অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

প্রধানমন্ত্রী-ওআইসি মহাসচিব বৈঠক

Print

অনলাইন ডেস্ক: জঙ্গি-চরমপন্থিদের প্রোপাগান্ডা মোকাবিলায় ওআইসির ‘ম্যাসেজিং সেন্টার’ কার্যকর ভ‚মিকা রাখবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সফররত সংস্থাটির মহাসচিব আইয়াদ আমিন মাদানি। ঢাকা সফরের প্রথম দিনে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনায় তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। গতকাল বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমদ আলীর সঙ্গে বৈঠকে বিষয়টির বিস্তারিত তুলে ধরেন। বৈঠকে মহাসচিব বলেন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে জঙ্গি-উগ্রপন্থিরা কোরআন হাদিসের মনগড়া ব্যাখ্যা প্রচার করে বিশ্বব্যাপী ঘৃণা ছড়াচ্ছে। তাদের ওই ঘৃণিত প্রোপাগান্ডা ঠেকাতে এবং ইসলামের প্রকৃত বাণী প্রচার করতে ওআইসির ম্যাসেজিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেখানে উগ্রবাদীদের মিথ্যে অপপ্রচার খÐন করা হবে। এটি জঙ্গি ও সহিংস চরমপন্থিদের মোকাবিলায় ঢাকার জন্যও সহায়ক হবে। মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে মহাসচিব উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থা দমনের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। তিনি উগ্রবাদীদের প্রোপাগান্ডা মোকাবিলায় ‘ওআইসি ম্যাসেজিং সেন্টার’ এ বিষয়ে মন্ত্রীকে অবহিত করেছেন। আগামী অক্টোবরে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃত তথ্য পাওয়া এবং বিপথগামীদের প্রোপাগান্ডা মোকাবিলায় ম্যাসেজিং সেন্টারটি ভ‚মিকা রাখবে। মহাসচিব হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার পর মাদানির বাংলাদেশে এটি তৃতীয় সফর। এবারের সফরের বিষয়ে মহাসচিব আইয়াদ আমিন মাদানি বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে সফর করা মহাসচিবের রুটিন কাজের অংশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখানে রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ওআইসির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ওই সদস্য রাষ্ট্রে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মুসলিম উম্মার কল্যাণের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন হয়। শীর্ষ নেতাদের ভাবনা এবং বিভিন্ন সুপারিশ ওআইসি শোনে এবং মতামতও শেয়ার করে জানিয়ে তিনি বলেন, মূলত আগামী অক্টোবরে উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠেয় ওআইসি পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সম্মেলনের বিষয়ে আলোচনা করতে সফরে এসেছি। সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ দমনসহ অন্য বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংকট নিরসনে ওআইসি আলোচনার উদ্যোগ নিতে পারে- শেখ হাসিনা: সন্ত্রাস দমনে আরো কার্যকরী ভূমিকা রাখতে মুসলিম বিশ্বের বিবাদপূর্ণ দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিতে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশনের (ওআইসি) প্রতি আহŸান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাইরের কারো হস্তক্ষেপ ছাড়াই মুসলিম বিশ্বের বিবাদপূর্ণ দলগুলোর সংকট নিরসনে ওআইসি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে গতকাল দুপুরে ওআইসি মহাসচিব আইয়াদ আমিন মাদানি সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের অবহিত করেন। বলেন, মহাসচিবের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী এ অভিমত ব্যক্ত করেন যে ‘বাইরের কোনোরূপ হস্তক্ষেপ ছাড়াই মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো একত্রিত হয়ে তাদের সংকট নিরসনে আলোচনায় বসতে পারে’, ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং ওআইসি মহাসচিব পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও মুসলিম বিশ্বের বিবদমান বিভিন্ন সমস্যাবলি নিয়ে আলোচনা করেন। মানবাধিকারের বিষয়টিও তাঁদের আলোচনায় উঠে এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়ে বলেন, ফিলিস্তিনে ইসরাইলিরা নিরীহ নিরাপরাধ নারী-শিশু হত্যা করলেও অতীতে দেখা গেছে কোন মানবাধিকার সংস্থাই এ নিয়ে কথা বলেনি। ওআইসি মহাসচিবের বাংলাদেশে আগমনকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সমগ্র বিশ্বের জন্যই একটি সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান খুব স্পষ্ট। সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ তা যে রূপেই আসুক না কেন তার বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করেছি। তার নিজের পরিবারও সন্ত্রাসবাদের শিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এরা (সন্ত্রাসীরা) ইসলামের নামে সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষ হত্যা করে প্রকৃতপক্ষে ইসলামেরই বদনাম করছে। তিনি বলেন, ‘এরা মানুষ হত্যার নামে বিচার নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে, যদিও কোরআনে বলা আছে আল্লাহপাকই একমাত্র বিচারক।’ আগে দরিদ্র পরিবার এবং মাদরাসা ছাত্রদের সন্ত্রাসে জড়ানোর প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেলেও আজকাল বেশ অবস্থাপন্ন ঘরের উচ্চশিক্ষিত তরুণ-যুবকরাও এপথে ঝুঁকছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় সন্ত্রাস মোকাবিলায় মাদানি বাংলাদেশসহ ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান। ইহসানুল করিম বলেন, মহাসচিব মাদানি বাংলাদেশের সা¤প্রতিক জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। বর্তমানে বিশ্বে সন্ত্রাসী ঘটনা এবং সাইবার অপরাধ বেড়ে যাবার প্রেক্ষিতে ওআইসি মহাসচিব বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখতে ওআইসি সব সময়ই দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘১৯৯০ সালের পর থেকেই বিশ্বে সন্ত্রাসী ঘটনা এবং সাইবার অপরাধ বৃদ্ধি পেতে থাকে যদিও আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চাই। এ সময় ওআইসি সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাÐে কার্যকর ভূমিকা পালনের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। মাদানি সন্ত্রাসের শেকড় খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, যুবকদের পরকালের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আত্মত্যাগের এই ভুল পথে কারা পরিচালিত করছে তা আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে ওআইসি মহাসচিব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক স্থাপন করে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ের মাধ্যমে তাদের দারিদ্র বিমোচনে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কেও আগ্রহ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, বেলজিয়ামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে ওআইসির পরবর্তী স্থায়ী প্রতিনিধি হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ক‚টনীতিক ইসমত জাহান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: