অনলাইন নিউজপেপার সাইট ঢাকা, ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ২রা জিলক্বদ, ১৪৪২ হিজরী

ফের নেপালের প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রচন্ড

Print

অনলাইন ডেস্ক: নেপালের সাবেক গেরিলা যোদ্ধা ও মাওবাদী নেতা পুষ্প কমল দহল প্রচন্ড ফের দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। গত মাসের শেষেরদিকে কে পি অলি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার পর তিনি নতুন প্রধানমন্ত্রী হলেন। গতকাল সংসদে ৫৭৩ ভোটের মধ্যে ৩৬৩টি ভোট পেলে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রচন্ডের প্রধানমন্ত্রিত্ব নিশ্চিত হয়। এর আগে তিনি ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। খবরে বলা হয়, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র নয় মাসের মাথায় গত ২৪শে জুলাই পদত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী কে পি অলি। নেপালের নতুন সংবিধান নিয়ে দেশটির বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিবদমান অসন্তোষের প্রেক্ষিতেই তিনি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর গতকাল নেপাল সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন পুষ্প কমল দহল। ৫৭৩টি ভোটের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৩৬৩টি ভোট। দীর্ঘদিন ধরে এই গেরিলা যোদ্ধা মাওবাদী আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন। ওই সময় তার বীরত্বের কারণেই তিনি প্রচন্ড নামে সবার কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। পরে ২০০৬ সালে এক শান্তিচুক্তির আওতায় নিজের আন্দোলনকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত করেন প্রচন্ড। ২০০৮ সালে নেপালের জাতীয় নির্বাচনে মাওবাদীরা জয়লাভ করলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে ওই দায়িত্ব নয় মাসের বেশি পালন করতে পারেননি তিনি। এবারে ফের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রচন্ড। সংসদে ভোটের আগেই তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিশ্রæতি দিচ্ছি, আমি দেশের সব মানুষকে একতাবদ্ধ করব।’ ভূমিকম্প পরবর্তী নেপালের পুনর্গঠন ও সংবিধান নিয়ে দেশটির মধ্যেকার মতানৈক্য নিরসন এখন তার সরকারের প্রধান দায়িত্ব। এ প্রসঙ্গে প্রচন্ড বলেন, ‘এই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব রয়েছে আমার ওপর। আমার মনে হয়, আমাকে বিবদমান দলগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করার জন্যই আমাকে প্রার্থী করা হয়েছে।’ উল্লেখ্য, প্রচন্ডের নেতৃত্বাধীন মাওবাদী দল নেপাল সংসদের তৃতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। তার পূর্বসূরি কে পি অলির নেতৃত্বাধীন জোট সরকার থেকে সপ্তাহ তিনেক আগে মাওবাদীরা সমর্থন সরিয়ে নেয়। পরে নেপালের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসের সমর্থনও লাভ করে। এছাড়া নতুন সংবিধান নিয়ে আন্দোলনকারী ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক মাধেসি ফ্রন্টের (ইউডিএমএফ) সমর্থনও লাভ করে প্রচন্ডের নেতৃত্বাধীন মাওবাদীরা। এই সমর্থন নিয়েই দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেন প্রচন্ড।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Time limit is exhausted. Please reload CAPTCHA.

%d bloggers like this: