অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ৯ই রবিউল-আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরী

পড়শীকে স্টেজ থেকে নামিয়ে দিলো জনতা!

Print

বিনোদন রিপোর্ট: ফের সংবাদ শিরোনাম হলেন পড়শী। তবে এবার তাকে নিয়ে আলোচনা একটু ভিন্ন রকম। কনসার্টে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর প্রায় সময়েই শোনা যায়। এসব ঘটনায় কখনো আয়োজক কখনো বা শিল্পীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়ে থাকেন।

সম্প্রতি এমনই ঘটনার মুখোমুখী হলেন সংগীত তারকা পড়শী। সোমবার, ২২ ফ্রেব্রুয়ারি রাতে নাটোরের বড়াইগ্রামে নব নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলারদের আমন্ত্রণে সেখানকার পৌরসভা মাঠে এক কনসার্টে গাইতে গিয়েছিলেন ক্ষুদে গানরাজ খ্যাত এই কণ্ঠশিল্পী। কিন্তু সেখানে তার ব্যবহার ও গায়কীতে অসন্তুষ্ঠ হয়ে তাকে স্টেজ থেকে নামতে বাধ্য করেছেন স্থানীয় দর্শক-শ্রোতারা।

কনসার্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল সন্ধ্যা ৭টায়। পড়শী বিকেল ৪টায় সেখানে পৌঁছেন। কিন্তু রাত ৮টায় স্টেজে ওঠার কথা থাকলেও ওঠেন রাত ১০টার পর। তাকে স্টেজে দেখেই শ্রোতারা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। কোনো রকমে গান শুরু করলেও দর্শকের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকে।

এক প্রতক্ষদর্শী অভিযোগ করেন, ‌‘পড়শী ‘তোমার চোখে আকাশ আমার’, ‘একা একা লাগে’, ‘খুঁজে খুঁজে’সহ পাঁচটি গান পরিবেশন করেন। কিন্তু অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত শ্রোতারা তাকে নেমে যেতে বলেন। সেইসঙ্গে পড়শীর তাল-সুরের কোনোই মিল ছিল না গানে। ফলে দর্শক-শ্রোতারা আরও ক্ষেপে যায়। পড়শীও তখন উল্টো ক্ষেপে যান। তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন- ‘আমি কী নর্তকী না বাঈজি যে নেচে নেচে আপনাদের মন ভরাব। আমি গান করতে এসেছি। শুনতে ভালো না লাগলে চলে যান’! তখন উপস্থিত দর্শকরা ভীষণ ক্ষেপে যায়। একপর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের সহয়তায় কোনোরকমে পড়শী স্টেজ ছাড়তে বাধ্য হন।’

তিনি আরো বলেন, ‘পড়শী নেমে গেলেও পরিস্থিতি ছিলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বড়াইগ্রাম পৌরসভার মেয়র বারেক সরদার উত্তেজিত দর্শকদের শান্ত করতে না পেরে নিজেই স্থান ত্যাগ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহি অফিসার এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তারা দর্শক-শ্রোতাদের কথা দিতে বাধ্য হন- বড়াইগ্রামে আর কখনো পড়শীকে গান গাইতে আনা হবে না।’

এদিকে নাটোর থেকে আমাদের সংবাদদাতা জানান, পড়শীকে ওই কনসার্টের জন্য দেড় লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ করা হয়। সেই মতেই তিনি বিকেলে এসে পৌঁছান। আয়োজকরা তখন পড়শীকে এক লাখ টাকা পরিশোধ করে বাকি টাকা কনসার্ট শেষে দিবেন বলে জানান। কিন্তু পড়শী তাতে রাজি হচ্ছিলেন না। তিনি গান গাওয়ার আগেই পুরো টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলে প্রায় তিন-চার ঘণ্টা। অন্যদিকে পড়শীর অপেক্ষা করতে করতে উত্তেজিত হয়ে পড়েন উপস্থিত শ্রোতা-দর্শক। অবশেষে মেয়র বারেক সরদার বুঝিয়ে পড়শীকে গান করতে পাঠান। কিন্তু পড়শী মঞ্চে উঠে দায়সারাভাবে গান করতে থাকেন। তার গানে তাল-সুরের কোনো ঠিক ছিলো না। এতে ক্ষেপে যান বিরক্ত শ্রোতারা। অনেকে শিল্পীকে গালাগালিও করেন। তখন পড়শীও মঞ্চে থেকে শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে কটুক্তি করেন। ফলে পুরো কনসার্টে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। একপর্যায়ে মেয়র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলে পড়শীকে স্টেজ থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আর স্থানীয় শিল্পীরা গান গেয়ে কনসার্ট শেষ করেন।’




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: