অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জিলহজ্জ, ১৪৪২ হিজরী

পায়রা বন্দরের যাত্রা শুরু

Print

অনলাইন ডেস্ক: আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দরের। পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার রামনবাদ চ্যানেলে প্রতিষ্ঠিত এ বন্দরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধন উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আরো কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে রয়েছে যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত আট লেনের সড়ক উদ্বোধন, ছয়টি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়িতকরণ ঘোষণা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের উদ্বোধন।
এদিকে পায়রা বন্দরের বহিঃনোঙ্গরে চীনের জাহাজ এমভি ফরচুন বার্ড থেকে পদ্মাসেতুর জন্য আনা পাথর খালাস কাজের সূচনা করে বন্দরের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, এই বন্দর চালু হওয়ায় এই অঞ্চলের মানুষগুলোর ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন হবে। এই বন্দরকে ঘিরেই এখানে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সমগ্র অঞ্চলটিই অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। চীনের জাহাজ এমভি ফরচুন বার্ড আমাদের জন্য সৌভাগ্য নিয়ে এসেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পায়রা বন্দর কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পায়রা বন্দর প্রান্ত থেকে বক্তৃতা করেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ। পায়রা বন্দর প্রান্তে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, নূরে আলম চৌধুরী এমপি, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত অভিব্যক্তি ব্যক্ত করেন-স্থানীয় বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমাযুন কবির। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায় বন্দরের নানা বিষয় তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময় দক্ষিণাঞ্চল সফর করার সময় ওই অঞ্চলের সম্ভাবনার বিষয়টি নজরে আসার পর পায়রা বন্দর তিনি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন। পায়রা নদী থেকেই পায়রা বন্দরের নামটা আমি দিয়েছি। যদিও সমুদ্র বন্দরটি কলাপাড়া উপজেলার রামনবাদ চ্যানেলে অবস্থিত, পায়রা নামটাও খুব সুন্দর। পায়রা শান্তির প্রতীক। তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সবসময়ই খুব অবহেলিত ছিল। এই বন্দরটি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে ঝড়-বন্যা-জলোচ্ছ¡াস সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলোর ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বন্দরকে মূলত গভীর সমুদ্র বন্দর করা হবে। একে ঘিরে শিপ বিল্ডিং ও শিপ রিকনস্ট্রাকশন শিল্প গড়ে তোলা হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড), বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং বরিশাল পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে নৌবাহিনীর ঘাঁটি ও সেনানিবাস স্থাপনের কথাও জানান তিনি। এই সমুদ্র বন্দরটি ব্যবহারে প্রতিবেশী দেশ ভারতের আগ্রহের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তা থেকে বাংলাদেশও উপকৃত হবে। নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে উত্তরে আসামের করিমগঞ্জ পর্যন্ত নৌপরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। যেটা ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে শুধু বাংলাদেশ না, আমাদের প্রতিবেশীর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য এবং উন্নয়নের নবদিগন্ত উন্মোচন করবে। ২০১৩ সালের ১৮ই নভেম্বর পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নে রামনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে ১৬ একর জমির উপর পায়রা সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এক হাজার ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে এই সমুদ্র বন্দর নির্মাণের পুরো কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে জাহাজ ভেড়ার অবকাঠামো নির্মিত হয়ে যাওয়ায় আগেই ভিড়তে শুরু করেছে জাহাজ।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রথম ৮ লেন মহাসড়ক যাত্রাবাড়ী-কাঁচপুর মহাসড়ক উদ্বোধন এবং যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে (ইকুরিয়া-বাবুবাজার লিংকসহ) মাওয়া এবং পাঁচ্চর-ভাংগা মহাসড়ক উভয়দিকে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস লেনসহ ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প (পদ্মাসেতু লিংক রোড)-এর নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন ছয়টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্পন্নের এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন’ (কম্পিউটার এবং ভাষা শিক্ষণ ল্যাব) শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মুহাম্মদ শফিউল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিব মনোয়ার ইসলাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায় এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এমএএন সিদ্দিক স্বাগত বক্তৃতা করেন।
৬টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎকে বহুমুখীকরণের মাধ্যমে দেশকে শতভাগ বিদ্যুতায়িত করতে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিতে তার সরকার বেশকিছু স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করায় এর সুফল ইতিমধ্যে জনগণ পেতে শুরু করেছে। আমাদের এই পদক্ষেপের ফলে দেশের ৭৮ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা এখন ১৫ হাজার মেগাওয়াট। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ৪৬৫টি উপজেলাকেই খুব শিগগিরই শতভাগ বিদ্যুৎ দেয়া হবে। আমরা ৭৮ শতাংশ মানুষকে বিদ্যুৎ দিতে পারছি। অচিরেই শতভাগ মানুষকে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করে দেবো’। এসময় বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হয়ে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর আহ্বানও জানান তিনি। বিদ্যুতায়িত ৬টি উপজেলা হচ্ছে- গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, নারায়ণগঞ্জ বন্দর, নরসিংদীর পলাশ, চট্টগ্রামের বোয়ালখালি, কুমিল্লা সদর এবং চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভোলাহাট।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: