের পাশে যেমন দাঁড়াই, আবার অন্যায় ঘটনা ঘটলে তার প্রতিকারও করতে পারি। অনেক দোষীকে শাস্তি দিতে পারি এবং দিয়ে থাকি। তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, অনেক সময় আপনারা অনেক ঝুঁকি নিয়ে রিপোর্ট করেন সেজন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

জাতির পিতার ভাষণের একটি কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সাংবাদিকতায় নিরপেক্ষতা চাই, বাস্তবমুখিতা চাই এবং দেশ জাতির মঙ্গলে সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকা দেখতে চাই। সংবাদপত্র হচ্ছে সমাজের দর্পণ। তাই সমাজের দর্পণ যেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সাংবাদিকদের ভেতর মানবতাবোধ থাকতে হবে। অতীতের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সময় আমাদের দেশে ছিল যতই দুর্নীতি হোক যতই অন্যায় হোক সেগুলোকে ধামাচাপা দেয়া হতো। আর সমস্যাগুলো-ঐ যে কথায় বলে যে-কার্পেটের তলে লুকিয়ে রাখা। আমাদের সরকারে কিন্তু আমরা তা করছি না।

শেখ হাসিনা বলেন, অন্যায় যা হচ্ছে, যেখানে যা রিপোর্ট হচ্ছে আমরা তার খবর পাচ্ছি। কোথাও দুর্নীতি অথবা অন্যায় হলে আমরা চিন্তা করি না, যে এতে সরকার দলের বদনাম হবে। আমরা চিন্তা করি, এখানে অন্যায় হয়েছে এর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

অনেকেই বলে আওয়ামী সরকার দুর্নীতি করছে, মূল ঘটনাটি আসলে তা নয়। কারণ দুর্নীতির বীজ বপণ করে গেছে ’৭৫ এর পর অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী সরকারগুলো। সরকার প্রধান বলেন, প্রথমে জিয়াউর রহমান, এরপর এরশাদ এরপর খালেদা জিয়া। তারা দুর্নীতিকে কেবল প্রশ্রয়ই দেয়নি বরং নিজেরাও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং দুর্নীতিকে লালন-পালনই করে গেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর আমরা কিন্তু সেটা করছি না।

আওয়ামী লীগ যেখানেই দুর্নীতির প্রমাণ পাচ্ছে, সেখানেই প্রশাসনের সাহায্যে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সে দলের যত বড় কর্মী বা নেতা হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। হ্যাঁ, তাতে অবশ্য আমাদের বিরোধীদের বলার বা লেখার সুযোগ হচ্ছে যে-আওয়ামী লীগ দুর্নীতি করছে। কিন্তু এই কথাটা কেউ চিন্তা করছে না, আওয়ামী লীগ দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। সে যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি দেশের মানুষের জন্য। আমাদের স্বপ্ন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার আদলে বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। সে স্বপ্ন লালন করেই রাজনীতি করি দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য। এছাড়া আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো বিশ্ব করোনা পরিস্থিতির কারণে নাজেহাল। সমগ্র বিশ্বই করোনার কারণে একটি দুর্যোগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে বিশ্বব্যাপী চলা এই দুর্যোগের প্রকোপ থেকে আমার দেশের মানুষ রক্ষা পায়, একইসাথে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও আমরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছি। একদিকে করোনা, অপরদিকে ঘূর্ণিঝড়-বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। সব মিলিয়েই বাংলাদেশকে আমরা এগিয়ে নিচ্ছি। তবে সাধারণ মানুষদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: