অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৩ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২০শে সফর, ১৪৪৩ হিজরী

নোটিশে কর্ণপাত না করায় ভাঙা পড়লো এ কে আজাদের বাড়ি

Print

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর অনুমোদিত নকশা ছাড়া হা-মিম গ্রুপের মালিক এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদের বাড়ি নির্মাণ করায় তা ভেঙে দিয়েছে রাজউক।

মঙ্গলবার রাজউকের পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খন্দকার অলিউর রহমানের নেতৃত্বে গুলশান ২-এর ৮৬ নম্বর সড়কের ১ নম্বর বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়। বাড়িটি ভাঙার আগে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও বিভিন্ন সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বাড়ির বারান্দা ভাঙার সময় মালামাল বের করার জন্য কিছুক্ষণ অভিযান বন্ধ রাখলে মালামাল খোলা জায়গায় রাখা হয়। পরে ১ বিঘা ৯ কাঠা ১৩ ছটাক জমির ওপর প্রায় দেড় কাঠা জায়গা নিয়ে তৈরি ওই দোতলা বাড়ির পার্কিং শেড, নিচতলার ওয়েটিং রুম, দোতলার বেড রুম এবং ড্রইং রুম ভেঙে ফেলা হয়।

বাড়ি ভাঙার ব্যাপারে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিউর রহমান ফার্স্ট নিউজকে বলেন, রাজউকের অনুমোদিত নক্শা ছাড়াই পুরো বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছে। এজন্য অথোরাইজ অফিসার নক্শা চেয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ির মালিক তা দেখাতে ব্যর্থ হয়। এমনকি বাড়িটি ভাঙার আগে রাজউকের নক্শাও খোঁজা হয়েছিল কিন্তু পাওয়া যায়নি।

রাজউকের এ কর্মকর্তা বলেন, অভিযানকারী দলকে আজাদের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কাঠামোগত নকশা দেখানো হলেও সেটি রাজউকের অনুমোদিত নয়। অনুমোদিত নক্শা ছাড়াই বাড়িটি নির্মাণ করা হলেও মালিক রাজউক থেকে ২ তলার অনুমোদন নিতে পারতেন কিন্তু সেটিও করেননি। রাজউকের অথোরাইজ অফিসার ভবনের নক্শা দেখতে গত সপ্তায় ওই বাড়িতে গিয়েছিল কিন্তু নক্শা দেখাতে পারেননি।

উচ্ছেদ অভিযানের আগে বাড়ির মালিককে নোটিশও দেওয়া হয়। কিন্তু বাড়ির মালিক রাজউকের নোটিশ আমলে নেনি। তাই নিয়মিত অভিযান হিসেবে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ওই বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখানে বাড়ির মালিক কে তা দেখার বিষয় না।

অবশ্য বাড়ি ভাঙার কাজ অসমাপ্ত রেখেই বিকাল ৪টায় অভিযান স্থগিত রেখে ওই বাড়ি ছাড়েন রাজউক কর্মীরা। সেসময়ে অলিউর রহমান বলেন, তাদের কার্যক্রম মঙ্গলবারের মতো স্থগিত করা হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বেলা ফুরিয়ে আসার কথা বলেন।

অভিযান চলাকালে এ কে আজাদ এসে রাজউক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে রাজউকের কর্মীরা চলে যাওয়ার পর এ কে আজাদের শ্যালক শোয়েবুল ইসলাম ওই বাড়ির সামনে সাংবাদিকদের বলেন, একটি ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছিল। রাজউক কর্মকর্তারা যে নথি চেয়েছিলেন, তা দেখানোর পর তারা চলে গেছেন। তবে রাজউক কর্মকর্তা অলিউর রহমান বলেন, আমরা আবার কবে বাড়ি ভাঙার কাজ শুরু করবো আপনারা (সাংবাদিক) জানতে পারবেন। বাড়ির মালিক কে তা আপনারা জানেন…। মালিক বিষয় নয়, আমরা দেখি যে ভবন রাজউকের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী হয়েছে কি হয়নি।

রাজউকের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাড়িটি এক বিঘার চাইতে কিছু বেশি জমির ওপর ১৯৬৪ সালে নির্মিত। একসময় এখানে স্কুল ছিল। এ কে আজাদ ১০-১২ বছর আগে বাড়িটি কেনেন বলে জানা গেছে। কিন্তু কেনার পরও তিনি নিজের নামে রেকর্ড করতে পারেননি। রাজধানীতে বাড়ি করতে হলে রাজউক থেকে নকশা অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়। কিন্তু বহু বাড়ির মালিকই এটি করেন না বলে তথ্য আছে। আর এদের মধ্যে প্রভাবশালীরাও রয়েছেন। মাঝেমধ্যে রাজউক অভিযান চালিয়ে কিছু বাড়ি বা বাড়ির অংশবিশেষ ভেঙেছে।

রাজউকের ভ‚মি শাখার কর্মকর্তারা জানায়, গুলশানের ওই প্লট ১৯৬০ সালে মো. ইউনূস নামে এক ব্যক্তিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০০৬ সালে হস্তান্তর সূত্রে মালিক হন এ কে আজাদ। তার আগে ওই প্লটের মালিকানা ছিল একটি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের হাতে। তখন ওই দোতলা দালানে একটি স্কুল ছিল।

অভিযান চলাকালে ওই বাড়ি থেকে ব্যাগ ও বিভিন্ন সামগ্রী হাতে বেরিয়ে যেতে দেখা যায় কয়েকজনকে। বাড়ির সামনের খোলা জায়গায় বিভিন্ন আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র রাখা হয়।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: