অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ২৫শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৫শে রমযান, ১৪৪২ হিজরী

পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে পাওয়া গেল ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা

Print

অনলাইন ডেস্ক : দেশের কিশোরগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার সেখান থেকে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪৫ টাকা পাওয়া গেছে। যা ওই দানবাক্স থেকে পাওয়া অর্থের হিসেবে এ যাবতকালে সর্বোচ্চ। শনিবার সকাল ১০টায় এই দানবাক্সটি খোলা হয়। এরপরই বিকেল পর্যন্ত চলে টাকা গণনার কাজ।

 

এবারের সিন্দুকে নগদ অর্থ ছাড়াও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার এবং বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে, যা আগের তুলনায় অনেক বেশি। সাধারণত পাগলা মসজিদের দানবাক্সটি প্রতি ৩ মাস অন্তর অন্তর খোলা হয়, তবে এবার করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ ৫ মাস পর সিন্দুকটি খোলা হয়েছে। সিন্দুকটি শেষ গত বছরের ২২শে আগস্ট খোলা হয়েছিল। তখন সর্বোচ্চ এক কোটি ৭৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭১ টাকা পাওয়া গিয়েছিল।

 

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দান সিন্দুক খোলা হয়। দান সিন্দুক থেকে টাকা খুলে প্রথমে বস্তায় ভরা হয়। এবার সবচেয়ে বেশি ১৪ বস্তা টাকা হয়েছে। এরপর শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনা। টাকা গণনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মসজিদ মাদরাসার ৬০জন ছাত্রশিক্ষক ছাড়াও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তাগণ অংশ নেন।

 

টাকা গণনার এই এলাহী কাণ্ড নিজ চোখে অবলোকন করতে শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ মসজিদে ছুটে যান। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ মসজিদটির দানসিন্দুকগুলোতে নগদ টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। এছাড়া গবাদিপশু, হাঁস-মুরগীসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্রও মসজিদটিতে দান করা হয়। কথিত আছে, খাস নিয়তে এই মসজিদে দান করলে মনোবাঞ্চা পূর্ণ হয়। সেজন্য দূর-দূরান্ত থেকেও অসংখ্য মানুষ এখানে দান করে থাকেন।

 

গত বছর কোভিড-১৯ মহামারির কারণে দেশব্যাপী অঘোষিত লকডাউন জারি করা হয়। এমন পরিস্থিতিতেও মসজিদটিতে সাধারণ মানুষ দান করা অব্যাহত রাখেন।

 

টাকা গণনার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা কিশোরগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ সাংবাদিকদের বলেন, সিন্দুক ভেঙে প্রাপ্ত টাকা গণনা শেষে রূপালী ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রাগুলো ব্যাংক থেকে টাকায় রূপান্তর করে দেওয়া হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাগলা মসজিদকে আধুনিক ইসলামিক স্থাপত্য হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবহার করা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে জেলার বিশিষ্টজনদের সাথে আলোচনা পূর্বক এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: