অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১২ই সফর, ১৪৪৩ হিজরী

পাকিস্তানের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের সংবাদ উপস্থাপিকা

Print

অনলাইন ডেস্ক : সবাই তার দিকে আড়চোখে তাকাতেন। আড়ালে বা সামনে বাজে মন্তব্যও করতেন। চাল-চলন, কথাবার্তা নিয়ে হাসিঠাট্টা করতেন। এক কথায় তিনি ছিলেন অন্যদের কাছে হাসির পাত্র। কিন্তু নিজের পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে ইতিহাস গড়লেন তিনি। পাকিস্তানের প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের সংবাদ উপস্থাপিকা হিসেবে নিজের সফল যাত্রা শুরু করলেন মারভিয়া মালিক (২১)। এখানেই সব প্রাপ্তি নয় বরং তাকে আরও অনেক দূর যেতে হবে বলেই মনে করেন এই সংবাদ উপস্থাপিকা।
বিবিসি জানায়, পাকিস্তানের বেসরকারি টিভি চ্যানেল কোহিনুর নিউজে গত শনিবার প্রথম তিনি সংবাদ উপস্থাপনা করেন। তারপর থেকেই আচমকা বদলে যেতে শুরু করে চারপাশ। অনেকেই আগ্রহ নিয়ে তার উপস্থাপনা দেখেছেন। অবশ্য মাত্র একদিন আগেই পাকিস্তান ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিলের এক শো’তে ক্যাটওয়াক করেন মারভিয়া।
তিনি জানান, তৃতীয় লিঙ্গের হওয়ায় পরিবারের কেউই তাকে কোনোদিন মেনে নিতে পারেননি। যখন তিনি দশম শ্রেণিতে পড়েন তখন তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। অনেক চেষ্টার পর ছোট একটা সেলুনে কাজ পান। তা দিয়েই খুব কষ্টে দিন কাটান। পরে টাকা জমিয়ে কলেজে ভর্তি হন। নিজের চেষ্টা ও অদম্য মনোবলেই নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন মারভিয়া।
তিনি পাকিস্তান ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল ফ্যাশন শোতে অংশ নেওয়া প্রথম তৃতীয় লিঙ্গের মডেল। ২০০৯ সালে পাকিস্তানের শীর্ষ আদালত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের পরিচয়পত্র দেওয়ার ঘোষণা দেয়। ২০১৭ সালে তৃতীয় লিঙ্গ ক্যাটেগরিতে প্রথম পাসপোর্ট ইস্যু হয় পাকিস্তানে। গত বছর থেকে আদমশুমারিতেও জায়গা করে নিয়েছেন তারা।
চলতি মাসের প্রথমেই তৃতীয় লিঙ্গের লোকজনের সুরক্ষায় সিনেটে একটি বিল আনা হয়। এই বিল পাশ হলে আর কোনও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষকে কোনোরকম হেনস্তা শিকার হতে হবে না।
পাকিস্তান সরকারের এমন পদক্ষেপে বেশ খুশি মারভিয়া। সংবাদ উপস্থাপিকা হিসেবে শুভেচ্ছাবার্তা পেয়ে তার মনে হচ্ছে এই মানুষগুলোকে সমাজের মূল¯্রােতে ফিরিয়ে আনার সরকারি চেষ্টা অনেকটাই সফল। কিন্তু বিল এনে আইন করে পুরো সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলা সম্ভব নয় বলেও জানান মারভিয়া।
তিনি বলেন, পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে এই পরিবর্তন। প্রত্যেক বাবা-মাকে বোঝাতে হবে, সন্তান যদি তৃতীয় লিঙ্গের হয় তাতে লজ্জার কিছু নেই। কারণ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বাড়ির লোকেরাই এই মানুষগুলোকে পরিত্যাগ করে। তারপর তাদের ভিক্ষাবৃত্তি, নাচ দেখানো বা চাঁদাবাজি করে অর্থ উপার্জন করতে হয়।
মারভিয়া মালিক বলেন, সংবাদ উপস্থাপিকা হিসেবে যোগ দেয়ার পর তিনি অনেক ইতিবাচক সাড়া পেয়েছেন। অনেকেই তাকে ফোনকল এবং ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে স্বাগত জানিয়েছেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: