অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা কার্ডে প্রতিবন্ধী আশা’র আঁকা ছবি

Print

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: এবারের বাংলা নববর্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা কার্ডে একটি শিশুর আঁকা ছবি স্থান পেয়েছে। শিশুর নাম জিন্নাতুন নাহার আশা। ১৪ বছর বয়সী আশা বাকশক্তিহীন। কিন্তু ভিন্নভাবে রং-তুলির আঁচড়ে সে তার সক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছে। আশা’র মনের মাধুরী দিয়ে আঁকা সুজলা-সুফলা শস্য-শ্যামলা নদীমাতৃক বাংলার ছবিটি দৃষ্টিকাড়ে প্রধানমন্ত্রীর। জন্মগতভাবেই অটিস্টিক ও বাক-প্রতিবন্ধী আশা তেমন একটা পরিচিত নয়। কিন্তু তার আঁকা ছবি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাক্ষর যুক্ত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে দেশ-দেশান্তরে। আশার আঁকা এই ছবিটিই এবার শোভা পাবে প্রধানমন্ত্রীর নববর্ষের শুভেচ্ছা কার্ডে। সৃজনশীলতায় বিকশিত শিশু আশা ঠাকুরগাঁওয়ের ফ্রিড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতন থেকে এবার পিএসসি পরীক্ষার্থী। বাবা বিএসডিসির একজন নি¤œপদস্থ কর্মচারী। পৌর এলাকার জলেশ্বলী তলায় সরকারি খাসজমির ওপর জীর্ণ কুটিরে বসবাস তাদের। মা-বাবা, এক ভাই নিয়ে কোনরকম ধুঁকে ধুঁকে চলছে তাদের সংসার। আশার এ সাফল্যে উচ্ছসিত তার স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকরা। প্রতিবন্ধী শিশুর কর্মের মূল্যায়নে প্রতিবন্ধীদের মর্যাদাও বেড়ে গেছে বলে মনে করেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-অভিভাবকরা। অটিস্টিক শিশু আশার লেখাপড়ার গতি বৃদ্ধি ও সমাজের মূলধারায় আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেখিয়েছেন মমতাময়ী আচরণ। তার নিজস্ব ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে জিন্নাতুন নাহার আশাকে দিয়েছেন এক লাখ টাকার অনুদান। বৃহস্পতিবার ফ্রিড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতন-এর হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস চেকটি ওই শিশুর হাতে তুলে দেন। এ সময় ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. আবু মো. খয়রুল করির, গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন, সমাজসেবার উপ-পরিচালক তারিকুল ইসলাম, প্রেস ক্লাব সভাপতি আবু তোরাব মানিক, ফ্রিড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতনের সভাপতি তাহমিনা আখতার মোল্লা, প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগমসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পরে ফ্রিড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতনের শিশুদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ফ্রিড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতনের প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম জানান, আশা অত্যন্ত প্রতিভাবান ও মেধাবী।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: