অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১২ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪২ হিজরী

প্রশ্নফাঁস হলেও বাতিল হচ্ছে না পরীক্ষা

Print

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি বছরের এসসসি ও সমমানের অনুষ্ঠিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও ওই বিষয়গুলো বাতিলের কোনো সিদ্ধান্তে যাচ্ছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসএসসি পরীক্ষা শুরুর পর থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদপ্তরেও চলছে নানান গুঞ্জন। মোট অংশগ্রহণকারী পরীক্ষার্থীর তুলনায় ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পাওয়া পরীক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। ফলে ফাঁস হওয়া পরীক্ষার বিষয়গুলো বাতিলের বিপক্ষে নানা যুক্তি দেখাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আর শিক্ষা বোর্ডকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলেই জানিয়ে দেন বিষটি মন্ত্রণালয় দেখছে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পূর্বে যেসব প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে এবং তার সুবিধা পেয়েছে ১০-১৫ হাজার পরীক্ষার্থী। যেখানে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ২০ লাখের ওপর। ফলে সারাদেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে হওয়া পরীক্ষা বাতিল হলে সকল শিক্ষার্থীই মানষিক চাপের মধ্যে পড়বে। এ প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র বলেও দেখছে মন্ত্রণালয়। আর পরীক্ষা বাতিল হলে ষড়যন্ত্রকারীরাই সফল হবে বলে মনে করেন পরীক্ষা সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে পরীক্ষা বাতিলের চেয়ে পরবর্তীতে প্রশ্নপত্র যাতে ফাঁস না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে মন্ত্রণালয়।
ফাঁস হওয়া বিষয়ের পরীক্ষা বাতিল প্রসঙ্গে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়েছে। আমি জানি না, এটা বড় কোনো ষড়যন্ত্র কিনা। তিনি (শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ) পুরো জাতিকে মূর্খ করে দেবেন। আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সম্বন্ধে কোনো ধারণাই থাকবে না। যাতে করে একটা দেশকে শোষণ করতে সুবিধা হয়। ‘জাতিকে মূর্খ রাখতে পারলে তারা কিছু বুঝবে না। প্রতিবাদ করার জ্ঞানও অর্জন করতে পারবে না। আসলে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই তো পলিটিক্যাল সিস্টেমই বোঝে না।
এ শিক্ষাবিদ নিজের কথা তুলে ধরে বলেন, আমরাও যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়েছি, তখন আমাদের ক্লাসের পর লাইব্রেরিতে যেতে হতো। বই পড়ে নোট নিতে হতো। আর এখন দেখেন ছেলে-মেয়েগুলো রাস্তায় রাস্তায় হই হই করে কেন? ওরাতো পড়ালেখা করে না। এ কারণেই প্রশ্নফাঁসের মহোৎসব চলছে। আর এটা বন্ধ না করে তাতে সহায়তা করছে সরকার।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, প্রশ্নফাঁসচক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রায় ৩০০ টেলিফোন নম্বর, প্রশ্নফাঁস রোধ ও ফাঁস হওয়া বিষয় বাতিল হবে কিনাÑ এর সুপারিশ দিতে গঠিত কমিটির হাতে পৌঁছেছে। এসব নম্বরধারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরীক্ষা আইন ও সাইবার অপরাধের আইনে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানায় এ সূত্র। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির বেশকিছু কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের পরীক্ষা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে এর সাথে যুক্তদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে; আর যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা না ঘটে। মন্ত্রণালয়ের দাবিÑ গত কয়েকদিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে গঠিত কমিটির দফায় দফায় বৈঠকের ফলে প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত সন্দেহে বেশকিছু ব্যক্তি ধরা পড়েছে।
এদিকে প্রশ্নফাঁস মূল্যায়ন কমিটির আহŸায়ক কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর বলেন, আমরা প্রশ্নফাঁসের তথ্য পেয়েছি। এখন পরীক্ষা বাতিল করা হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত নেবেন শিক্ষামন্ত্রী। আমাদের কমিটির কাজ হচ্ছে তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ করা। আমরা সেটিই করবো।
পরীক্ষা শুরুর আগের দিন আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছিলেন, যখনই কোনো প্রশ্নফাঁস হবে, আমরা খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে ওই পরীক্ষা বাতিল ঘোষণা করবো। তবে চলমান এসএসসির ৮টি বিষয়ে পরীক্ষার আগেই সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন আসার প্রমাণ মিললেও এ পর্যন্ত বাতিল হয়নি একটি পরীক্ষাও। উল্টো শিক্ষামন্ত্রীর মুখে এখন ভিন্ন সুর। গেল সপ্তাহে তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ফাঁস হওয়া প্রশ্ন থেকে সুবিধা পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংখ্যা খুবই নগণ্য। তার খেসারত সারাদেশের বিশ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর দেয়ার সুযোগ নেই।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: