অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

পরিকল্পনা স্বচ্ছ এবং সুদূরপ্রসারী করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Print

অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতের বিষয়টি মাথায় রেখে পরিকল্পনা প্রণয়ন আরো স্বচ্ছ এবং সুদূরপ্রসারী করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। বলেছেন, আমাদের কিছু মানসিকতা এমন আছে যে, তাৎক্ষণিকতার বিষয়টাই শুধু চিন্তা করি। আমাদের এই চিন্তাটাকে স্বচ্ছ এবং সুদূরপ্রসারী করতে হবে। তিনি বলেন, আমরা যখনই কোনো পরিকল্পনা নেবো তখন এটা মাথায় রাখতে হবে যে, আজ থেকে ২০ বছর পর কতটা উন্নতি হতে পারে। কত জনসংখ্যা বাড়বে, কত মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাÐ বাড়বে, কি হতে পারে। সে বিষয়টা মাথায় রেখেই আমাদের পরিকল্পনা নেয়া উচিত বলে মনে করি। প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে তার কার্যালয়ে নবগঠিত ময়মনসিংহ বিভাগের উন্নয়ন পরিকল্পনা সংক্রান্ত সভায় এ কথা বলেন। ইতিমধ্যে ঢাকা বিভাগকে ভেঙে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলা নিয়ে দেশের অষ্টম বিভাগ ময়মনসিংহ গঠন করা হয়। ঢাকা বিভাগ প্রতিষ্ঠার সময় থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চল ঢাকা বিভাগের অংশ ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ভৌগোলিক অবস্থানটা কোথায় সেটা মাথায় রেখে এবং জলাধার নির্মাণের বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের স্থাপনা নির্মাণ করতে হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতেও জলাধার নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। এ সময় আধুনিক ও পরিকল্পিত ময়মনসিংহ শহর গড়ে তোলার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ময়মনসিংহ শহর একটা গুরুত্বপূর্ণ শহর ছিলো। জায়গা পছন্দ করে দিয়েছি। আধুনিক, সুন্দর একটা শহর গড়ে উঠুক। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিভাগ বিশাল। এখানে ১৭টি জেলা। ১৭টি জেলায় কাজ করা অত্যন্ত কঠিন। সেবাটা নিশ্চিত করতে আমরা প্রশাসনিক কর্মকাÐকে ছোট ছোট করে ভাগ করে দেবো। যাতে সেবাটা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে। তৃণমূলে সেবা পৌঁছাতে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোনো একটা কিছু হলেই ঢাকা ছুটে আসতে হবে। এভাবে তো মানুষের সেবাটা নিশ্চিত করা যায় না। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি। সবার কাছে সেবা পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ একান্তভাবে প্রয়োজন। ময়মনসিংহ বিভাগটা যখন করা হচ্ছে তখন ঠিক করলাম ব্রহ্মপুত্র নদীর ওপারে সেটা করে দেব। কারণ শহর তো বাড়তে থাকে, সেখানে জায়গা পাওয়া যাবে আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের, সেখানে আধুনিক দৃষ্টি নন্দন শহর গড়ে তুলতে পারি। আধুনিক স্থাপনা নির্মাণ এবং নগরোন্নয়ন শহরের বাইরেই করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও করা হয়েছিল কিন্তু ঢাকার বাইরে। জাতীয় তিন নেতার সমাধির সামনে ছিল ঢাকার প্রবেশ দ্বার ‘ঢাকা গেট’। সেই ঢাকা গেটের নজির হিসেবে পুরনো স্তম্ভ এখনও রয়েছে। গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছিল মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল। অথচ এখন সেখান থেকেও অত্যাধুনিক শহর আরো সামনে এগিয়ে গেছে। রাজধানীর সব খালগুলো দখল হয়ে যাওয়ায় আজ নগরবাসীর নানা দুর্ভোগ হচ্ছে। শহরের তাপমাত্রা বেড়ে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেগুনবাগিচার খালটির ওপর বক্স কালভার্ট করে খালটিকে শেষ করে দেয়া হলো, মৎস্যভবনের পাশের রাস্তাটি করা হলো। শান্তিনগর খালটিও বন্ধ করে দেয়া হলো। মতিঝিল, কেউ আর সেই ঝিল দেখেনি। কিন্তু আমরা দেখেছি, সেখানে নৌকায়ও চড়েছি। তিনি বলেন, সেখানকার বিশাল ঝিলটা আইয়ুব খান সরকার ক্ষমতায় এসে বন্ধ করে দিলেন। শেখ হাসিনা এ সময় বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: